দুদেশের মানুষ চায় বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে সোনালি অধ্যায় শুরু হোক: ভারতের হাইকমিশনার
ভারত ও বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ মনে করে, দুই দেশের সম্পর্কে সোনালি অধ্যায় শুরু হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।
আজ বুধবার সকালে সচিবালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
এর আগে তিনি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আহমেদ আযম খানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
দুদেশের সাধারণ মানুষের উন্নয়নে নানা বিষয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে ভারতের হাইকমিশনার বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের ব্যাপারে তিনি খুবই ইতিবাচক।
‘দুই দেশের আগ্রহ আছে। যখনই একটু কথা হয় যে প্রধানমন্ত্রীর সফর...সবাই আগ্রহী হয়। দুই দেশেই। তার মানে কী? তার মানে এটা ভালো সংবাদ। দুই দেশের সাধারণ মানুষ; আমি পলিটিক্যাল মানুষের কথা বলছি না, আমি সরকারের কথা বলছি না, সাধারণ মানুষ এটা চায়। এই জন্য নিউজ হচ্ছে, না হলে নিউজ কেন হবে,’ প্রশ্ন রাখেন তিনি।
দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘আমি একটাই কথা বলি, পরিবেশ খুবই ইতিবাচক। দুদেশের প্রধানমন্ত্রীকে সুবিধাজনক সময় দিতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘চ্যালেঞ্জে থাকবে। আমরা যদি মনে করি যে কোনো চ্যালেঞ্জ নাই, ওটা ভুল হবে। তা সত্ত্বেও যখন তারা (তারেক রহমান ও নরেন্দ্র মোদি) বসবেন, এমন কোনো প্রশ্ন নেই যার সমাধান পাওয়া যাবে না।’
‘দুই দেশের মানুষ চায় তারা বসবেন এবং সম্পর্ক এগিয়ে যাবে,’ যোগ করেন তিনি।
আপনি দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রতিমন্ত্রী থেকে শুরু করে মন্ত্রী ও সরকারি উচ্চপদস্থ অনেকের সঙ্গে অনেকগুলো বৈঠক করেছেন, ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে আপনি কতটা আশাবাদী—জানতে চাইলে ভারতের হাইকমিশনার বলেন, ‘আশা না হলে তো জীবন থাকবে না! আমি একদম আশাবাদী, মানে শতভাগ আশাবাদী।’
‘মানুষ এটাই মনে করে যে দুদেশের সম্পর্কে একটি সোনালি অধ্যায় শুরু হওয়া উচিত,’ বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের মাস-তারিখ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি বলেও আরেক প্রশ্নের জবাবে বলেন তিনি।
ভারতের হাইকমিশনার বলেন, ‘এটা নিশ্চিত, এই সফর হবে। তাড়াহুড়ো করলে কারও কোনো লাভ নেই। বরং এটা নিশ্চিত করা দরকার যথাযথ প্রস্তুতি আছে। অনেক জিনিসের কথাবার্তা তো হতে হবে। ট্রেড, কমার্স, ওয়াটার, অনেক কিছু আছে।’
ভারতের নিরাপত্তা উপদেষ্টার বাংলাদেশ সফরে জুলাই অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘দেখুন, কোনো পলিটিক্যাল বিষয়ে কথা এখানে বলতে চাই না।’
এর আগে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতা স্তম্ভ নিয়ে কথা বলেন আহমেদ আযম খান। তিনি বলেন, এ নিয়ে একটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ সঠিক নয়।
আযম বলেন, ‘এটা নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে একটা আলোচনা ছিল যে ওখানে কী করা যায়। আমরা সেটি নিয়ে কোনো ভাবছি না। স্বাধীনতা স্তম্ভের যে মূল চেতনা, এটা কীভাবে আমরা বাস্তবায়ন করতে পারি, আমাদের সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী, সেটা নিয়ে আমরা ভাবছি এবং সেটা নিয়েই কাজ করব।’
‘পত্রিকায় যেটা এসেছে যে সারেন্ডারের পরিবর্তে ফোয়ারা এগুলো একদমই সঠিক না,’ যোগ করেন তিনি।
এ নিয়ে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
নকশা অপরিবর্তিত থাকছে কি না জানতে চাইলে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, ‘এখনো এটা নিয়ে আমরা কাজ করিনি। এ বিষয়ে আমরা সক্রিয় চিন্তা করছি।’
‘অপরিবর্তিত না পরিবর্তিত, এই যে মন্তব্যটা এসেছে পত্রিকায়, এটা সঠিক নয়। যা হবে আপনারা সেটা ভবিষ্যতে দেখতে পাবেন,’ বলেন আযম।
যা আছে মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে
বর্তমান নির্বাচিত বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ৭ মার্চের ভাষণ ও পাকিস্তানের আত্মসমর্পণের স্থানে ভাস্কর্যের বদলে পানির ফোয়ারা বসানোর কোনো সিদ্ধান্ত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে নেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে বিডিনিউজ২৪ডটকম-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনটি সঠিক নয়। তবে এ বিষয়ে বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে কিছু চিন্তা-ভাবনা ও পরামর্শ থাকতে পারে।
বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর জাতীয় স্বার্থে অন্যান্য বিভিন্ন কাজের পাশাপাশি ‘স্বাধীনতা স্তম্ভ’ প্রকল্প নিয়েও গভীরভাবে চিন্তাভাবনা ও পর্যালোচনা করছে এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। অলোচনা-পর্যালোচনা শেষে যথাসময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে এবং দেশবাসীকে তা অবহিত করা হবে।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় দৃঢ়তার সঙ্গে সবাইকে আশ্বস্ত করছে যে, নির্মাণাধীন স্বাধীনতা স্তম্ভে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সঠিকভাবে উপস্থাপন করা হবে। তাই প্রকাশিত সংবাদে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে।