পোশাক শ্রমিকদের ঈদযাত্রা

‘ভিড় নেই, যানজট নেই, তবু ভাড়া বেশি’

আকলাকুর রহমান আকাশ
আকলাকুর রহমান আকাশ

পোশাক শ্রমিক শ্যামলী বেগম কাজ করেন আশুলিয়ার একটি কারখানায়। পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় তার কারখানা ছুটি হয়েছে।

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে বাড়ী যাবেন বলে তিনি সরাসরি আশুলিয়ার বাইপাইল বাসস্ট্যান্ডে আসেন। সরকারের পক্ষ থেকে ‘ভাড়া বাড়বে না’ আশ্বাস দেওয়া হলেও তাকে ১৫০ টাকা বেশি দিয়ে টিকিট কিনতে হয়েছে।

‘ভালো মানের বাসে শাহজাদপুরের সর্বোচ্চ ভাড়া ৫০০ টাকা। মাঝারি মানের পরিবহনগুলোতে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকার মধ্যেই যাওয়া যায়। কিন্তু এখন একটি টিকিটের দাম চাচ্ছে ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা। অনেক বলে ৬৫০ টাকায় টিকিট কিনলাম, বাড়িতে তো যেতে হবে!’ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন শ্যামলী।

যানজট নেই

তিনি আরও বলেন, ‘ভিড় নেই, যানজট নেই, তবু ভাড়া বেশি। ঈদ, উৎসব এলেই ভাড়া বেড়ে যায়। নির্বাচনের সময় বাড়িতে যেতে লেগেছিল ৮৫০ টাকা। গত দুই ঈদে একটি টিকিটের দাম ছিল এক হাজার টাকা। এগুলো দেখার কেউ নেই।’

বাইপাইল বাসস্ট্যান্ডে আরও অন্তত পাঁচজন এই প্রতিবেদকের কাছে একই অভিযোগ করেন।

টাঙ্গাইলের গোপালপুর যাবেন বলে বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন পোশাক শ্রমিক খাদিজা বেগম। ঢাকা ইপিজেডের (রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল) একটি কারখানায় তিনি কাজ করেন। খাদিজা ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘গোপালপুরের ভাড়া ২০০ টাকা। এখন চাওয়া হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। প্রতি বছর এই সময়ে ভাড়া বেশি দিয়ে গ্রামে যেতে হয়, আমরা সিন্ডিকেটের খপ্পরে পড়ি। ঈদ উপলক্ষে ভাড়া ৫০ টাকা বেশি নিলে আমাদের আপত্তি ছিল না, কিন্তু দ্বিগুণ টাকা দিতে হচ্ছে।’

ভাড়া বেশি

আরেক কারখানার শ্রমিক আব্দুর রহিম যাবেন দিনাজপুরে। ‘আমরা স্বামী-স্ত্রী ডিইপিজেডের একটি কারখানায় চাকরি করি। বাড়ি যাব বলে নাবিল পরিবহনের কাউন্টারে গেলাম, সেখান থেকে বলছে ঈদের আগে টিকিট পাওয়া সম্ভব না। অন্য কাউন্টারে ভাড়া বেশি চাচ্ছে।’

‘ভাড়া বেশি হলেও আজকেই যেতে হবে। কারণ আগামীকাল ভাড়া আরও বেড়ে যাবে,’ আশঙ্কা প্রকাশ করেন এই দম্পতি।

শ্যামলী বেগম যে কাউন্টার থেকে টিকিট কেটেছেন, সেই কাউন্টারের মাস্টার সৈয়দ আলম ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘প্রতি টিকিটে বাড়তি টাকায় চালান কাটতে হচ্ছে। যে টিকিট ৬৫০ টাকা বিক্রি করলাম, এই টিকিটের চালান কাটতে হয়েছে ৬০০ টাকা। টিকিট বিক্রির পরপরই মালিকপক্ষ বলেছে, চালান ৭০০ টাকা রাখতে। তাহলে আমরা কী করব! টিকিট প্রতি ৫০ টাকা বেশি না নিলে আমরা চলবো কীভাবে? আমাদেরও তো পেট আছে, পরিবার আছে।’

‘এসব প্রশ্ন মালিকপক্ষকে করা উচিত,’ বলেন তিনি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সাভার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘বাড়তি ভাড়া আদায় করলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমাদের মোবাইল টিম মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে। আজকেও নবীনগর ও আমিনবাজার এলাকায় বাস কাউন্টারে অভিযান চালানো হয়েছে। নবীনগরে দুটি কাউন্টারে ১০ হাজার করে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।’

সাভার হাইওয়ের থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ শাহজাহান বলেন, ‘আজ মহাসড়কে যানবাহনের চাপ নেই। যাত্রীর সংখ্যাও কম। সড়কে স্বাভাবিক রাখতে হাইওয়ে পুলিশের ৬০ জন সদস্যের পাশাপাশি জেলা পুলিশের চার শতাধিক সদস্য কাজ করছে।’

ডিইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক মো. শরীফুল ইসলাম ডেইলি স্টারকে জানান, গতকাল ২০ শতাংশ ও আজ ৩০ শতাংশ কারখানায় ছুটি দেওয়া হয়েছে। আগামীকাল বাকি সব কারখানা ছুটি হবে।

‘ঈদে বাড়ি ফিরতে প্রতি বছরই পোশাক শ্রমিকদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। ট্রাক, পিকআপ ভ্যানে ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াতের পাশাপাশি বাড়তি ভাড়া দিতে হয়। আমরা দীর্ঘ দিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছি, পোশাক শ্রমিকদের জন্য বিশেষ পরিবহনের ব্যবস্থা করা হোক। সরকার চাইলে মালিকপক্ষকে সঙ্গে নিয়ে এই ভোগান্তি দূর করতে পারে,’ বলেন গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়নের আইন বিষয়ক সম্পাদক খাইরুল মামুন মিন্টু।