জবাব দিতে না পারলেই পুরোনো বিতর্ক সামনে আনে ব্যর্থ শাসকেরা: পরওয়ার
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ‘পুরোনো রাজনৈতিক বিতর্ক তুলে জনদুর্ভোগের বাস্তব কারণ আড়াল না করে সরকারের উচিত জ্বালানি সংকট সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া।’
আজ রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।
গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘জনদুর্ভোগের কোনো ইস্যুর জবাব দিতে না পারলেই ব্যর্থ শাসকেরা পুরোনো রাজনৈতিক বিতর্ক সামনে আনেন। বর্তমান সরকার ও সরকারপ্রধানের মধ্যেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।’
আজ কিশোরগঞ্জে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘দেশে অনেক বিভ্রান্তকারী আছে, অনেক রটনাকারী আছে। এদের ব্যাপারে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। দেখতে হবে এরা অতীতে কী করেছে?’
কিশোরগঞ্জ স্টেডিয়ামে এ অনুষ্ঠানে জেলার নারীদের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের গুরুদের মধ্যে সম্মানী প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী।
সেখানে জামায়াতকে ইঙ্গিত করে একাত্তরে তাদের ভূমিকার কথা তুলে ধরে সরকারপ্রধান বলেন, ‘আমরা দেখেছি, ‘একাত্তরে তাদের ভূমিকা কী ছিল? ১৯৮৬ সালে তাদের ভূমিকা কী ছিল? ১৯৯৬ সালে তাদের ভূমিকা কী ছিল? আমরা দেখেছি, বিগত ১৭ বছর তাদের ভূমিকা… ১৭ বছরে জনগণের যে আন্দোলন সেই আন্দোলনে তাদের আমরা রাজপথে দেখিনি।’
এ প্রসঙ্গে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘দেশের এই কঠিন জনদুর্ভোগ আড়াল করতেই প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি কিছু অহেতুক বিতর্কের অবতারণা করেছেন। সরকারের গত ছয় মাসে দায়িত্ব পালনের যথেষ্ট সুযোগ থাকলেও বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যর্থতা ঢাকতে বিরোধীদলের ওপর সবকিছুর দায় চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘মানুষ যেসব পুরোনো রাজনৈতিক বিতর্ক আর পছন্দ করে না, মীমাংসিত অতীতের সেসব প্রসঙ্গ সাধারণত তখনই সামনে আনা হয়, যখন জনদুর্ভোগের কোনো ইস্যুর জবাব দেওয়ার মতো কিছু থাকে না।’
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, জামায়াত শুরু থেকেই সংসদে দায়িত্বশীল ও গঠনমূলক বিরোধীদলের ভূমিকা পালনের নীতি অনুসরণ করছে। বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় গত ২১ মে জাতীয় সংসদের জ্বালানি সংকট-সংক্রান্ত বিশেষ কমিটিতে বিরোধীদলের সদস্যরা লিখিতভাবে ১০ দফা সুপারিশ দেন। পরে ৭ জুন জ্বালানিমন্ত্রী তা সংসদে উপস্থাপন করেন।
‘মূল প্রশ্ন পরিকল্পনা আছে কী নেই, তা নয়; প্রশ্ন হলো—২১ মে থেকে সরকারের হাতে থাকা এই পরিকল্পনার কতটুকু বাস্তবায়ন হয়েছে’, বলেন তিনি।
৯০ দিনে ৬ উদ্যোগের প্রস্তাব
সংবাদ সম্মেলন থেকে তাৎক্ষণিক অগ্রগতির জন্য ৯০ দিনের মধ্যে ছয়টি উদ্যোগের নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে জামায়াত।
এগুলো হলো—দ্রুত ফলদায়ক গ্যাসকূপে ওয়ার্কওভার, বন্ধ ও কম উৎপাদনশীল কূপের তালিকা প্রকাশ, স্থায়ী পাইপলাইন না হওয়া পর্যন্ত ভোলার গ্যাস সিএনজি/এলএনজি আকারে পরিবহন বাড়ানো, সিস্টেম লস ও অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে সাপ্তাহিক অগ্রগতি প্রকাশ, শিল্প-বিদ্যুৎ-সার-আবাসিক খাতে গ্যাস বণ্টনের প্রকাশ্য সময়সূচি এবং এসপিএম ও ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা দ্রুত কার্যকর করা।
বাস্তবায়নের গতি বাড়াতে জরুরি জ্বালানি সেল গঠন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন শুরুর সময় ও শুল্কহার স্পষ্ট করা, দরপত্র মূল্যায়নে স্থায়ী ব্যবস্থা এবং প্রকল্প তদারকিতে একক কর্তৃপক্ষ নিয়োগেরও প্রস্তাব দিয়েছে দলটি।
পরওয়ার বলেন, ‘এলএনজি আমদানির ব্যয়, দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ চুক্তি ও প্রয়োজনীয় পাইপলাইন নিশ্চিত না করে শুধু নতুন টার্মিনাল নির্মাণকে সংকটের সমাধান হিসেবে দেখা বাস্তবসম্মত নয়।’
জরুরি সংসদ অধিবেশন চায় জামায়াত
জ্বালানি সংকট নিয়ে আলোচনার জন্য জাতীয় সংসদের জরুরি বিশেষ অধিবেশন আহ্বানের দাবিও জানিয়েছে জামায়াত। গত ১৪ আগস্ট দলের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান এ দাবিতে রাষ্ট্রপতির কাছে চিঠি দিয়েছেন এবং এর অনুলিপি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
পরওয়ার বলেন, ‘এখন পর্যন্ত এ দাবির কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। সরকার কার্যকর, স্বচ্ছ ও বৈজ্ঞানিক উদ্যোগ নিলে দায়িত্বশীল বিরোধীদল হিসেবে জামায়াত সহযোগিতা করবে এবং ৯০ দিন পর সরকারের কাছে অগ্রগতির হিসাব চাইবে।’