ড. ইউনূসকে মুখ খুলতে হবে, অর্জন ধরে রাখতে মাঠে নামতে হবে: নাহিদ ইসলাম
বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের অর্জন ধরে রাখতে হলে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ সব উপদেষ্টাদের মাঠে নামতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
পবিত্র ওমরাহ পালন শেষে আজ শনিবার হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে নেমে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এমন মন্তব্য করেন তিনি।
সংসদের বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ বলেন, 'বাংলাদেশে যা কিছু হচ্ছে সংস্কারকে কেন্দ্র করে এটা অপ্রত্যাশিত না। এই রাজনীতি ৫ আগস্টের পর থেকে, ঐকমত্য কমিশন থেকেই শুরু হয়েছে। ৫ আগস্টের পর দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছিল। আমরা বলেছিলাম নতুন সংবিধান, বিএনপি বলেছিল তারা নির্বাচন চায়। তারা পুরোনো সবকিছুকে রেখেই নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসতে চায় আমরা বলেছিলাম দেশের আমূল সংস্কার প্রয়োজন।'
'এখন দেখা যাচ্ছে নির্বাচনের পর বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ আসন পাওয়ার পর আর কিছুকে তোয়াক্কা করছে না। তারা গণভোটের গণরায় বাতিল করে দিয়েছে। এখন শুনতে পাচ্ছি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশের ১০-১১টি তারা সংসদে আনছেন না। তারা সেগুলোকে আইনে পরিণত করবেন না। এর মধ্যে অতি গুরুত্বপূর্ণ গুম প্রতিকার, মানবাধিকার কমিশন, বিচারপতি নিয়োগ অধ্যাদেশ রয়েছে। এগুলো বাতিল করে তারা আসলে স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা যেখানে নির্বাহী বিভাগের নিরঙ্কুশ ক্ষমতা ভোগ করতে চাচ্ছে,' বলেন তিনি।
'সামগ্রিকভাবে বিএনপি একটি সংস্কারবিরোধী দল' মন্তব্য করে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, 'গত ১৬ বছর তারা নির্যাতিত-নিপীড়িত হয়েছে, আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে। কিন্তু মানুষ তাদের আন্দোলনে সাড়া দেয়নি। কারণ তাদের নেতৃত্বে কখনো আস্থা ছিল না মানুষের।'
'আমরা সংসদে সমাধান চেয়েছিলাম। সংসদে যেহেতু উপযুক্ত সমাধান আমরা পাচ্ছি না, তাই রাজপথে অবস্থান নিতে হচ্ছে। আমরা চাই সংবিধান সংস্কার পরিষদ হোক, অধ্যাদেশগুলোকে আইনে পরিণত করা হোক। বিএনপি সরকার বুঝতে পারছে না যে সামনে অর্থনৈতিক মন্দা আসছে। এ অবস্থায় সরকারের ওপর যদি জনগণের আস্থা না থাকে, বিএনপি সরকার পরিচালনা করতে পারবে না,' বলেন তিনি।
ঢাকা-আসনের সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম বলেন, 'যারা অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বে ছিলেন ড. ইউনূস, আসিফ নজরুলসহ উপদেষ্টাদের দায়িত্ব নিতে হবে। তারা এই অধ্যাদেশগুলো করেছিলেন। এখন যে বাতিল হচ্ছে, এগুলো নিয়ে তাদের কথা বলতে হবে। ড. ইউনূসকে মুখ খুলতে হবে। তারা ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করে বিএনপির হাতে ক্ষমতা দিয়ে চলে গেছে। এখন এই অধ্যাদেশগুলো বাতিল হয়ে যাবে, সংস্কার হবে না, তারা কোনো কথা বলবে না, ক্যারিয়ারে ফিরে যাবে—এটা হবে না। জনগণের কাঠগড়ায় তাদের দাঁড়াতে হবে।'
'মানুষের রক্তের ওপর দিয়ে আমরা তাদের ক্ষমতা দিয়েছিলাম। তারা আমাদের নিরাশ করেছে। কিন্তু যতটুক অর্জন সেসময় হয়েছে, সেই অর্জন ধরে রাখতে তাদেরও মাঠে নামতে হবে। ড. ইউনূসকেও আমি রাজপথে বিক্ষোভে নামার আহ্বান জানাচ্ছি,' বলেন তিনি।