পাকুন্দিয়ায় খাল খনন নিয়ে বিএনপির ২ পক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় খাল খনন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
আজ সোমবার সকাল ১১টার দিকে উপজেলার এগারসিন্দুর ইউনিয়নের দক্ষিণ খামা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
যুবদলের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা খন্দকার আল আশরাফ ওরফে মামুন ও কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য জালাল উদ্দিনের সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয় বলে জানা গেছে।
ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে বলে উভয়পক্ষ দাবি করেছে। তবে আহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আরিফুর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক কর্মসংস্থান সম্পাদক খন্দকার আল আশরাফ ওরফে মামুনের উদ্যোগে সকাল ৮টায় স্থানীয় গোলডুবা-খামা সংযোগ খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।
খননকাজ চলাকালে কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য জালাল উদ্দিনের সমর্থকরা সেখানে গেলে উত্তেজনা তৈরি হয় এবং একপর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে পাকুন্দিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রূপম দাস ও ওসি আরিফুর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
খাল খনন কর্মসূচির উদ্যোক্তা খন্দকার আল আশরাফ মামুন ডেইলি স্টারকে বলেন, 'প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়নের সময় বিএনপি নামধারী কিছু লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এতে আমাদের কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন।'
এ বিষয়ে সংসদ সদস্যের জালাল উদ্দিনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি খুরশিদ উদ্দিন ডেইলি স্টারকে বলেন, 'এই খাল সরকারিভাবে খননের জন্য আমরা এমপির কাছে আবেদন করেছিলাম। যারা খাল খনন করতে গেছে তারা নিজেদের জমি বাঁচাতে নামমাত্র পরিষ্কার করে ছবি তোলার জন্য এই কাজ করছে। খবর পেয়ে দেখতে গিয়েছিলাম। আমরা হামলা করিনি। উল্টো প্রতিপক্ষের লোকজনই আমাদের ওপর হামলা করেছে। আমাদের বেশ কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন।'
এ বিষয়ে সংসদ সদস্য ও পাকুন্দিয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জালাল উদ্দিন ডেইলি স্টারকে বলেন, 'কে বা কারা খাল খননের নামে আগাছা পরিষ্কার করছে সেটা আমার জানা নেই। আর যে উদ্যোক্তারা ব্যানার নিয়ে খনন কর্মসূচিতে এসেছেন, নির্বাচনে ধানের শীষের পক্ষে প্রচার-প্রচারণায় কখনো তাদের দেখা যায়নি। তারা খননের নামে লোক দেখাতে এসেছেন।'
'আজকের ঘটনায় আমার পক্ষের কোনো লোক ছিল না। এলাকাবাসী কর্মসূচিতে বাঁধা দিতে পারে,' যোগ করেন তিনি।
ওসি আরিফুর রহমান বলেন, 'এক পক্ষ খাল পরিষ্কার করতে এলে অন্য পক্ষ বাধা দেয়। এরপর উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।'
ইউএনও বলেন, 'খাল পরিষ্কার কর্মসূচি ঘিরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার খবর পেয়ে প্রশাসন ঘটনাস্থলে গেছে। বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।'