মৃত্যুর আগে মুক্তিযোদ্ধা স্বামীর নাম গেজেটে দেখতে চান নূরজাহান

নিজস্ব সংবাদদাতা, টাঙ্গাইল

‘আর কত জায়গায় যেতে হবে? কার হাত ধরতে হবে? কে আমার জন্য বিনা পয়সায় এই কাজটা করে দেবে? শুনেছি অনেক ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার নামও সরকারি গেজেটে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। অথচ আমার স্বামীর কাছে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী ও জেনারেল আতাউল গনি ওসমানীর স্বাক্ষরিত সনদ থাকা সত্ত্বেও তার নাম কখনো গেজেটে ওঠেনি।’

কথাগুলো বলতে বলতে চোখের পানি মুছছিলেন নূরজাহান বেগম। তার একটাই চাওয়া, মৃত্যুর আগে যেন প্রয়াত স্বামী মতিয়ার রহমানের নাম মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সরকারি গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

নূরজাহান টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার ইসপিনজারপুর গ্রামের বাসিন্দা। তার স্বামী মতিয়ার রহমান প্রায় ২৩ বছর আগে মারা গেছেন। এরপর থেকেই স্বামীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতির জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র নিয়ে বিভিন্ন দপ্তর ও ব্যক্তির কাছে ঘুরছেন তিনি।

তবে আর্থিক সংকটের কারণে সেই চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্য প্রায় নেই বললেই চলে। তার তিন ছেলে বেকার। অর্থাভাবে তাদের পড়াশোনাও বেশি দূর এগোয়নি।

নূরজাহান জানান, স্বামীর মুক্তিযোদ্ধা সনদসহ বিভিন্ন নথিপত্র নিয়ে তিনি অনেকের কাছে গেছেন। কিন্তু কাজটি করে দেওয়ার জন্য অনেকে তার কাছে টাকা চেয়েছেন। কেউ তাকে বিনা খরচে সহযোগিতা করেননি।

একপর্যায়ে এক মুক্তিযোদ্ধা তার স্বামীর নাম গেজেটে অন্তর্ভুক্তির ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত তিনিও কাজটি করে দিতে পারেননি।

সম্প্রতি নূরজাহান জানতে পারেন, সরকারি গেজেটে মুক্তিযোদ্ধাদের নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য আবারও আবেদন নেওয়া হচ্ছে। গত শনিবার সকালে এ খবর পাওয়ার পর তার মনে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়। তবে কোথায় এবং কীভাবে আবেদন করতে হবে, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তায় রয়েছেন তিনি।

নূরজাহান বলেন, ‘আমার পরিবারে এমন কেউ নেই, যে আমার হয়ে আবেদনটা জমা দিতে পারবে। এসব বিষয়ে আমারও তেমন জানা নেই। এমনকি কার কাছে গেলে কাজটা হবে, সেটাও জানি না।’

তিনি বলেন, ‘সরকারের কাছে আমার অনুরোধ, তারা যেন আমার জন্য এই কাজটা করে দেন। মৃত্যুর আগে আমি আমার স্বামীর বীরত্বের স্বীকৃতি গেজেটে দেখে যেতে চাই।’

ইসপিনজারপুর গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সামাদ তারা বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি আমাদের সঙ্গেই ছিলেন। অত্যন্ত দুঃখজনক যে, এত বছর পেরিয়ে যাওয়ার পরও তার নাম গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনবাড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুরজাহান আক্তার সাথী দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, তিনি এ বিষয়ে কিছু জানেন না।

তিনি বলেন, ‘আমার কাছে আসলে আমি যাচাই-বাছাই করে দেখব কী করা যায়।’