পাগলা মসজিদের দানবাক্সে মিলল রেকর্ড ১৬ কোটি টাকা
কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্সে মিলেছে রেকর্ড ১৫ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার ১৪৬ টাকা। এছাড়াও মিলেছে বৈদেশিক মুদ্রাসহ বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার।
প্রায় সাড়ে ১৩ ঘণ্টা গণনা শেষে আজ শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও দানবাক্স খোলা কমিটির আহ্বায়ক মো. এরশাদুল আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, 'সকাল ৭টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত গণনা শেষে ১৫ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার ১৪৬ টাকা পাওয়া গেছে।'
ছয় মাস আগের গণনায় মসজিদের ১৩ দানবাক্সে পাওয়া যায় প্রায় ১১ কোটি সাড়ে ৭৮ লাখ টাকা।
আজ শনিবার সকাল ৭টা থেকে দানবাক্স খোলার পর টাকা গণনা শুরু হয়। কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুস সাকিব খান এবং অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও দানবাক্স খোলা কমিটির আহ্বায়ক মো. এরশাদুল আহমেদের উপস্থিতিতে দানবাক্সগুলো খোলা হয়।
মসজিদ সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন দেশের দূর-দূরান্ত থেকে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব শ্রেণির মানুষ পাগলা মসজিদে দান করতে যান। প্রতি ৪-৬ মাস পর পর জেলা শহরের নরসুন্দা নদী তীরে পাগলা মসজিদের সিন্দুকগুলো খোলা হয়। এসব দানবাক্সে পাওয়া যায় বিপুল পরিমাণ টাকাপয়সা ও বৈদেশিক মুদ্রাসহ স্বর্ণালংকার।
এর আগে, গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর ৩ মাস ২৭ দিন পর মসজিদের দানবাক্সগুলো খুলে ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৮ টাকা পাওয়া যায়। টাকা ছাড়াও এখানে পাওয়া যায় বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা, সোনার গয়না ও হীরা।
টাকা ছাড়াও মসজিদে নিয়মিত হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগলসহ বিভিন্ন ধরনের জিনিসপত্র দান করে মানুষ।
দানবাক্স খোলার পর প্রথমে টাকাগুলো লোহার সিন্ধুক থেকে বস্তায় ভরা হয়। পরে মেঝেতে ঢেলে গণনা করা হয়। আজ গণনার কাজ করছেন আল জামিয়াতুল ইমদাদিয়া ও পাগলা মসজিদের এতিমখানাসহ দুটি মাদ্রাসার প্রায় সাড়ে ৩০০ শিক্ষার্থী, রূপালী ব্যাংকের ১৩০ কর্মী। সেখানে আরও আছেন মসজিদ কমিটি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সেনাবাহিনীর সদস্যসহ আরও প্রায় ৫০০ জন।
জেলা প্রশাসক ও মসজিদ কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন বলেন, 'পাগলা মসজিদ ও ইসলামী কমপ্লেক্সের খরচ চালিয়ে দানের বাকি টাকা ব্যাংকে জমা রাখা হয়। এ পর্যন্ত প্রায় ১১৪ কোটি ১৩ লাখ টাকা নগদ ব্যাংকে জমাসহ অনলাইনের দানের আরও প্রায় ২৫ লাখের বেশি টাকা জমা আছে। আজকের টাকা গণনা শেষে আগের টাকার সঙ্গে এটাও ব্যাংকে জমা হবে।'
'এছাড়াও পাগলা মসজিদে জমা টাকার লভ্যাংশ থেকে জেলার বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানায় অনুদান দেওয়া হয়। পাশাপাশি অসহায় ও জটিল রোগে আক্রান্তদের সহায়তা করা হয়। মসজিদের কলেবর বাড়াতে আগের সাড়ে ৫ একর জায়গার পাশে আরও ৫৩ দশমিক ৭ শতাংশ জায়গা কেনা হয়েছে,' বলেন তিনি।
কিশোরগঞ্জ শহরের ঐতিহাসিক স্থাপনার মধ্যে পাগলা মসজিদ অন্যতম। শহরের পশ্চিমে হারুয়া এলাকায় নরসুন্দা নদীর তীরে মসজিদটি গড়ে ওঠে। কথিত আছে, এ মসজিদে দান করলে মানুষের মনের আশা পূরণ হয়। সেজন্য দূরদূরান্ত থেকে অসংখ্য মানুষ এখানে এসে দান করে থাকেন।
মসজিদ কর্তৃপক্ষ জানায়, বর্তমান আধুনিক তুরস্কের বসফরাস প্রণালীর পাশে যে দৃষ্টিনন্দন, মাল্টিপারপাস মসজিদ আছে, এর আদলে কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদকেন্দ্রিক একটি ইসলামি কমপ্লেক্স গড়ে তোলা হবে, ১০ তলা ভবন নির্মাণ হবে। প্রায় ৪০-৫০ হাজার জনের একসঙ্গে নামাজ আদায়সহ আলাদাভাবে ৫ হাজার নারীর নামাজের ব্যবস্থা রাখা হবে।
