মিরপুরে কি চমক অপেক্ষা করছে?
মিরপুরের উইকেট অতীতেও অনেক সময় সবুজ দেখিয়েছে। যা দেখে মনে হয়েছে, হয়তো পেসাররা সুবিধা পাবেন। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা গেছে, সেই চিরচেনা মন্থর ও নিচু বাউন্সের উইকেটে কোনো চমকই থাকে না। তবে গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) এক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, মানের দিক থেকে এবারের উইকেট সত্যিই কিছুটা চমক দেখাতে পারে।
ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশ দল যখন ছন্দ ফিরে পেতে লড়ছে, তখন যথাযথ স্পোর্টিং উইকেটে খেলার গুরুত্ব আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। বেশ কয়েকজন ক্রিকেটারও জানিয়েছেন যে, দলের ব্যাটারদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে ভালো মানের ব্যাটিং উইকেটে বেশি বেশি ম্যাচ খেলা প্রয়োজন।
ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সিরিজের আগে মিরপুরের উইকেট তাই আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের পিচ সম্পর্কে ধারণা আছে এমন একজন বিসিবি কর্মকর্তা দ্য ডেইলি স্টারকে বলেছেন, 'এবারে কিছুটা চমক থাকতে পারে। পরিস্থিতি এখন পাল্টাচ্ছে।'
সবুজের হালকা ছোঁয়া থাকা উইকেটের উপরিভাগ বেশ শক্ত মনে হয়েছে, যা বোলারদের জন্য বাড়তি বাউন্স নিশ্চিত করতে পারে। তবে ঐতিহ্যগতভাবে মিরপুরের উইকেট সব সময়ই মন্থর ও অসমান বাউন্সের হয়ে থাকে।
একজন পেসার হিসেবে এখানকার কন্ডিশন দেখে উচ্ছ্বসিত মনে হয়েছে পাকিস্তানের অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদিকে। ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, 'এখন পর্যন্ত মনে হচ্ছে, পেসারদের জন্য এখানে কিছু একটা আছে। এই মুহূর্তে পিচ ঠিক কেমন অবস্থায় আছে তা দেখিনি। তবে আমরা আবারও তা পর্যবেক্ষণ করব এবং টিম ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে আলোচনা করে (একাদশ ঠিক করার) সিদ্ধান্ত নেব।'
গত বছরের অক্টোবরে ঘরের মাঠে নিজেদের সবশেষ ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশ মুখোমুখি হয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের। সেবার একটি ম্যাচে পুরো ৫০ ওভারই স্পিনারদের দিয়ে করিয়েছিল ক্যারিবিয়ানরা। তবে শাহিন ইঙ্গিত দিয়েছেন, এবার চিত্রটা ভিন্ন হতে পারে।
উইন্ডিজের সেই কৌশল পাকিস্তানও অনুসরণ করবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, 'পাকিস্তান দল সব সময়ই তাদের ফাস্ট বোলিংয়ের জন্য পরিচিত। আমি অবশ্যই পেস বোলিংয়ের ওপর ভরসা রাখব। আর নিশ্চিত করব যেন পেসাররা উইকেট পায় এবং স্পিনাররাও অবদান রাখে।'
অন্যদিকে, বাংলাদেশের অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজও জানিয়েছেন, আগামী ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে তাদের জন্য এখন সত্যিকারের ভালো উইকেট প্রয়োজন।
সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন নিশ্চিত করা এবং ব্যাটারদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর মধ্যে ভারসাম্য রাখার বিষয়টি এখন বড় চ্যালেঞ্জ। তাই শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে শেষ পর্যন্ত প্রত্যাশা পূরণ হবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে।