সুগন্ধি চাল রপ্তানিতে ৫০ শতাংশ কোটা কমাল সরকার
দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে চালের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সম্ভাব্য মূল্যচাপ নিয়ন্ত্রণে সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমোদিত কোটা ৫০ শতাংশ কমিয়েছে সরকার।
আজ মঙ্গলবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি-২ শাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, আগে অনুমোদিত ২৭৮টি প্রতিষ্ঠানের জন্য বরাদ্দ করা সুগন্ধি চাল রপ্তানির পরিমাণ অর্ধেকে পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।
সংশোধিত বরাদ্দ অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং অনুমোদনের মেয়াদ ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত বহাল থাকবে বলেও প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।
সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে বড় খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে মাঝারি ও ক্ষুদ্র পর্যায়ের রপ্তানিকারকরাও আগের অনুমোদিত পরিমাণের অর্ধেক সুগন্ধি চাল রপ্তানি করতে পারবেন।
সরকারের নীতিগত অবস্থান হলো—রপ্তানি থেকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন গুরুত্বপূর্ণ হলেও খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ বাজারের সরবরাহ ও মূল্যস্থিতিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
এ বিবেচনায় সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমোদিত কোটা কমানোর পাশাপাশি রপ্তানির মূল্য, পরিমাণ, নথিপত্র ও বৈদেশিক মুদ্রা প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে কঠোর শর্ত আরোপ করা হয়েছে।
সরকারের এ উদ্যোগের লক্ষ্য রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ করা নয়; বরং খাদ্য নিরাপত্তা ও বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রেখে নিয়ন্ত্রিত ও টেকসইভাবে সুগন্ধি চাল রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালনা করা।
রপ্তানিতে ১০ বাধ্যতামূলক শর্ত
কোটা কমানোর পাশাপাশি রপ্তানি কার্যক্রমে নজরদারি, জবাবদিহি ও বৈদেশিক মুদ্রা প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে ১০টি শর্ত আরোপ করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
শর্ত অনুযায়ী, রপ্তানিকারকদের রপ্তানি নীতি ২০২৪-২৭ এর বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। প্রতিটি চালান রপ্তানির আগে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ পণ্যের মান ও সত্যতা যাচাই করবে। চালান জাহাজীকরণের পর সংশ্লিষ্ট নথিপত্র বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি-২ শাখায় জমা দিতে হবে।
ভবিষ্যতে নতুন রপ্তানি অনুমোদনের আবেদন করলে আগের অনুমোদিত কোটার বিপরীতে প্রকৃত রপ্তানির পূর্ণাঙ্গ তথ্য ও প্রমাণ দিতে হবে। কোনো অবস্থাতেই সংশোধিত অনুমোদিত পরিমাণের বেশি চাল রপ্তানি করা যাবে না।
আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের মূল্য সুরক্ষায় জাহাজে তোলার পর্যায় পর্যন্ত সর্বনিম্ন ফ্রি অন বোর্ড (এফওবি) রপ্তানিমূল্য প্রতি কেজি ১ দশমিক ৬০ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। অনুমোদন সম্পূর্ণ অহস্তান্তরযোগ্য হওয়ায় সাব-কন্ট্রাক্ট বা অন্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে রপ্তানি করা যাবে না।
এছাড়া জনস্বার্থে সরকার যেকোনো সময় কারণ দর্শানো ছাড়াই অনুমোদন বাতিল করতে পারবে। রপ্তানি আয় দেশে প্রত্যাবাসনের প্রমাণ হিসেবে পিআরসি (প্রসিডস রিয়েলাইজেশন সার্টিফিকেট) দাখিলও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
এর আগে দুই দফায় ২৭৮টি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে মোট ৪৫ হাজার ২৭০ টন সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমতি দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
তবে চলতি বছরের ৩০ আগস্ট পর্যন্ত ১২৯টি প্রতিষ্ঠান মাত্র ২ হাজার ৪১৯ টন সুগন্ধি চাল রপ্তানি করতে পেরেছে।