ফরিদপুরে স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর আমৃত্যু কারাদণ্ড
ফরিদপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামীর আমৃত্যু কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন আদালত।
একই মামলায় অন্য একটি ধারায় আসামিকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার টাকা অনাদায়ে তাকে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। তবে তিনি এই দুই ধারার কারাদণ্ড একই সঙ্গে ভোগ করতে পারবেন।
আজ সোমবার দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ শামীমা পারভীন রায় এ আদেশ দেন। এ সময় আসামি আদালতে হাজির ছিলেন।
কারাদণ্ডপ্রাপ্ত রাশেদ মোল্লা (৩১) ফরিদপুর সদর উপজেলার অম্বিকাপুর ইউনিয়নের ঘোড়াদহ বাজারের বাসিন্দা। তার স্ত্রী জোসনা বেগম (২১) একই উপজেলার চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের সৈয়দ মাতুব্বরের ডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালে পারিবারিকভাবে জোসনা ও রাশেদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর ৫০ হাজার টাকা যৌতুক নেন রাশেদ। ২০২০ সালের ১৬ জুলাই আবারও স্ত্রীর কাছে তিনি ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দাবি করেন। টাকা দিতে না পারায় স্ত্রীকে মারধর করেন।
একপর্যায়ে কেরোসিন তেল স্ত্রীর শরীরে ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। গুরুতর আহত অবস্থায় জোসনাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে পরদিন ১৭ জুলাই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। ওইদিন জোসনার বড় ভাই জলিল শেখ বাদী হয়ে যৌতুকের দাবিতে হত্যার অভিযোগে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। মামলায় রাশেদ ও তার বড় ভাই হাসিব মোল্লাকে আসামি করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আরিফুজ্জামান ২০২১ সালের ১৪ মার্চ দুই আসামিকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, যে ধারায় আসামিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে, সেই টাকা আসামিকে অবশ্যই পরিশোধ করতে হবে। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা না থাকায় আসামির ভাই হাসিব মোল্লাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত।