জাহানারার দুই অভিযোগে প্রমাণ পায়নি তদন্ত কমিটি, বাকি দুটিতে প্রাথমিক সত্যতা: বিসিবি

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক জাহানারা আলমের করা যৌন হয়রানির গুরুতর কিছু অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে বিবৃতি দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। দীর্ঘ তদন্ত শেষে কমিটি জানিয়েছে, জাহানারার করা চারটি অভিযোগের মধ্যে দুটির সত্যতা পাওয়া যায়নি। তবে বাকি দুটি অভিযোগের ক্ষেত্রে তৎকালীন নির্বাচক ও ম্যানেজার  মঞ্জুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে 'অসদাচরণ' ও 'হয়রানি'র প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে কমিটি।

২০২৫ সালের নভেম্বরে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি তারিক উল হাকিমের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল বিসিবি। এই কমিটির মেয়াদ একাধিকবার বাড়ানো হয়।  গত ৩১ জানুয়ারি কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়, যা ২ ফেব্রুয়ারি বিসিবি সভাপতির হাতে পৌঁছায়।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তৎকালীন ম্যানেজার সাবেক ক্রিকেটার মঞ্জুরুল ইসলামের আচরণ পেশাদার মানদণ্ডের পরিপন্থী ছিল। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা অনুযায়ী তার কিছু কাজ 'অসদাচরণ' ও 'হয়রানি'র পর্যায়ে পড়ে। যদিও মঞ্জুরুল ইসলামের সঙ্গে বিসিবির চুক্তির মেয়াদ গত বছরের জুনেই শেষ হয়ে গেছে, তবুও বিসিবি তাদের 'জিরো টলারেন্স' নীতি বজায় রাখতে আইনি পরামর্শ নিচ্ছে।

একইসঙ্গে ক্রিকেটাঙ্গনে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিসিবি একটি স্থায়ী 'অভিযোগ কমিটি' গঠন করেছে। হাইকোর্টের ২০০৯ সালের রায় মেনে গঠিত এই কমিটির নেতৃত্বে থাকবেন বোর্ড পরিচালক রুবাবা দৌলা। এখন থেকে যেকোনো ক্রিকেটার বা কর্মকর্তা কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির শিকার হলে এই কমিটির কাছে অভিযোগ জানাতে পারবেন।
জাহানারর কোন দুই অভিযোগে প্রমাণ মেলেনি তা স্পষ্ট করেনি বিসিবি। প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া দুই অভিযোগে ব্যাপারেও বিশদ ব্যাখ্যা দেয়নি বোর্ড।

গত বছর নভেম্বরের শুরুতে ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক রিয়াসাদ আজিমের ইউটিউব চ্যানেলে এসে গুরুতর কিছু অভিযোগ করেন জাহানারা। এরমধ্যে ছিলো যৌন হয়রানির মত গুরতর বিষয়। তিনি সতীর্থ নিগার সুলতানা জ্যোতির বিরুদ্ধেও অভিযোগ করেছিলেন। এরপর এটা নিয়ে ক্রিকেট মহলে চলে তোলপাড়। তদন্ত কমিটি করার তিন মাস পর প্রতিবেদন জমা দেওয়া হলো।