পাবনায় কিশোরীকে ধর্ষণ ও হত্যা: আসামির বাড়িতে অগ্নিসংযোগে নিহত ৩
পাবনা সদরের একটি গ্রামে কিশোরীকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় এক আসামির বাড়িতে আগুন দিয়েছেন উত্তেজিত জনতা। এতে দগ্ধ হয়ে তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও তিনজন।
নিহতরা হলেন—সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের পূর্ব রাঘবপুর এলাকার তজির উদ্দিন শেখের ছেলে সুমন শেখ (৩৭), পার্শ্ববর্তী নতুন পাড়া এলাকার শকুর হোসেনের ছেলে সাইফুল ইসলাম সাব্বির (২২) ও একই এলাকার মো. ইউসুফের ছেলে সাপু (১৯)। তারা ওয়ার্কশপে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।
পুলিশ জানায়, অগ্নিসংযোগের সময় অভিযুক্ত পরিবারের কোনো সদস্য বাড়িতে ছিলেন না। দগ্ধরা প্রতিবেশী ও উৎসুক জনতা।
আজ মঙ্গলবার সকালে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাব্বির ও সাপুর মৃত্যু হয়।
এর আগে গতকাল সোমবার দুপুরে একই হাসপাতাল থেকে পাবনায় অ্যাম্বুলেন্সে ফেরার পথে সুমনের মৃত্যু হয়।
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিকুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে সুমনের মরদেহ আজ দুপুরে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি দুইজন ঢাকার হাসপাতালে মারা যাওয়ায় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পাবনায় আনা হবে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ জুন পাবনার ভাঁড়ারায় পদ্মা নদী থেকে বস্তাবন্দি এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় কিশোরীর ভাই পাবনা সদর থানায় ধর্ষণ ও হত্যা মামলা করেন। পরদিন ৪ জুন পারিবারিক কবরস্থানে তার মরদেহ দাফন করা হয়। পরে স্থানীয় উত্তেজিত জনতা ক্ষিপ্ত হয়ে এক আসামির বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় ওই বাড়ির সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়ে আশপাশের ছয়জন দগ্ধ হন।
ভাঁড়ারা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য বাদশা আলমগীর ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘ওই কিশোরীকে তার চাচাতো ভাই নাঈম ধর্ষণ ও হত্যা করেছে বলে অভিযোগ ওঠে। তাকে দাফন শেষে ফেরার পথে মামলার প্রধান আসামি নাঈমের বাড়ি থেকে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পাই। পরে ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে দেখি, বেশ কয়েকজন দগ্ধ অবস্থায় রাস্তায় পড়ে আছেন।’
তিনি আরও বলেন, আহত ছয়জনকে প্রথমে আশঙ্কাজনক অবস্থায় পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়।
ওসি তারিকুল ইসলাম জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।