বদলির আগে ব্যস্ত এলাকায় বাস কাউন্টার অনুমোদন সিএমপি কমিশনারের
বদলি হয়ে চট্টগ্রাম ছাড়ার আগে শেষ মুহূর্তে দামপাড়া পুলিশ লাইনস সংলগ্ন ব্যস্ত সড়কের পাশের একটি দোকানকে এস আলম বাস সার্ভিসের জন্য কাউন্টার হিসেবে বরাদ্দ দিয়েছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার হাসিব আজিজ।
নগরীর ওয়াসা–দামপাড়া এলাকায় সিএমপি পুলিশ লাইনসের পূর্ব পাশে অবস্থিত স্থাপনার দোকানগুলো থেকে এই বরাদ্দ দেওয়া হয়।
তবে সিএমপির দাবি, বেশি ভাড়া পাওয়ায় এবং রাস্তার পাশে একটির বেশি বাস পার্কিং না করার শর্তে এই বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজকে অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) প্রধান করে বদলি করা হয়েছে। সিএমপির কমিশনার হিসেবে হাসান মো. শওকত আলীকে নিয়োগ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
কাউন্টার বরাদ্দের বিষয়টি নিয়ে ট্রাফিক বিভাগে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট অনেকে বলছেন, ব্যস্ত সড়কের একেবারে পাশে বাস কাউন্টার হলে যানজট ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়বে। এটি আরও যাচাই-বাছাই করা দরকার ছিল।
সিএমপি সূত্র জানায়, পুলিশ লাইনসের পাশের ফুট-ওভারব্রিজ পার হলেই পূর্ব পাশের সীমানা প্রাচীর-সংলগ্ন ফুটপাতের ধারে প্রায় ৮-১০টি দোকান রয়েছে, যেগুলো ভাড়ার ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। এসব দোকানের মাসিক ভাড়া ৩০ হাজার থেকে এক লাখ টাকার বেশি।
আগে সেখানে ‘আরবার স্মুদি’, ‘বাসনওয়ালা’, ‘বেবি বার্ড’, ‘নিউ পিঠা শপ’ ও ‘প্রাচীন ক্রিয়েশন’ নামে প্রতিষ্ঠান ছিল। এর মধ্যে ‘বেবি বার্ড’ দোকানটির আয়তন সবচেয়ে বড়। বর্তমানে একটি ছাড়া বাকি সব দোকান খালি। বড় দোকানটি এস আলম বাস সার্ভিসের নামে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
এলাকাটির কিছু দূরে সিএমপির ‘পুনাক সেন্টার’ এবং তার পাশে ‘হ্যান্ডি রেস্টুরেন্ট’ রয়েছে। আরও সামনে গরীবুল্লাহ শাহ মাজার পর্যন্ত বিভিন্ন পরিবহন কোম্পানির বাস কাউন্টার রয়েছে, যেগুলো সিএমপির এস্টেট বিভাগের অধীন।
সিএমপি সূত্র জানায়, নতুন করে দোকান বরাদ্দের জন্য কিছুদিন আগে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছিল। আবেদনকারীদের যাচাই-বাছাই শেষে এস আলম বাস সার্ভিসকে নির্বাচিত করা হয়।
সোমবার এস্টেট বিভাগের সভায় মাসিক দুই লাখ টাকা ভাড়ায় এই বরাদ্দ অনুমোদন দেওয়া হয়। পাশাপাশি এক বছরের জামানতও নেওয়া হচ্ছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও ট্রাফিক) ওয়াহিদুল হক চৌধুরী দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আমরা শুধু একটি স্থাপনা বরাদ্দ দিয়েছি। অন্য আবেদনকারীরাও ছিল। তবে বেশি ভাড়া পাওয়ায় তাদেরই (এস আলম বাস) দেওয়া হয়েছে।’
যানজটের বিষয়টি তুলে ধরলে তিনি বলেন, ‘তাদের শর্ত দেওয়া হয়েছে, একটির বেশি বাস রাখা যাবে না। অন্য বাস কাউন্টারগুলোর সামনেও সাধারণত একটি করে বাস থাকে। যানজট হবে না। কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে উত্তর বিভাগের ট্রাফিক বিভাগের কয়েকজন ট্রাফিক সার্জেন্ট জানান, ওয়াসা মোড়ে ‘মেরিডিয়ান-কোহিনুর সিটি’ নামে একটি নতুন মার্কেট হয়েছে। এর পাশে রয়েছে বাওয়া স্কুল। এ ছাড়া, নবনির্মিত ফ্লাইওভারের র্যাম্প নামার কারণে হোটেল পেনিনসুলার সামনে থেকে লালখান বাজারমুখী সড়কে নিয়মিত যানজট থাকে। ওয়াসা মোড় থেকে জিইসি পর্যন্ত এলাকায় অসংখ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থাকায় অফিস সময়ে উভয় পাশেই তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। আবার সড়কের পাশে অনেকেই পার্কিং করে রাখেন। সার্বিক বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত সঠিক হয়নি।
এস আলম বাস সার্ভিসের চট্টগ্রাম অঞ্চলের কাউন্টার ইনচার্জ সেলিম রেজা দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আমরা প্রস্তাব জমা দিয়েছি। একটি দোকান নেওয়ার জন্য আবেদন করেছিলাম এবং এ বিষয়ে সভাও হয়েছে। সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে পুরোপুরি নিশ্চিত নই।’