আংশিক বাস্তবায়নের পথে নবম পে-স্কেল, ৩৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের সম্ভাবনা

রেজাউল করিম বায়রন
রেজাউল করিম বায়রন

সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নতুন পে-স্কেল আংশিক বাস্তবায়নের পথে আরও এক ধাপ এগিয়েছে সরকার। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এ লক্ষ্যে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হতে পারে। 

অর্থ মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে প্রস্তাবিত বাজেটের একটি খসড়া প্রস্তুত করেছে, যা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর চূড়ান্ত করা হবে।

নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে সরকার দুটি বিকল্প পদ্ধতি পর্যালোচনা করছে। একটি তিন বছরের পরিকল্পনা, অন্যটি পরবর্তী দুই অর্থ বছরে ধাপে ধাপে পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা।

প্রথম বিকল্প অনুযায়ী, আগামী অর্থবছরে প্রস্তাবিত মূল বেতনের ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হবে। বাকি অংশ পরবর্তী বছরে এবং বাড়িভাড়া ও অন্যান্য ভাতা তৃতীয় বছরে দুই ধাপে দেওয়া হবে।

মূল্যস্ফীতির ও সরকারের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনার জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন করতে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। এর মধ্যে ৮০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে সরাসরি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেছনে, আর বাকি অংশ পেনশনভোগী ও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন দিতে।

আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার হতে পারে প্রায় ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের তুলনায় ১৮ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা।

চলতি অর্থবছরে সংশোধিত বাজেট নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা। এতে রাজস্ব বাজেট বাড়ানো হয়েছে ২৫ হাজার কোটি টাকা ও উন্নয়ন বাজেট কমানো হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার জন্য মোট বরাদ্দের পরিমাণ ছিল ৮৪ হাজার ১১৪ কোটি টাকা এবং পেনশনভোগীদের জন্য রাখা হয়েছিল ৩৫ হাজার ৬৫৭ কোটি টাকা।

নবম পে কমিশন এ বছরেই আংশিকভাবে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ করায় গত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এ জন্য ৩০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছিল। তবে রাজস্ব আহরণ কম এবং মধ্যপ্রাচ্য সংকটজনিত কারণে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির ফলে নতুন পে-স্কেলের বাস্তবায়ন আগামী অর্থবছরে পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।

নবম পে স্কেল বাস্তবায়নে পে কমিশন ২০টি বেতন গ্রেড প্রস্তাব করেছে। এতে সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা। আর সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে, যেন ২০১৫ সালের তুলনায় প্রকৃত মজুরি কমে না যায়।

বর্তমান সরকার ১৪ লাখ কর্মচারী ও ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য বছরে প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে। নবম পে-স্কেল পুরোপুরি বাস্তবায়িত করলে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন দিতে সরকারের প্রতিবছর অতিরিক্ত ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে।

এর আগে ২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় পে-স্কেল দুই ধাপে বাস্তবায়ন করা হয়েছিল। সে বছর ১ জুলাই সংশোধিত মূল বেতন কার্যকর হয় এবং এক বছর পর থেকে ভাতা কার্যকর করা হয়।

২০১৪-১৫ অর্থবছরে বেতন-ভাতার জন্য বরাদ্দ ছিল ২৮ হাজার ৭০৯ কোটি টাকা, বাস্তবায়নের পরের বছরে যা বেড়ে দাঁড়ায় ৫০ হাজার ৭৭৫ কোটি টাকা।