উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি ও পানি শোধনাগারে হামলার হুমকি ইরানের

স্টার অনলাইন ডেস্ক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎ গ্রিডে হামলা করলে উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি ও পানি স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালানো হবে বলে হুঁশিয়ার করেছে তেহরান। এই ঘটনা ঘটলে সুপেয় পানি সংকটে থাকা দেশগুলোতে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটে যেতে পারে।

শনিবার গভীর রাতে দেওয়া এক সতর্কবার্তায় ট্রাম্প বলেন, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তেহরান যদি হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে না দেয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে হামলা চালাবে। সোমবার বাংলাদেশ সময় ভোরে এই সময়সীমা শেষ হবে।

বেসামরিক স্থাপনায় এ ধরনের পাল্টাপাল্টি হামলার আশঙ্কায় অস্থির হয়ে উঠেছে তেলের বাজার।

তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চালানো হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কর্মকর্তারা দাবি করছেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ব্যাপকভাবে কমে গেছে। তবে তেহরান এখনো জোরদার পাল্টা আঘাত হানার সক্ষমতা দেখিয়ে যাচ্ছে। রোববার রাতে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চল, তেল আবিবসহ মধ্যাঞ্চল এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সাইরেন বেজে ওঠে।

এর কয়েক ঘণ্টা আগে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানায়, তারা তেহরানের একটি সামরিক ঘাঁটির পাশাপাশি অস্ত্র উৎপাদন ও মজুত স্থাপনায় এক দফা হামলা সম্পন্ন করেছে।

ইরানের আধা সরকারি সংবাদমাধ্যম মেহের নিউজ আজ ভোরে জানিয়েছে, উপসাগরীয় বন্দর শহর বন্দর আব্বাসের একটি রেডিও স্টেশনে বিমান হামলায় অন্তত একজন নিহত হয়েছেন। হামলা ঠেকাতে সক্রিয় করা হয়েছে পূর্ব তেহরানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা।
 

এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন তিনি ইরান যুদ্ধ গুটিয়ে আনার কাজ করছেন। কিন্তু এক দিনের মাথায় তিনি ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে হামলার হুমকি দেন।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে ইরানের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাকারি বলেন, ‘শত্রুরা যদি ইরানের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ স্থাপনায় হামলা চালায়, তবে আগের হুঁশিয়ারি অনুযায়ী ওই অঞ্চলে থাকা যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের সব জ্বালানি স্থাপনা, তথ্যপ্রযুক্তি খাত এবং পানি শোধনাগারগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।’

বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা হলে যে ইরানের ক্ষতি হবে তা বলাই বাহুল্য। কিন্তু ইরান প্রতিশোধমূলক হামলা চালালে উপসাগরীয় প্রতিবেশীদের জন্য তা হতে পারে ভয়াবহ। কারণ, এসব দেশ মাথাপিছু প্রায় পাঁচ গুণ বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করে। এই বিদ্যুৎ ছাড়া মরুভূমির শহরগুলো বসবাসের উপযোগী থাকবে না। সমুদ্রের পানি লবণমুক্ত করার প্লান্টগুলো বন্ধ হয়ে গেলে সংকটে পড়বে দৈনন্দিন জনজীবন। বাহরাইন ও কাতারের শতভাগ, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ৮০ শতাংশের বেশি এবং সৌদি আরবের অর্ধেক খাবার পানি এই প্রক্রিয়ায় উৎপাদিত হয়।

ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও জ্বালানি অবকাঠামো ‘অপূরণীয়ভাবে ধ্বংস’ করা হতে পারে।

ইরানের প্রভাবশালী রেভল্যুশনারি গার্ডস এক বিবৃতিতে বলেছে, বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার অর্থ হলো হরমুজ প্রণালি বন্ধই থাকবে। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) এক-পঞ্চমাংশ ইরানের দক্ষিণ উপকূলের এই নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হবে। আমাদের ধ্বংস হওয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পুনর্নিমাণ না হওয়া পর্যন্ত তা আর খোলা হবে না।