হাইকোর্টে ৪ মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের জামিন
হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে চারটি মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হককে স্থায়ী জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।
আজ রোববার বিচারপতি মো. খায়রুল আলম ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ খায়রুল হকের চারটি পৃথক জামিন আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।
তবে হাইকোর্টের এই আদেশের পরও কারামুক্ত হচ্ছেন না খায়রুল হক। দ্য ডেইলি স্টারকে তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. মোতাহের হোসেন সাজু জানান, তিনি একটি দুর্নীতির মামলায়ও গ্রেপ্তার রয়েছেন।
গত বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ চারটি রুলের শুনানি শেষে আজ রায় ঘোষণার জন্য দিন নির্ধারণ করেন।
গত বছরের ২৬ অক্টোবর করা জামিন আবেদনের পর অন্য একটি বেঞ্চ এসব রুল জারি করে রাষ্ট্রপক্ষের কাছে জানতে চেয়েছিল, কেন খায়রুল হককে এসব মামলায় জামিন দেওয়া হবে না।
শুনানিকালে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ মনসুরুল হক চৌধুরী, সারা হোসেন, মো. মোতাহের হোসেন সাজু, মোহাম্মদ সায়েদ আহমেদ রাজা ও মুস্তাফিজুর রহমান খান খায়রুল হকের পক্ষে জামিনের আবেদন জানান।
তারা যুক্তি দেন, প্রায় ৮০ বছর বয়সী বিচারপতি খায়রুল হক হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছেন এবং দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে রয়েছেন।
তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোর তদন্তে তেমন অগ্রগতি নেই এবং এ পরিস্থিতিতে তাকে জামিন দেওয়া যেতে পারে বলে আইনজীবীরা হাইকোর্টকে বলেন।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আব্দুল্লাহ আল মামুন মাসুদ, জাহিরুল ইসলাম সুমন, নাহিদ হাসান ও মো. আখতারুজ্জামান রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে জামিন আবেদনের বিরোধিতা করেন।
খায়রুল হক ২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১১ সালের ১৭ মে পর্যন্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন। তার নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ২০১১ সালের ১০ মে এক রায়ে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে দেন। যার মাধ্যমে ১৯৯৬ সালে চালু হওয়া তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাও বাতিল হয়ে যায়।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের প্রায় এক বছর পর ২০২৫ সালের ২৪ জুলাই ধানমন্ডির বাসা থেকে পুলিশ খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে।
পরে তাকে এসব মামলায়ও গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
মামলাগুলোর একটি ঢাকায় জুলাই আন্দোলনের সময় যুবদল কর্মী আব্দুল কাইয়ুম আহাদকে হত্যার অভিযোগে যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের করা হয়।
গত বছরের ২৭ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন রাজধানীর শাহবাগ থানায় আরেকটি মামলা করেন, যেখানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার–সংক্রান্ত রায় জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়।
একই ধরনের অভিযোগে গত ২৫ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা ও বন্দর থানায় নুরুল ইসলাম মোল্লা ও আব্দুল বারী ভূঁইয়া আরও দুটি মামলা করেন খায়রুল হকের বিরুদ্ধে।
সবগুলো মামলাই বর্তমানে তদন্তাধীন। সংশ্লিষ্ট বিচারিক আদালতগুলো এসব মামলায় খায়রুল হকের জামিন আবেদন নাকচ করেছিলেন।