রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের প্রতিবাদে ওয়াকআউট: ৩ কারণ জানালেন জামায়াত আমির

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

রাষ্ট্রপতির বক্তব্য চলাকালে সংসদের অধিবেশন কক্ষ থেকে ওয়াকআউটের কারণ ব্যাখ্যা করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান। 

তিনি বলেন, তিনটি নির্দিষ্ট কারণে তারা রাষ্ট্রপতির বক্তব্য শুনতে চাননি এবং এর প্রতিবাদেই সংসদ থেকে বের হয়ে আসেন।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ ব্যাখ্যা দেন।

জামায়াত আমির বলেন, 'এই সংসদ শহীদদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। তবে আমাদের অনুরোধ ছিল—যারা অতীতের "ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর" ছিলেন এবং হত্যাকাণ্ডে সহযোগিতা করেছেন, তাদের যেন সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ না দেওয়া হয়।'

তিনি অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রপতি তিনটি কারণে ‘অপরাধী’, তাই তার বক্তব্য শুনতে চাননি বিরোধী দলের সদস্যরা।

শফিকুর রহমান বলেন, 'রাষ্ট্রপতি তার দায়িত্ব পালনকালে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডগুলোর বিরুদ্ধে কোনো প্রতিবাদ করেননি এবং কোনো ব্যবস্থা নেননি। এতে রাষ্ট্রের অভিভাবক হিসেবে নাগরিকদের প্রতি গুরুতর দায়িত্বহীনতা দেখানো হয়েছে।'

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণের প্রসঙ্গ তুলে জামায়াত আমির বলেন, 'তখন রাষ্ট্রপতি বলেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন এবং তিনি তা গ্রহণ করেছেন। কিন্তু পরে দুটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি তা অস্বীকার করে ভিন্ন বক্তব্য দেন। এতে তিনি জাতির সামনে "মিথ্যাবাদী" হিসেবে প্রমাণিত হয়েছেন।'

তিনি আরও বলেন, 'জুলাই অভ্যুত্থানের পর জারি করা একটি অধ্যাদেশে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সংসদ সদস্য ও সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে একই দিনে শপথ নেওয়ার কথা ছিল। আমরা দুটি শপথ নিলেও সরকারি দল তা নেয়নি এবং গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বানের দায়িত্বও রাষ্ট্রপতি পালন করেননি।'

'এ বিষয়ে গণভোটে ৭০ শতাংশ মানুষ প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন না করে রাষ্ট্রপতি জনগণের রায়কে অপমান করেছেন,' বলেন জামায়াত আমির।
বিরোধীদলীয় নেতা জানান, রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের আগে তারা সরকারি দল ও স্পিকারের কাছে অনুরোধ করেছিলেন যেন তাকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ না দেওয়া হয়। কিন্তু সেই অনুরোধ গ্রহণ করা হয়নি।

'এর প্রতিবাদেই আমরা সংসদ থেকে বের হয়ে এসেছি,' যোগ করেন তিনি।

তবে শফিকুর রহমান বলেন, এটি নির্দিষ্ট একটি ইস্যুতে প্রতিবাদ ছিল এবং ভবিষ্যতেও তারা সংসদে অংশ নেবেন।