বাবর ‘বাদ পড়েননি’, বাংলাদেশের বিপক্ষে তরুণদের বাজিয়ে দেখছে পাকিস্তান

ক্রীড়া প্রতিবেদক

সর্বশেষ ওয়ানডে সিরিজে রান করেছেন বাবর আজম, রানে ছিলেন সাইম আইয়ুবও। কিন্তু টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ব্যর্থ হওয়া এই দুই ব্যাটারকে বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে রাখেনি পাকিস্তান। দলটির নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কিত সংস্কৃতির আরেকটি নতুন উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছিল একে। তবে অধিনায়ক শাহীন আফ্রিদি জানালেন, কাউকে বাদ দেওয়া নয়, তাদের লক্ষ্য ছিল তরুণদের বাজিয়ে দেখা।

বাংলাদেশের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ৫০ ওভারের সংস্করণে না খেলা ক্রিকেটার আছেন ছয়জন। এর মধ্যে পাঁচজনই বিশেষজ্ঞ ব্যাটার, অন্যজন অলরাউন্ডার। ওয়ানডে না খেললেও টি-টোয়েন্টি খেলে ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রতিষ্ঠিত শাহিবজাদা ফারহান। তবে আব্দুল সামাদ, গাজী ঘোরি, শাইমাল হোসেইন, মাজ সাদাকাত ও সাদ মাসুদকে সব দিক থেকেই বলা যায় অনভিজ্ঞ।

বুধবার প্রথম ওয়ানডেতে তিনজনের অভিষেক নিশ্চিত করেছেন শাহীন। ফারহান ও মাজের সঙ্গে হয়তো শাইমালও সুযোগ পেতে পারেন।

টি-টোয়েন্টিতে প্রশ্নবিদ্ধ ব্যাটিং পারফরম্যান্সে বাবর সমালোচিত হলেও তার ওয়ানডে রেকর্ড ঝলমলে। ১৪০ ওয়ানডের ক্যারিয়ারে ৬৫০১ রান করেছেন ৫৩.৭২ গড়ে। গত নভেম্বরে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজে এক সেঞ্চুরি করেন তিনি। সাইমের ওয়ানডে ক্যারিয়ার ছোট হলেও বেশ প্রতিশ্রুতিশীল; ১৭ ম্যাচে ৪৬.৯৩ গড়ে ৭৫১ রান করেছেন তিনি।

তাদের কী কারণে বাদ দেওয়া হয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে শাহীন জানান, তারা বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজটাকে অনেকটা নিরীক্ষার ক্ষেত্র হিসেবে নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এই সিরিজে কেউ বাদ পড়েনি। দল তরুণদের সুযোগ দিতে চেয়েছে যাতে আগামীতে স্কোয়াডকে শক্তিশালী করা যায়। বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজটি তরুণদের দক্ষতা বাজিয়ে দেখার একটা সুযোগ, যা বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে কাজে লাগবে।’

আইসিসি ওয়ানডে র‍্যাঙ্কিংয়ে চারে আছে পাকিস্তান। ২০২৭ বিশ্বকাপে সরাসরি অংশ নেওয়া নিয়ে কোনো সংশয় নেই তাদের। বাংলাদেশের অবস্থান সেক্ষেত্রে দশে। র‍্যাঙ্কিংয়ের উন্নতি না করতে পারলে পার হতে হবে বাছাইপর্ব।

এই সিরিজ হারলেও তাই পাকিস্তানের বিশ্বকাপ যাত্রায় কোনো সমস্যা নেই। সে কারণে পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ দলটির জন্য যৌক্তিক।