‘হান্নান মাসউদ ৩ কোটি টাকা দাবি করেছিলেন’ বলা ছাত্রদল নেতার বাড়িতে হামলার অভিযোগ
নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় ছাত্রদলের এক নেতার বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।
ওই ছাত্রদল নেতার অভিযোগ, এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদের বিরুদ্ধে কথা বলার পর তার বাড়িতে হামলা চালানো হয়।
তবে হান্নান মাসউদ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
অভিযোগটি করেছেন হাতিয়া উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের পশ্চিম বড় দেইল গ্রামের বাসিন্দা আবদুল গফফার। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য।
হাতিয়া উপজেলার পশ্চিম বড় দেইল গ্রামে আবদুলের পারিবারিক বাড়িতে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে সাড়ে ৮টার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে। পরে হাতিয়া উপজেলা ছাত্রদল এলাকায় একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। তারা হামলাকারীদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে হান্নান মাসউদ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আমার নিজের বাড়িতেই হামলা হয়। আমিসে গুলো ট্যাকেল দিয়ে উঠতে পারি না। আমি কেন অন্যের বাড়িতে হামলা করতে যাব? এটি আমাকে হেয় করার জন্য সাজানো নাটক। তারা চেষ্টা করে দেখুক, কী করতে পারে।’
আওয়ামী লীগ নেতাকে বিমানবন্দর পৌঁছে দিতে টাকা দাবির ঘটনাটি সঠিক নয় বলেও দাবি করেন মাসউদ।
এদিকে আবদুল গফফার সাংবাদিকদের বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানের সময় আমিই হান্নান মাসউদকে নিরাপদে রেখেছিলাম। তাদের সব ভিডিও সম্পাদনা ও পোস্ট করার কাজও আমিই করতাম। হাতিয়ার রাজনীতিতে আমিই তাকে প্রতিষ্ঠিত করেছি।’
তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক অভিভাবকের মতো ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দেড় মাস আমি তার (হান্নান মাসউদ) সঙ্গে ছিলাম। এ কারণে তার অনেক কিছু আমি জানি।
‘৫ আগস্টের পর হান্নান মাসউদ নোয়াখালী-৪ (সদর-সুবর্ণচর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ একরামুল করিম চৌধুরীকে বিমানবন্দরে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। এ জন্য হান্নান মাসউদ ৩ কোটি টাকা দাবি করেছিলেন। তখন এতে আমি বাধা দেই।’
আবদুল বলেন, ‘হান্নানের ৩ কোটি টাকা দাবির বিষয়টি গত বুধবার গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান বিএনপি নেতা মুহাম্মদ রাশেদ খানকে আমি জানাই। পরে এ নিয়ে তিনিও ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। পরে আমি রাশেদ খানের পোস্টটি আমার ফেসবুকে শেয়ার করি। এ ঘটনার পর থেকে হান্নান মাসউদ আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এরপর থেকে তার অনুসারীরা আমাকে ফেসবুকে নানা রকম হুমকি ও গালাগাল দিতে থাকে।’
তিনি অভিযোগ করেন, তার পারিবারিক বাড়িতে হামলাটি হান্নান মাসউদের অনুসারীরা করেছেন।
‘হামলাকারীরা আমাদের ভবনের একটি জানালা ভাঙচুর ও প্রধান ফটকে হামলা করে। পরে আমাকে গালিগালাজ করে চলে যায়,’ বলেন আবদুল।
হাতিয়া উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রিয়াজ মাহমুদ ডেইল স্টারকে বলেন, ‘৩ কোটি টাকা দাবির বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার পর গত ২ দিন ধরে এনসিপির নেতাকর্মী ও হান্নান মাসউদের অনুসারীরা প্রকাশ্যে আবদুলকে হুমকি দিয়ে আসছিল। যারা হুমকি দিয়েছে তারাই হামলার ঘটনাটি ঘটিয়েছে।’
অভিযোগ অস্বীকার করে হাতিয়া উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক সামছুল কিবরিজ বলেন, ‘ছাত্রদল নেতা আবদুল যেহেতু জোর দিয়ে বলছেন এনসিপির কর্মীরা এ কাজ করেছে, তাহলে ধরে নিতে হবে ভাইরাল হওয়ার জন্য তারা নিজেরাই এ ঘটনা ঘটিয়েছে। এমপি হান্নান মাসউদের ফোনে বিষয়টি জানানোর পর আমি ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে বিএনপির নেতাকর্মীরা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেন।’
হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’