ফ্লোরিডা পুলিশ ফোন করে জানিয়েছে, বৃষ্টিও বেঁচে নেই: নিহতের ভাই

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ বাংলাদেশি দুই পিএইচডি শিক্ষার্থীর একজন নাহিদা এস বৃষ্টিও আর বেঁচে নেই। তার ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত দ্য ডেইলি স্টারকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

প্রান্ত জানান, আজ সকালে ফ্লোরিডা পুলিশ তাকে ফোন করে জানিয়েছে যে, তারা বৃষ্টির মরদেহ খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, ‘পুলিশ আমাদের জানিয়েছে, সন্দেহভাজনের অ্যাপার্টমেন্টে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা দুজন মৃত ব্যক্তির।’

পুলিশ আরও জানিয়েছে, সন্দেহভাজন ব্যক্তি দুজনের মরদেহই সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করছিলেন।

প্রান্ত বলেন, ‘পুলিশ এখনো বৃষ্টির মৃত্যুর বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি। তারা শুধু পরিবারকে জানিয়েছে। তারা বলেছে, ফরেনসিক রিপোর্ট পাওয়ার চেষ্টা চলছে এবং আজ রাতেই (বাংলাদেশ সময়) আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।’

প্রান্ত তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘আমার বোন আর আমাদের মাঝে নেই। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।’

হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের (পুলিশ) কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা থেকে নিখোঁজ বাংলাদেশি এক পিএইচডি শিক্ষার্থীর মরদেহ পাওয়া গেছে, আর তার রুমমেটকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বাংলাদেশি দুই পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল লিমন ও নাহিদা এস বৃষ্টি গত সপ্তাহ থেকে নিখোঁজ ছিলেন। শেরিফ অফিস জানায়, লিমনের মরদেহ গতকাল হাওয়ার্ড ফ্র‌্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ থেকে উদ্ধার করা হয়।

লিমন ভূগোল, পরিবেশ বিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পড়ছিলেন এবং বৃষ্টি কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন।

 

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, দুজনের বয়সই ২৭ বছর এবং সর্বশেষ ১৬ এপ্রিল তাদের দেখা গিয়েছিল।

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, লিমনের রুমমেট ২৬ বছর বয়সী হিশাম আবুগারবিয়েহকে শুক্রবার সকালে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে, সহিংসতার অভিযোগ পেয়ে ওই বাসায় যায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ডেপুটি চিফ জোসেফ মাওরার এ তথ্য জানান।

শেরিফ অফিস জানায়, ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সাবেক শিক্ষার্থী হিশাম আবুগারবিয়েহর বিরুদ্ধে মারধর, অবৈধভাবে আটকে রাখা, প্রমাণ নষ্ট করা, মৃত্যুর তথ্য গোপন রাখা এবং মরদেহ অবৈধভাবে সরানোর মতো অভিযোগ আনা হয়েছে।

ক্যাম্পাস পুলিশ ও সিএনএনের তথ্য অনুযায়ী, ১৭ এপ্রিল এক পারিবারিক বন্ধুর মাধ্যমে তাদের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি জানা যায়, এর আগের দিন বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় তাদের সর্বশেষ দেখা গিয়েছিল।

মেডিক্যাল এক্সামিনার লিমনের মৃত্যুর কারণ চিহ্নিত করছেন এবং এ সপ্তাহান্তে ময়নাতদন্তের ফল প্রকাশ হতে পারে বলে জানিয়েছেন মাওরার।

গ্রেপ্তারের আগে হিশাম আবুগারবিয়েহকে অন্তত দুইবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। প্রথমে তিনি সহযোগিতা করলেও পরে বৃহস্পতিবার আর সাড়া দেননি।

শুক্রবার তদন্তকারীরা লিমন হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার বিষয়টি নিশ্চিত হন।

গ্রেপ্তারের সময় তিনি একটি বাড়ির ভেতর নিজেকে অবরুদ্ধ করে রাখেন, ফলে সোয়াট টিম ও আলোচনাকারীরা ঘটনাস্থলে যায়। পরে তিনি আত্মসমর্পণ করেন।

এই ঘটনার সত্যতা ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস উইংও নিশ্চিত করেছে। তারা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (এফবিআই) সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। মিয়ামিতে বাংলাদেশ কনস্যুলেট বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় তদন্তকারীদের সঙ্গে সমন্বয় করছে এবং একজন প্রতিনিধি ক্যাম্পাস পরিদর্শন করেছেন।

প্রেস মিনিস্টার গোলাম মোর্তোজা এক ফেসবুক পোস্টে ঘটনাটিকে ‘অত্যন্ত হৃদয়বিদারক’ বলে উল্লেখ করেছেন।

পুলিশ আগে জানিয়েছিল, ১৬ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে ট্যাম্পায় নিজ বাসায় লিমনকে সর্বশেষ দেখা যায়। অন্যদিকে, একই দিন সকাল ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যাচারাল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস ভবনে বৃষ্টিকে শেষবার দেখা যায়।

দুই শিক্ষার্থীর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় ফ্লোরিডায় তাদের বন্ধু ও বাংলাদেশে স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।

লিমনের মরদেহ উদ্ধারের আগে তার ভাই জোবায়ের আহমেদ সিএনএনকে বলেন, তাদের পরিবার ‘গভীর কষ্টে’ দিন কাটাচ্ছে।

‘এটা আমাদের জন্য বিধ্বংসী ঘটনা’, বলেন তিনি।

‘আমরা যেন অনুভূতিহীন হয়ে যাচ্ছি। কী হতে পারে, সবই সম্ভব মনে হচ্ছে। আমরা শুধু সত্যটা জানতে চাই। দুজন শিক্ষার্থী হঠাৎ করে এভাবে নিখোঁজ হয়ে যেতে পারে না।’

সিএনএনের তথ্য অনুযায়ী, লিমন তার পরিবারের সঙ্গে বৃষ্টির বিষয়ে কথা বলেছিলেন এবং তারা বিয়ের কথাও ভাবছিলেন বলেও তার ভাই জানান।