হঠাৎ বৃষ্টিতে ডুবে গেছে দীঘিনালার নিম্নাঞ্চল, সড়ক ধসে যানচলাচল বন্ধ

নিজস্ব সংবাদদাতা, খাগড়াছড়ি

খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার নিম্নাঞ্চল হঠাৎ বৃষ্টিতে ডুবে গেছে। এছাড়া খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা সড়কের দুটি পয়েন্টে পাহাড়ধসের কারণে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

আজ শনিবার সকালে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, খাগড়াছড়ির দীঘিনালার মেরুং, কবাখালী, হামতলী ও বোয়ালখালী এলাকার নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

দীঘিনালা-মেরুং সড়কের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। ডুবে গেছে আমনের খেত, অনেক এলাকায় পানি বেড়ে যাওয়ায় ঘর-বাড়িতে পানি প্রবেশ করেছে।

আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের বেলুন মেকার সুভূধি চাকমা দ্য ডেইলি স্টারকে জানিয়েছেন, গতকাল রাত ৯টা থেকে আজ ভোররাত ৩টা পর্যন্ত ১০৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

‘চলতি বর্ষা মৌসুমে এই প্রথম স্বল্প সময়ে এত বৃষ্টি হলো,’ বলেন তিনি।

যোগাযোগ করা হলে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘এই বৃষ্টিকে বলা হয় শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি (অরোগ্রাফিক রেইন)।’

তিনি বলেন, ‘প্রচুর পরিমাণে জলীয়বাষ্প নিয়ে আসা আর্দ্র বাতাস পাহাড়ে বাধা পেয়ে উপরের দিকে উঠে যায়। এরপর গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা তৈরি করে বৃষ্টি ঝরায়। এতে স্বল্প সময়ে অনেক বৃষ্টি হয়। দীঘিনালায় সেটাই হয়েছে।’

‘গতকাল গাণিতিক মডেল বিশ্লেষণ করে আমরা এ রকম বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছিলাম চট্টগ্রাম, কক্সবাজার রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়িতে মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বৃষ্টি হতে পারে,’ যোগ করেন তিনি।

দীঘিনালার জামতলী এলাকার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘রাতে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। সকালে উঠে দেখি ঘরে পানি ঢুকে গেছে। গত মাসের শুরুতে বন্যার সময় আমাদের বাসায় পানি ঢোকেনি।’

খাগড়াছড়ি সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সৌম্য তালুকদার বলেন, ‘খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা সড়কের ৫ মাইল ও ৯ মাইল এলাকায় সড়ক ধসে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। ইতোমধ্যে মাটি সরানোর কাজ শুরু হয়েছে।’

যোগাযোগ করা হলে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী নুসরাত জাহান জেরিন ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘দীঘিনালায় হঠাৎ অনেক বৃষ্টির তথ্য আমরা পেয়েছি। তবে আকস্মিক বন্যার কোনো সম্ভাবনা আমরা দেখছি না।’