সাইফ-নাইমের ব্যাটে চড়ে বিসিএল ওয়ানডের শিরোপা জিতল সেন্ট্রাল জোন
মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) ওয়ানডে সংস্করণের ফাইনালে নর্থ জোনের বিপক্ষে ৫ উইকেটের দাপুটে জয় তুলে নিল সেন্ট্রাল জোন। দ্বিতীয় উইকেটে সাইফ হাসান ও মোহাম্মদ নাইমের ১৬৪ রানের বিশাল জুটিতে ভর করে এই টুর্নামেন্টে নিজেদের দ্বিতীয় শিরোপা জিতল দলটি।
লিগ পর্বের ম্যাচেও নর্থকে হারিয়েছিল সেন্ট্রাল। ফাইনালে ব্যাটিং ও বোলিং— উভয় বিভাগেই আধিপত্য বিস্তার করে সেই জয়রথ ধরে রাখল তারা।
নর্থ জোনকে ৪৯.৩ ওভারে ২৩৮ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পর রান তাড়ায় নেমে নাহিদ রানার বলে শুরুতে ওপেনার জিশান আলমকে (১৭ বলে ১৪) হারায় সেন্ট্রাল। এরপর প্রতিরোধ গড়েন নাইম ও সাইফ। নাহিদ ও শরিফুল ইসলামের পেস সামলে দ্রুতই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেন এই দুই ব্যাটার। প্রতিপক্ষের আলগা বলগুলোকে বাউন্ডারির বাইরে পাঠিয়ে সাইফ ফিফটি স্পর্শ করেন মাত্র ৪৯ বলে। তাকে অনুসরণ করে ৬৩ বলে নিজের অর্ধশতক পূর্ণ করেন নাইম।
উভয় ব্যাটারই যখন সেঞ্চুরির দিকে এগোচ্ছিলেন, তখন ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে নর্থ। রিশাদ হোসেনের বলে বোল্ড হয়ে মাঠ ছাড়েন নাইম। ৮৭ বলে তার ৭৮ রানের ইনিংসে ছিল পাঁচটি চার ও তিনটি ছক্কা। এর কিছুক্ষণ পরই শরিফুলের বলে টাইমিংয়ে গড়বড় করে ক্যাচ আউট হন সাইফ। সাজঘরে ফেরার আগে তিনি খেলেন ৭৯ বলে ৮৭ রানের আগ্রাসী ইনিংস, যেখানে ছিল সাতটি চার ও তিনটি ছক্কার মার।
ম্যাচের শেষদিকে সেন্ট্রালের রান তোলার গতি কিছুটা মন্থর হয়ে পড়ে এবং আরও দুটি উইকেট হারায়। তবে সেসব জয়ের পথে কোনো বাধা আসেনি। ১২ ওভার বাকি থাকতেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় তারা।
এর আগে ব্যাটিংয়ে নেমে তাসকিন আহমেদ ও রিপন মন্ডলের তোপে শুরুতেই চাপে পড়ে নর্থ। ওপেনার হাবিবুর রহমান ১৭ বলে মাত্র ৫ রান করে তাসকিনের শিকার হন। আরেক ওপেনার তানজিদ তামিম ২২ বলে ২৩ রান করে রিপনের বলে আউট হন।
লিটন দাসের অনুপস্থিতিতে নাজমুল হোসেন শান্ত ও তাওহীদ হৃদয় তৃতীয় উইকেটে ৫২ রানের জুটি গড়ে চাপ সামলানোর চেষ্টা করেন। এরপর সেন্ট্রালের স্পিনাররা আক্রমণে এসে চাপ বাড়ান। শান্তকে (৫১ বলে ৩৫) সাজঘরে ফেরান সাইফ। ৩১তম ওভারে রকিবুল হাসানের জোড়া আঘাতে মেহেরব হাসান ও আকবর আলী আউট হলে ১২৩ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকে নর্থ।
বিপর্যয় সামাল দিতে হৃদয় ও সাব্বির রহমান মিলে ৬৩ রানের জুটি গড়েন। সাব্বির করেন ৪৩ বলে ২৪ রান। শুরুতে কিছুটা ধীরগতিতে খেলা হৃদয় ৬৯ বলে ফিফটি করেন এবং পরে রানের গতি বাড়ান। ইনিংসের শেষ পর্যায়ে যখন সেঞ্চুরির খুব কাছে, ঠিক তখনই আক্ষেপ নিয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি। ইনিংসের মাত্র ৪ বল বাকি থাকতে ৯৬ রানে রিপনের শিকার হন হৃদয়। তার ৯৮ বলের ইনিংসে ছিল আটটি চার ও একটি ছক্কা। ফলে ২৫০ রানের গণ্ডি পার করতে ব্যর্থ হয় নর্থ।
সেন্ট্রালের বোলারদের মধ্যে ৯.৩ ওভারে ৪১ রান খরচায় ৪ উইকেট নেন রিপন। এছাড়া, তাসকিন ১০ ওভারে ৫৬ রান দিয়ে পান ২ উইকেট।