মুজিবনগর স্মৃতি কমপ্লেক্স সংরক্ষণের দাবি

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রথম বাংলাদেশ সরকারের শপথগ্রহণের স্মৃতিবিজড়িত মুজিবনগর স্মৃতি কমপ্লেক্স সংরক্ষণ ও পুনর্নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন পরিদর্শনকারী নাগরিক প্রতিনিধিদলের সদস্যরা।

আজ মঙ্গলবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও স্মারক সংরক্ষণের দাবিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও লেখক আবু সাঈদ খান বলেন, ‘মুজিবনগর সফরকালে আমরা দেখতে পাই, কমপ্লেক্সের ভেতরে বেশ কয়েকটি ভাস্কর্য ভাঙচুর করা হয়েছে। অন্য ভাস্কর্যগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় পড়ে আছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট অভ্যুত্থানের পর ছদ্মবেশী দুষ্কৃতকারীরা কমপ্লেক্সে হামলা চালায়। যদিও অন্তর্বর্তী সরকার এ নিয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।’

তিনি বলেন, ‘এ বছর মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে সরকারকে কোনো উল্লেখযোগ্য কর্মসূচি নিতে দেখা যায়নি। এমনকি সরকারের কোনো মন্ত্রী বা উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। যা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের প্রতি অবহেলার শামিল।’

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ‘শহর থেকে গ্রাম সর্বত্রই মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভগুলোতে ভাঙচুর করা হয়েছে। এসব ঘটনায় যারা জড়িত ছিলেন, তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিশ্বাস করে না।’

তিনি বলেন, ‘সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া এমন ঘটনা ঘটতে পারে না। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এসব ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি।’

প্রতিনিধিদলটি সরকারের কাছে কয়েকটি দাবি তুলে ধরে। এর মধ্যে রয়েছে, দেশজুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভগুলোর দ্রুত পুনর্গঠন, হামলাকারীদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনা,  রাষ্ট্রীয়ভাবে মুজিবনগর দিবস পালন ও মুজিবনগরে নির্মাণাধীন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (এএলআরডি) নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সহকারী সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন ও নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন।