রাত থেকে ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা, শেষদিনে জেলেদের তোরজোড়

সুশান্ত ঘোষ
সুশান্ত ঘোষ

প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় নদী ও সাগরে ২২ দিন মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা শুরু হচ্ছে আজ বুধবার মধ্যরাত থেকে। এ সময় ইলিশ পরিবহন, মজুত, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রয়ও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞার সময় অভিযান সফল করতে বরিশাল বিভাগীয় প্রশাসন সব পর্যায়ের প্রশাসনিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সভা করেছে।

নিষেধাজ্ঞার সময় অভিযান সফল করতে আজ দুপুরে বরিশাল নগরীর সার্কিট হাউসে বিভাগীয় মৎস্য পরিচালক কামরুল হাসানের সভাপতিত্বে সভাটি হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বরিশাল বিভাগের কমিশনার মো. খলিলুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘ইলিশ আমাদের জাতীয় সম্পদ। যেকোনো মূল্যে ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে হবে।’

এদিকে, অভিযানের আগেই ভোলার নদী ও সমুদ্র মোহনা থেকে মাছ ধরার ট্রলার ও নৌকা ফিরে আসতে শুরু করেছে।

ভোলা খেয়াঘাটে ফিরে আসা জেলে মাইনুদ্দিন বলেন, ‘এবার নদী ও সমুদ্রে ইলিশ পাওয়া যায়নি। তারপরও নিয়ম করে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। মহাজনের কাছ থেকে ধারকর্জ করে আমরা সংসার চালিয়েছি। ইলিশ পেয়ে মনে করেছিলাম, সেই ধার শোধ করব। কিন্তু এখন সে উপায় নেই। মাছ না থাকলেও নিষেধাজ্ঞা রয়ে গেছে।’

কর্মহীন জেলেদের জন্য সরকারি সহায়তা দ্রুত বিতরণের দাবি জানান তিনি।

নিষেধাজ্ঞার আগে কীর্তনখোলা নদীতে শেষবারের মতো মাছ ধরছেন জেলেরা। ছবি: টিটু দাস/স্টার

বিভাগীয় মৎস্য কর্মকর্তা কামরুল হাসান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, বরিশাল বিভাগের হিজলা, মেহেন্দিগঞ্জ, মনপুরা, চরফ্যাশন, দৌলতখান, গলাচিপাসহ বিভিন্ন উপজেলায় মৎস্য কর্মকর্তা নেই। নতুন করে ইলিশের অভয়াশ্রম হিজলা ও মেহেন্দিগঞ্জে দুজন কর্মকর্তা পদায়ন করা হয়েছে। এছাড়া উপসহকারী কর্মকর্তাদের এসব পদে সংযুক্ত করা হয়েছে।

‘তবে এবার বাজেট বরাদ্দ কম থাকায় নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। মনে হয়, অভিযানের মধ্যে রাজস্ব খাত থেকে হলেও বরাদ্দ দেওয়া হবে’, বলেন তিনি।

ছবি: টিটু দাস/স্টার

 

বরিশাল বিভাগীয় ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি ইসরাইল পণ্ডিত বলেন, এনজিওর ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে গিয়ে অসংখ্য জেলে বিপাকে রয়েছেন। তাদের জন্য ভিজিএফ হিসেবে ২৫ কেজি চালের বরাদ্দ একেবারেই সামান্য। আমরা ১০০ কেজি চাল বরাদ্দের দাবি জানাই।

বিভাগীয় মৎস্য অফিস জানিয়েছে, এবার সারাদেশে ৬ লাখ ৪৬ হাজার ২৯০ জেলেকে ২৫ কেজি করে চাল দেওয়ার জন্য ১৬ হাজার ১৫৭ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বরিশাল বিভাগের ৩ লাখ ৫৮ হাজার ৫১৬ জেলের জন্য ৮ হাজার ৯৬২ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

বরিশাল বিভাগের মধ্যে ভোলায় সর্বোচ্চ ১ লাখ ৬৮ হাজার নিবন্ধিত জেলেসহ জেলায় দুই লক্ষাধিক জেলে রয়েছেন। এর মধ্যে নিষেধাজ্ঞাকালীন সহায়তা হিসেবে কর্মহীন ১ লাখ ৪৩ হাজার ৬ জন জেলের জন্য ৩ হাজার ৫৯০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দিয়েছে সরকার।