চট্টগ্রামে গ্যাসের সংকট, চুলা না জ্বলায় খেতে হচ্ছে রেস্তোরাঁর খাবার

অরুণ বিকাশ দে
অরুণ বিকাশ দে

তীব্র গ্যাস-সংকটে বিপাকে পড়ছেন চট্টগ্রামের সাধারণ মানুষ। অনেকের বাড়িতে রান্নার গ্যাস না থাকায় বাধ্য হয়ে রেস্তোরাঁর খাবারের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে বাসিন্দাদের। এমনকি শিল্প উৎপাদন ও সিএনজি পাম্পগুলোতেও এর প্রভাব পড়ছে।

কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত ২১ জুলাই মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে (এফএসআরইউ) আগুন লাগার পর থেকেই সংকট শুরু হয়। ওই ঘটনার পর গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

গ্যাস-সংকট নগরের বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, বিশেষ করে সকালের রুটিন ওলট–পালট করে দিয়েছে।

নগরের জামালখান লেনের বাসিন্দা শুভেচ্ছা ঘোষ তার স্কুলগামী সন্তানের জন্য নাশতা তৈরি করতে গিয়ে বিপাকে পড়েন।

তিনি বলেন, ‘গত এক সপ্তাহ ধরে সকাল ১০টার পর থেকে গ্যাস থাকছে না। কিন্তু আজ সকাল ৭টাতেই গ্যাস চলে গেছে। নাশতা না খাইয়ে সন্তানকে কীভাবে স্কুলে পাঠাব? একবার সকালে গ্যাস গেলে বিকেল ৩টার আগে আর আসে না। আবার ৫টায় গিয়ে রাত ১২টার দিকে টিমটিম করে জ্বলে।’

গ্যাস-সংকটের কারণে পরিবারের খাওয়াদাওয়ার সময়সূচি পাল্টে যাওয়ার কথা জানান আসকার দিঘির পাড় এলাকার বাসিন্দা ইশরাত জাহান।

তিনি দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘রাত ১২টার আগে আমরা রান্না করতে পারি না। দুপুরের খাবার রেস্তোরাঁ থেকে কিনে আনতে হচ্ছে।’

আগ্রাবাদ, হালিশহর, পতেঙ্গা, চান্দগাঁও, পাঁচলাইশ, মুরাদপুর, বাকলিয়া, চকবাজার, বহদ্দারহাট, অক্সিজেন ও ষোলশহরসহ নগরীর অন্যান্য এলাকার বাসিন্দাদেরও একই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এসব এলাকাতেও বহু মানুষকে বাইরে থেকে খাবার এনে খেতে হচ্ছে।

ctg filling station
সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে পর্যাপ্ত গ্যাসের চাপ না থাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন চালকরা। এতে আশেপাশের সড়কে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। ছবি: রাজিব রায়হান

সরবরাহ কমে যাওয়ায় আবাসিক, ক্যাপটিভ বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং শিল্প খাতে গ্যাসের চাপ কমাতে বাধ্য হয়েছে কেজিডিসিএল। সিএনজি পাম্পগুলোর সামনে দেখা যাচ্ছে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে কেজিডিসিএলের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিস্ট্রিবিউশন) রফিক খান বলেন, গত ১০ দিন ধরেই এই সংকট চলছে, তবে ছুটির দিনে পরিস্থিতি আরও খারাপ আকার ধারণ করেছে।

তিনি বলেন, ‘শনিবার রাত থেকে গ্যাসের চাপ অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ায় চট্টগ্রামের প্রায় সব অংশেই সংকট তীব্র হয়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত সমাধানের জন্য আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি।’