প্রথম দিনে ৩৭ হাজার নারী পেলেন ফ্যামিলি কার্ড, আগামী মাস থেকে কৃষক কার্ড

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

দেশের ৩৭ হাজার পরিবারের প্রধান নারীর হাতে তুলে দেওয়া হলো ‘ফ্যামিলি কার্ড’। পর্যায়ক্রমে সারা দেশের চার কোটি পরিবারের কাছে এই কার্ড পৌঁছে দেবে সরকার। এর সঙ্গে আগামী মাস থেকে কৃষকদের মধ্যে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ শুরু হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ রোববার সকালে রাজধানীর বনানীতে কড়াইল বস্তিসংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি মাঠে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা জানান।

পাইলট প্রকল্পের অংশ হিসেবে সারা দেশের ১৪টি স্থানে একযোগে এই কার্ড বিতরণ শুরু হয়। এর মধ্যে রাজধানীর কড়াইল, সাততলা বস্তি ও ভাষানটেক বস্তি এলাকার ১৫ হাজার নারী ফ্যামিলি কার্ড পেয়েছেন।

নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্ধেক জনসংখ্যা নারী। তাদের পেছনে ফেলে বা অর্থনৈতিকভাবে ক্ষমতায়ন না করে দেশকে কোনোভাবেই সামনে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সরকারের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন, তখন তিনি স্কুল থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত নারীদের শিক্ষা বিনা মূল্যে করার ব্যবস্থা করেছিলেন। সেই শিক্ষিত নারী সমাজকে আজ আমরা অর্থনৈতিকভাবে ক্ষমতায়ন করতে চাই। তাদের সচ্ছল করে তুলতে সরকার ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি চালু করেছে।’

তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে বর্তমানে একটি জবাবদিহিমূলক ও জনপ্রতিনিধিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সরকার গঠনের এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ফ্যামিলি কার্ডের কাজ শুরু হয়েছে।

কৃষকদের দেওয়া প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গত সপ্তাহে আমরা সরকারের পক্ষ থেকে কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করে দিয়েছি। একইভাবে আগামী মাসের ভেতরে আমরা কৃষক ভাইদের কাছেও কৃষক কার্ড তুলে দেব।’

ফ্যামিলি কার্ড চালুকে ‘ঐতিহাসিক ও আবেগঘন’ উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘বহু বছর ধরে আমরা বসে বসে এই পরিকল্পনা করেছি। আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের রহমতে আজ সেই দিনটি উপস্থিত, যেদিন আমরা এই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছি। এ জন্যই আজকের দিনটি আমার জন্য আবেগঘন।’

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতাসহ সমসাময়িক বৈশ্বিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের মানুষের প্রত্যাশা বর্তমান সরকারের কাছে অনেক, সেটি আমরা বুঝতে পারি। আমরা যে প্রতিশ্রুতিগুলো দিয়েছিলাম, তা থেকে বিন্দুমাত্র অবস্থান পরিবর্তন করব না। তবে বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে ক্ষেত্রবিশেষে কিছু প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে হয়তো সময় বেশি লাগতে পারে। তাই সবাইকে ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলার অনুরোধ করছি।’