সেতু ভবনে আগুনে জড়িতদের সিসি ফুটেজ দেখে ধরা হচ্ছে: হারুন
কোটা সংস্কার আন্দোলনের নামে ঢাকা মহানগরীতে সরকারি স্থাপনায় ভাঙচুর, সহিংসতা ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড হয়েছে উল্লেখ করে এসব ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।
আজ বুধবার নিজ কার্যালয়ে তিনি এ কথা বলেন।
মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন, আমাদের হাতে আসা সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে যে কে কীভাবে আগুন লাগায় এবং মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এই ঘটনায় জড়িত অনেকের নাম-পরিচয় পাওয়া গেছে। সবাইকে গ্রেপ্তার করা হবে।
মহাখালী সেতু ভবনে ঢুকে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া ও লুটপাটের ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তারের পর তিনি এই কথা জানালেন।
গ্রেপ্তার দুজন হলেন—জজ মিয়া ও মো. রাকিব (২২)। গতকাল দিনগত রাতে মহাখালী থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ডিবি প্রধান বলেন, আন্দোলনের নামে ঢাকা শহরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ এবং লুটপাট করা হয়েছে। মনোবল ভেঙ্গে দেওয়ার জন্য পুলিশকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা ও আহত করেছে। তথ্যপ্রযুক্তি ডেটা সেন্টারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা চালানো হয়। হামলার রসদ সরবরাহ করার তথ্যপ্রমাণ আমাদের হাতে আছে।
'মহাখালীর সেতু ভবনে জামায়াত-শিবির ও বিএনপির কিছু নেতা টাকা-পয়সা দিয়ে সাততলা বস্তি এবং কুড়িল বস্তিসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন সংগ্রহ করেছে। এরপর মহাখালীতে জড়ো হয়ে ইটপাটকেল শুরু করে। পরবর্তীতে তারা সেতু ভবনে ঢুকে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং লুটপাট চালায়।'
তিনি আরও বলেন, 'আমাদের হাতে আসা সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে তারা কীভাবে আগুন লাগায় এবং মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এই ঘটনায় জড়িত অনেকের নাম-পরিচয় পেয়েছি।
হারুন অর রশীদ বলেন, গ্রেপ্তারদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের সাত নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তারা হলেন—ঢাকা উত্তর যুবদলের সাবেক সভাপতি এসএম জাহাঙ্গীর, বিএনপি নেতা বরকতুল্লা বুলুর ছেলে সানিয়াত বুলু, মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সহ-সভাপতি মোশারফ হোসেন খোকন ওরফে কাইল্লা খোকন, কৃষকদলের সহ-সভাপতি নাসির উদ্দিন, ছাত্রদলের সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান দয়াল, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা এসএম কামাল উদ্দিন ও ভাটারা থানার আমির রেজাউল করিম।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে হারুন অর রশীদ বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলন চলছে। পুলিশকে হত্যা, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, ডেটা সেন্টার, বিটিভি, আমাদের গর্বের মেট্রোরেলে হামলা করেছে। সব জায়গায় গান পাউডার দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছে। তারা ৭১ সালের মতো পুরোনো দিনে ফিরে গেছে। তারা চেয়েছিল সরকার উৎখাত করতে... আমরা সবার নাম-পরিচয় পেয়েছি। তারা কীভাবে কার মাধ্যমে গান পাউডার ও অস্ত্র এনেছে বের করা হবে।
'তারা পুলিশ মারার জন্য ও আগুন দেওয়ার জন্য টাকা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। কে নির্দেশনা দিয়েছে, কারা অর্থায়ন করেছে—সব বের করা হবে', যোগ করেন তিনি।