এক মৌসুম পর চ্যাম্পিয়ন আবাহনী

স্পোর্টস রিপোর্টার

মিরপুরে শেখ জামাল ধানমন্ডি হেরে যাওয়ায় বিকেএসপিতে হারলেও চ্যাম্পিয়ন হতো আবাহনী লিমিটেড। তবে বাকিরা কি করল না করল সে কথা আর ভাবার দরকার হয়নি। লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জকে বড় ব্যবধানে হারিয়েই চ্যাম্পিয়ন হয়েছে আবাহনী। এক মৌসুম ঢাকার ক্রিকেটের শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পুনরুদ্ধার করেছে ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটি।

বৃহস্পতিবার বিকেএসপিতে আগে ব্যাট করে নাজমুল হোসেন শান্ত ও নাসির হোসেনের ঝড়ো সেঞ্চুরিতে ৩৭৪ রানের পাহাড় গড়ে আবাহনী। রান তাড়ায় একটা সময় পর্যন্ত ম্যাচে থেকেও পরে ধসে পড়ে রূপগঞ্জের ইনিংস। ০ রানে শেষ চার উইকেট হারিয়ে তারা অলআউট  হয় ২৮০ রানে।আবাহনীর জয় ৯৪ রানের।

সকালে টস জিতে আবাহনীকে ব্যাট করতে পাঠিয়েছিল রূপগঞ্জ। বিকেএসপির তিন নম্বর মাঠের রান প্রসবা পিচে উড়ন্ত শুরু পায় আবাহনী। ১২ ওভারেই দুই ওপেনার ৯২ রান তুলে বিচ্ছিন্ন হন। ৫১ বলে ৫৭ করে পারভেজ রসুলের বলে ক্যাচ দেন এনামুল হক বিজয়। আরেক ওপেনার নাজমুল হোসেন শান্ত এদিনও ছিলেন আগ্রাসী।

Abahani Limited
ছবি: ফিরোজ আহমেদ
লিগে তার চতুর্থ সেঞ্চুরি পূরণ করার পাশাপাশি সর্বোচ্চ রানও করে ফেলেন। ১০৭ বলে ১১ চার আর ২ ছক্কায় শান্তর ইনিংস শেষ হয় মোহাম্মদ শহীদের বলে। এর আগেই অবশ্য ফিরে যান হনুমা ভিহারি ও মোহাম্মদ মিঠুন। 

পাঁচে নামা অধিনায়ক নাসির হোসেন বাকিটা পথ ছিলেন দুর্বার। ৯১ বলে ১৫ চার আর ৪ ছক্কায় ১২৯ রানের বিস্ফোরক ইনিংস খেলেন তিনি। শান্ত-নাসিরের ১৮৭ রানের জুটিতে বিশাল সংগ্রহের ভিত পায় আবাহনী। শেষ দিকে তাণ্ডব চালিয়েছেন মাশরাফি মর্তুজা। মাত্র ৮ বল খেলে ৪ ছক্কায় ২৮ করে অপরাজিত ছিলেন তিনি। তার ওই ক্যামিওতে দলের রান চলে যায় ৩৭৪ রানে।

_F756124.jpg
ছবি: ফিরোজ আহমেদ
৩৭৫ রানের বিশাল লক্ষ্যে ভালো শুরু পেয়েছিল রূপগঞ্জও। আব্দুল মজিদ আর অভিষেক মিত্র ফিরলেও মোহাম্মদ নাইম ছিলেন আগ্রাসী। ৫৪ বলে ৭০ রানের এক বিস্ফোরক ইনিংস খেলে আবাহনীর ভয় বাড়িয়েছিলেন তিনি। মুশফিকুর রহিম আর নাঈম ইসলামও পেয়েছিলেন দ্রুত ফিফটি। তবে এই তিনজনের আউটের পর ঘুরে যায় ম্যাচের ছবি। ততক্ষণে  অবশ্য মিরপুর থেকে স্বস্তির খবর পেতে শুরু করে আবাহনী।

খেলাঘর শেখ জামালকে হারিয়ে দেওয়ায় রূপগঞ্জ জিতলেও ক্ষতি হতো না মাশরাফিদের। চাপমুক্ত হয়ে রূপগঞ্জের লেজটা মুড়ে দিতে বেশি সময় নেননি আবাহনীর বোলাররা।

কোন রান যোগ না করেই পড়েছে রূপগঞ্জের শেষ চার উইকেট।