সংরক্ষিত আসনে সরাসরি নির্বাচন ও সংসদে নারীর শক্তিশালী ভূমিকার দাবি
নির্বাচনে নারীদের অংশগ্রহণ কমে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নারী অধিকারকর্মীরা। তারা বলছেন, রাজনৈতিক দলগুলো খুব কম সংখ্যক নারীকে মনোনয়ন দিয়েছে ও সরাসরি নির্বাচনে জয়ী হওয়া নারীর হারও কম।
আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন কমিটির উদ্যোগে আজ শনিবার রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউতে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের মূল বিষয় ছিল— ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন, সংসদে নারীর প্রতিনিধিত্ব: বাস্তবতা ও প্রত্যাশা’।
প্রতিবাদ কর্মসূচির সমন্বয়ক ও নারীপক্ষের সদস্য তামান্না খান পপি বলেন, বিগত বছরগুলোতে কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া সংসদ নির্বাচনে সরাসরি আসনে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ছিল। কিন্তু গত নির্বাচনে মনোনয়ন ও জয়—দুই ক্ষেত্রেই বড় ধরনের পতন লক্ষ্য করা গেছে।
শক্তি ফাউন্ডেশনের সদস্য ইমামুল হাসান বলেন, সব পুরুষ বুঝুক যে নারীরা তাদের অধিকার পাওয়ার যোগ্য। তারা এখনও আন্দোলন করছেন, কারণ তারা নানাভাবে বঞ্চিত। সমান সুযোগ পেলে তাদের হয়তো আজ রাস্তায় নামতে হতো না।
অনুষ্ঠানে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৩ সালে স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশে এ পর্যন্ত ১৩টি সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নারীরা সংসদে মূলত দুইভাবে প্রবেশ করেন—রাজনৈতিক দলের মাধ্যমে সংরক্ষিত আসনে মনোনীত হয়ে অথবা সাধারণ আসনে সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে।
বিগত নির্বাচনগুলোতে সরাসরি নির্বাচিত নারী সংসদ সদস্যের সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়লেও এবারের চিত্র ভিন্ন। আয়োজকরা জানান, সবশেষ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলো থেকে নারীরা খুব সামান্যই মনোনয়ন পেয়েছেন ও তাদের মধ্যে মাত্র আট শতাংশের কিছু বেশি জয়ী হতে পেরেছেন।
সাইলেন্সের সদস্য লায়লা আরিফা খানম বলেন, সবাই আশা করেছিল এই নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতান্ত্রিক চর্চা ফিরবে এবং রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়বে। নারী সংস্কার কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোকে অন্তত ৫০ শতাংশ আসনে নারী মনোনয়নের সুপারিশ করেছিল, যেখানে নারী আন্দোলনের পক্ষ থেকে দাবি ছিল কমপক্ষে ৩৩ শতাংশ। কিন্তু বাস্তবে নারীরা গড়ে মাত্র ৩ দশমিক ৯৮ শতাংশ মনোনয়ন পেয়েছেন।
নারী অধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরেই দাবি জানিয়ে আসছে যে, সংরক্ষিত আসনের নারী সংসদ সদস্যদের সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে বেছে নেওয়া হোক, রাজনৈতিক দলের মনোনয়নে নয়। কিন্তু গত নির্বাচনেও এই প্রস্তাবের বাস্তবায়ন দেখা যায়নি।
আয়োজকরা বাংলাদেশের জনমিতিক বাস্তবতার প্রতিফলন দাবি করেন, যেখানে দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকই নারী। তারা নারী সংসদ সদস্যদের সংসদীয় কার্যক্রম এবং স্থায়ী কমিটিসহ বিভিন্ন নেতৃত্বমূলক পদে আরও শক্তিশালী ও অর্থবহ অংশগ্রহণের দাবি জানান।
পাশাপাশি সংরক্ষিত আসনের প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে স্বচ্ছ নীতিমালা প্রণয়ন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান আন্দোলনকারীরা।
তাদের অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে—নারী সংসদ সদস্যদের দক্ষতা বৃদ্ধি, রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরে নারীদের জন্য রাজনৈতিক প্রশিক্ষণ এবং সাইবার বুলিং ও ডিজিটাল হয়রানিসহ নারীর প্রতি সব ধরনের সহিংসতা রোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ।
ভবিষ্যৎ সংসদ নির্বাচনগুলোতে সংরক্ষিত আসনে সরাসরি নির্বাচনের নীতি গ্রহণ এবং জনসম্মুখে বা প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে নারীর প্রতি অবমাননাকর ও অসম্মানজনক ভাষা ব্যবহার বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়।
এই কর্মসূচিতে উইমেন উইথ ডিজঅ্যাবিলিটিজ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (ডব্লিউডিডিএফ), কর্মজীবী নারী, শক্তি ফাউন্ডেশন, অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ, ব্রতী, ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র, ব্র্যাক, কেয়ার বাংলাদেশ, সেভ দ্য চিলড্রেন, ব্লাস্ট, ডিসঅ্যাবল চাইল্ড ফাউন্ডেশন ও নারীপক্ষসহ আরও বেশ কিছু সংগঠন অংশ নেয়।