প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ ও প্রতিবেদকের বক্তব্য

'হিন্দু বাড়িতে হামলা চালিয়ে সর্বস্ব লুটের অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে' শিরোনামে গত ৩ অক্টোবর দ্য ডেইলি স্টার বাংলায় একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এই প্রতিবেদনের প্রতিবাদ জানিয়েছেন অভিযুক্ত বিএনপি নেতা মো. ইদ্রিস মিয়া।

প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, 'আমি মো. ইদ্রিস মিয়া, সাবেক বিএনপি মনোনীত নির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান। গত ৩ অক্টোবর ২০২৪ দ্য ডেইলি স্টার বাংলা অনলাইন সংস্কারনে "হিন্দু বাড়িতে হামলা চালিয়ে সর্বস্ব লুটের অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে" মর্মে প্রকাশিত সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।'

'আমি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছি, এমনকি গত ৪ আগস্ট আন্দোলনে ৩৭টি গুলিবিদ্ধ হয়েছি। এখনো পর্যন্ত ১৫টি গুলি আমার শরীরে বিদ্যমান রয়েছে। কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে আমি গত ৪ আগস্ট চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছিলাম। এই ঘটনার সাথে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।'

'আমি যতদূর জানি, ঘটনার দিন আওয়ামী প্রভাবশালী নেতা (সফল বর্মণ) বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে কঠোর বিরোধিতা করেছিলেন এবং তিনি আর্থিকভাবে সহায়তা করেছেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালীন তিনি নানাভাবে সাধারণ ছাত্রদেরকে মারধরের হুমকি ও বাধা প্রদান করেন। যার জন্য গত ৫ আগস্ট স্বৈরাচার সরকার পতনের পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা তার বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করে। স্বৈরাচার সরকারের পতনের আভাষ পেয়ে সে ৪ আগস্ট পরিবার নিয়ে রাতের আধারে পালিয়ে যায়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে কিশোরগঞ্জ সদর থানায় (সফল বর্মণ) ৪৩ নং এজহারভুক্ত আসামি।'

'হিন্দু বাড়িতে হামলা চালিয়ে সর্বস্ব লুটের অভিযোগ ভিডিও বা উপযুক্ত প্রমাণ থাকলে আমার ওপরে আনা অভিযোগ আমি মেনে নিব। কিন্তু প্রমাণ দেখাতে না পারলে আমি আমার উপরে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশের জন্য প্রতিবেদকের বিরুদ্ধে আপনার প্রতিষ্ঠান ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে অন্যথায় আমি আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।'

'অতএব, প্রকাশিত সংবাদের বিরুদ্ধে আমার লিখিত প্রতিবাদটুকু আপনার পত্রিকায় প্রকাশের জন্য বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।'

প্রতিবেদকের বক্তব্য

থানায় দায়ের করা মামলা, কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে দেওয়া লিখিত অভিযোগ, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বরাবর দেওয়া লিখিত অভিযোগ এবং সরেজমিন প্রাপ্ত তথ্য ও স্থানীয়দের বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

কিশোরগঞ্জ সদর থানায় গীতা রাণী বর্মনের দায়ের করা মামলায় রশিদাবাদ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ইদ্রিস মিয়ার বিরুদ্ধে তার বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ এবং স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা, আসবাবপত্রসহ সর্বস্ব লুট করে নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনেও একই অভিযোগের বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।

সাবেক এই চেয়ারম্যানের ভয়ে ওই হিন্দু পরিবারের সদস্যরা এখনো পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বলেও মামলায় উল্লেখ রয়েছে। তাছাড়া ওই পরিবারের সদস্যদের দেশ ছাড়া করার পাশাপাশি হত্যার হুমকির বিষয়টিও মামলায় উল্লেখ আছে। অর্থাৎ মামলা ও লিখিত অভিযোগে উল্লিখিত বিষয়ের বাইরে এ সম্পর্কিত অতিরিক্ত কোনো তথ্য প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়নি।

গীতা রাণী বর্মনের বাড়িতে ইদ্রিস মিয়া ও তার লোকজন হামলা করেছেন মর্মে জানিয়েছেন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দাও। তাদের বক্তব্যের ভিডিও ফুটেজ দ্য ডেইলি স্টারের কাছে রয়েছে। তবে তাদের নিরাপত্তার স্বার্থে সেগুলো প্রকাশ করা হয়নি, এমনকি তাদের নামও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

দলীয় মনোনয়নে ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচন করা ইদ্রিস মিয়ার বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো উত্থাপিত হয়েছে সেগুলোর সত্যতা স্বীকার করেছেন খোদ জেলা বিএনপির একজন নেতা, যার বক্তব্য প্রতিবেদনে রয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে মন্তব্য জানার জন্য ইদ্রিস মিয়ার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়। কিন্তু হোয়াটসঅ্যাপে কল করা হলে তিনি তা রিসিভ করেন। ৩ অক্টোবর দুপুরে তার সঙ্গে প্রতিবেদকের কথা হয় এক মিনিট ১২ সেকেন্ড। অভিযোগ জানানোর পর এ বিষয়ে তিনি যা বলেছেন, সেটাই প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়েছে।