জনগণকে কষ্ট করতে হবে: জাহেদ উর রহমান

‘এই সংকটে আমাদের প্রত্যেকের ক্ষতি হবে, এটা মেনে নিতে হবে।’
স্টার অনলাইন রিপোর্ট

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সমন্বয় করে যৌক্তিকভাবে বাসভাড়া নির্ধারণ করা হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর পলিসি অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজি উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, জনগণকে কষ্ট করতে হবে, প্রত্যেকটা মানুষ কষ্ট করছে।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরে সরকারি কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

 

জাহেদ উর রহমান জানান, ‘যেহেতু জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে, তাই এখন জ্বালানির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধির আলোচনা চলছে। আমরা আশা করি, এটা যৌক্তিকভাবে হবে। জটিলতা নিরসনে প্রয়োজনে এসি বাসের ভাড়া দুই বা তিনটি স্তরে নির্ধারণ করা হবে এবং আসন্ন ঈদে সেটা কার্যকর করা হবে।’

জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির কারণে বাসের ভাড়া বাড়লে সাধারণ মানুষের জীবনে একটা বড় প্রভাব পড়বে। সরকার দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় ৬০ দিনের মাথায় জনগণের জন্য কি নতুন চ্যালেঞ্জ আসছে—জানতে চাইলে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, ‘শুধু বাস না, আসলে জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর বেশি প্রভাব পড়ে ট্রাক ভাড়ায়। এখন সমন্বয় আবশ্যক।’

তিনি বলেন, ‘সরকারের কাজ কিন্তু শুধু ভোক্তার স্বার্থ রক্ষা না, একটা কথা মনে রাখতে হবে। একটা সরকার কিন্তু ব্যবসায়ীদেরও সরকার। যে মানুষটা বাস চালান, যে মানুষটা ট্রাক চালান, তিনিও এই রাষ্ট্রের নাগরিক, এই সরকার কিন্তু তারও সরকার। সুতরাং তার ওপর এমন কিছু করা ঠিক হবে না, যাতে তার ব্যবসা না হতে পারে।’

‘সরকারের কাজ হচ্ছে, দুপক্ষের মাঝখানে থাকা। সরকার কিন্তু কারও পক্ষ না। সরকার সবার সরকার। সরকার চেষ্টা করবে এমন একটি পয়েন্টে আসতে, যেখানে সবার কম ক্ষতি হয়। আমি আগে একদিন বলেছিলাম, এই সংকটে আমাদের প্রত্যেকের ক্ষতি হবে, এটা মেনে নিতে হবে। এটা সারা পৃথিবীতেই হচ্ছে। এমন কোনো কিছু হতে পারে না যে, সবাই বা কোনো একটি অংশ এটা থেকে দূরে থাকবে। সরকারের উদ্দেশ্য থাকবে, যেহেতু সংকটটা আছে, যতটা ভাড়া বাড়া উচিত—যৌক্তিক মনে হয়, তার চেয়ে কিছুটা কম করা। তাতে তারাও (পরিবহন মালিক) কিছুটা ছাড় দিলেন, আবার জনগণের কিছু ভাড়া তো বাড়বেই এবং দ্রব্যমূল্য বাড়বে। কারণ পরিবহন খরচ বেড়ে যায়,’ যোগ করেন তিনি।

জাহেদ আরও বলেন, ‘সরকারের কাজ হচ্ছে মূল্য যৌক্তিকভাবে যতটা বাড়ার কথা, বৃদ্ধিটা যাতে অতটুকু হয় (নিশ্চিত করা)। আমাদের একটা প্রবণতা আছে, যখনই তেলের দাম বাড়ছে, ভাড়া বাড়ছে, ওই অজুহাতে দ্রব্যমূল্য যতটুকু বাড়ার কথা তার চেয়ে অনেক বেশি বাড়ছে। আমরা চেষ্টা করব, এই জিনিসটাকে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য। জনগণকে আবারও বলছি কিছুটা কষ্ট করতে হবে, প্রত্যেকটা মানুষ কষ্ট করছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কিছু কিছু মানুষের জন্য ডিমের দাম দু টাকা বৃদ্ধি তার শিশুকে একটার জায়গায় অর্ধেক ডিম দেবো কি না এই সিদ্ধান্তে নিয়ে যেতে পারে, ওই মানুষগুলোর জন্য আমরা প্রয়োজনে অন্য কর্মসূচি বাড়াবো। আমাদের তো ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ডের তো একটা শুরু হয়েছে। এটা পরীক্ষামূলক। এই (আসন্ন) বাজেটে আমরা ৪০ লাখ মানুষকে নতুন ফ্যামিলি কার্ড দেবো, যাতে প্রায় ১৩ থেকে ১৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ হবে।’

‘এই বরাদ্দ রাখার জন্য আইএমএফয়ের (আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল) সঙ্গে আমাদের নেগোসিয়েশনে কিছু সমস্যা তৈরি হয়েছে। কিন্তু সরকার সবচেয়ে দরিদ্র জনগণের পাশে থাকার জন্য এই সিদ্ধান্তে অটল থাকবে। প্রয়োজনে টিসিবির (ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ) মাধ্যমে আরও অনেক বেশি মানুষকে খাদ্যসহ অন্যান্য সহযোগিতা দেওয়া হবে। সুতরাং সরকার জনগণের পাশে নিশ্চয়ই থাকবে।’

এ সময় গণমাধ্যমকর্মীরা দৃষ্টি আকর্ষণ করেন, ২০২২ সালে যখন ডিজেলের দাম ৪২ শতাংশ বাড়ানো হয়েছিল, তখন বাস ভাড়া কিলোমিটার প্রতি ৪০ পয়সা বেড়েছিল। এর পরে ডিজেলের দাম কমেছে, কিন্তু বাস ভাড়া কমেনি। এখন ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা হয়েছে, বাস ভাড়া আবার বাড়ানো চেষ্টা করা হচ্ছে। শুভঙ্করের ফাঁকির এই জায়গায় সরকার হাত দেবে কি না?

জবাবে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ‘এগুলো সব বাংলাদেশের কমন প্রবণতা। দাম কমলেও আসলে আর (ভাড়া) কমানো হয় না। এই প্রবণতা আসলে সত্যিকার অর্থেই আছে।’

তিন আরও বলেন, ‘এই সময়ে কিন্তু মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। যারা এই পরিবহনগুলো চালান, তাদেরও পক্ষে যুক্তি আছে। আমি আবারও বলছি, একটি গণতান্ত্রিক সরকার জনগণের সরকার, এটা সবার সরকার। তারা চেষ্টা করবে সব পক্ষের যতটা সম্ভব স্বার্থ নিশ্চিত করতে। এর মধ্যে এটাও আমরা মানি, যিনি পরিবহন মালিক আছেন, তার অর্থনৈতিক সামর্থ্য ভালো আছে। আমরা চেষ্টা করব, ভোক্তাদের স্বার্থটাও যাতে একইসঙ্গে ভালোভাবে রাখা যায়।’