বিদেশি অপারেটরের কাছে টার্মিনাল ইজারা নয়, বন্দর রক্ষা কমিটির অবস্থান

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম বন্দরের টার্মিনাল বিদেশি অপারেটরের কাছে ইজারা দেওয়ার সরকারি উদ্যোগ স্থগিতের দাবিতে  দিনব্যাপী অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছে বন্দর রক্ষা কমিটি।

আজ সোমবার সকাল ১১টা ২০ মিনিটে বন্দরের প্রশাসনিক ভবনের বাইরে এই কর্মসূচি শুরু হয়। এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরা অংশ নিয়েছেন।

তারা রাস্তা অবরোধ করে রাখায় বন্দরের প্রশাসনিক ভবনের দিকে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা নানা স্লোগান দিচ্ছেন।

ঘটনাস্থলে পুলিশ ও বন্দর নিরাপত্তা বিভাগসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

অবস্থান কর্মসূচিতে নেতারা বন্দরের সবচেয়ে লাভজনক নিউ মুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও এর ওভারফ্লো কন্টেইনার ইয়ার্ড পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আন্তর্জাতিক অপারেটরের সঙ্গে প্রস্তাবিত ১৫ বছর মেয়াদি ইজারা চুক্তি বাতিলের দাবি জানান।

তারা বন্দরের সচল বাকি দুটি টার্মিনাল—চট্টগ্রাম কন্টেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) এবং জেনারেল কার্গো বার্থ (জিসিবি) বিদেশি অপারেটরের কাছে তুলে দেওয়ার উদ্যোগ থেকেও সরকারকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।

এর আগে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) একটি আন্তর্জাতিক টার্মিনাল অপারেটরের মাধ্যমে পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।

গত বৃহস্পতিবার নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপস্থাপিত খসড়া কনসেশন চুক্তি ১৫ বছরের জন্য অনুমোদন দেয় অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

শ্রমিক ফেডারেশন, শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ), বিভিন্ন বামপন্থী ছাত্র ও শ্রমিক সংগঠন এবং বিএনপি সমর্থিত শ্রমিক সংগঠনের নেতারা এই অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন।

কমিটির সদস্যসচিব ফজলুল কবির মিন্টু জানান, তারা জেনেছেন, কমিটি তাদের ১ অক্টোবরের বৈঠকে এনসিটি ও ওভারফ্লো ইয়ার্ড পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ১৫ বছর মেয়াদি খসড়া ইজারা চুক্তিতে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে।

তিনি বলেন, যেহেতু এনসিটি দেশের অন্যতম প্রধান কন্টেইনার টার্মিনাল, তাই দীর্ঘমেয়াদি ইজারার আওতায় এটি হস্তান্তরের আগে একটি সামগ্রিক ও স্বচ্ছ তুলনামূলক মূল্যায়ন প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশ করা উচিত।

মিন্টু বলেন, এই মূল্যায়নে সরকারি ব্যবস্থাপনায় টার্মিনালটির সম্ভাব্য রাজস্ব, সক্ষমতা বৃদ্ধির সুযোগ, আধুনিক প্রযুক্তি ও অটোমেশনের ব্যবহার, কর্মদক্ষতা এবং প্রস্তাবিত ইজারা থেকে রাষ্ট্রের সম্ভাব্য আর্থিক সুবিধা—এসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকা উচিত।

মিন্টু বলেন, সরকার যখন অর্থনৈতিক পুনর্গঠন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধির মতো বড় চ্যালেঞ্জগুলোর সম্মুখীন, তখন কেন এনসিটি ও সিসিটির মতো কৌশলগত অবকাঠামোগুলোকে দীর্ঘমেয়াদি ইজারায় হস্তান্তরের জন্য এমন তাড়াহুড়ো করা হচ্ছে, তা জনগণের কাছে ব্যাখ্যা করা উচিত।

নেতারা এনসিটি ও ওভারফ্লো ইয়ার্ডের জন্য প্রস্তাবিত ১৫ বছর মেয়াদি ইজারা প্রক্রিয়া বাতিল, সিসিটি ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ প্রত্যাহার এবং বন্দর শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা 'হয়রানিমূলক ও মিথ্যা' মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।

তারা এও দাবি জানান, এনসিটি ও সিসিটি ইজারার প্রস্তাবের বিরুদ্ধে আন্দোলনে জড়িত শ্রমিক ও নেতাদের যেন কোনো ধরনের প্রশাসনিক হয়রানিতে না পড়তে হয়।