শেষ ওভারের রোমাঞ্চে পাকিস্তানকে হারিয়ে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ
চরম ব্যাকফুটে থাকা অবস্থা থেকে সালমান আলি আঘার দারুণ সেঞ্চুরিতে ঘুরে দাঁড়ায় পাকিস্তান। দুলতে থাকা ম্যাচ চলে আসে শেষ ওভারের রোমাঞ্চে। সেখানে বুদ্ধিদীপ্ত বোলিংয়ে স্নায়ুচাপ ধরে রাখেন এর আগে খরুচে বল করা রিশাদ হোসেন। শাহীন আফ্রিদিকে হতাশায় ডুবিয়ে জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ।
মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচ বাংলাদেশ জিতেছে ১১ রানে। আগে ব্যাট করে বাংলাদেশের ২৯০ রানের পুঁজির পিছু ছুটতে গিয়ে ১৭ রানে ৩ উইকেট হারালেও সালমানের সেঞ্চুরিতে ২৭৯ রানে থামে পাকিস্তানের ইনিংস।
এতে তিন ম্যাচ সিরিজ ২-১ ব্যবধানে নিশ্চিত করল স্বাগতিক। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে টপকে র্যাঙ্কিংয়ে নয়েও উঠল মেহেদী হাসান মিরাজের দল।
ম্যাচ জিততে শেষ ওভারে পাকিস্তানের দরকার ছিলো ১৪ রানে, হাতে শেষ উইকেট। আগের ছয় ওভারে সাদামাটা বল করে ৫৪ রান দেওয়া রিশাদের হাতে বল তুলে দেন মিরাজ।
প্রথম দুই বল ডট দেওয়ার পর তৃতীয় বলে আসে দুই রান। চতুর্থ বলে আরকেটি ডট। পঞ্চম বলে হয় নাটকীয়তা। লেগ স্টাম্পের বাইরে পড়ে বল ওয়াইড দিয়েছিলেন আম্পায়ার। তাতে ম্যাচ টিকে থেকে দুই বলের রোমাঞ্চে। কিন্তু কিপার লিটন দাসের বুদ্ধিতে এলবিডব্লিউর রিভিউ নেয় বাংলাদেশ, যাতে করে কোনভাবে বল ব্যাটে-প্যাডে লাগলে ওয়াইড থেকে বাঁচা যায়। বাংলাদেশের রিভিউয়ে সময় ফুরিয়ে গেছে দেখে আপত্তি জানিয়েছিলেন শাহীন। পরে দেখা যায় বল সত্যিই তার ব্যাটে লেগেছে। ওয়াইড বাতিল হলে এতেই নিশ্চিত হয়ে যায় জয়। শেষ বলেও বলে ব্যাট লাগাতে পারেননি শাহীন।
হাত থেকে ফসকে যেতে থাকা ম্যাচ ৪৮তম ওভারে ফেরান তাসকিন। তার স্লোয়ারে মিড উইকেট দিয়ে উড়াতে গিয়ে টামিং গড়বড় করেন সালমান। উঁচুতে উঠা ক্যাচ সহজে জমান নাজমুল হোসেন শান্ত। ভয় ধরানো পরিস্থিতি থেকে তখন মুক্তি মিলে বাংলাদেশের। ৯৮ বলে ৯ চার, ৪ ছক্কায় সালমান বিদায় নেন ১০৬ রান করে।
১০ ওভারে ৪৯ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের জয়ের মূল কারিগর এই তাসকিন।
মোস্তাফিজের পরের ওভারে শহীন দুই ছক্কা মেরে দিলে খেলা আবার পাকিস্তানের দিকে হেলে গিয়েছিলো। চোট পাওয়ার পরও শেষ বল করে হারিস রউফকে আউট করে স্পেল শেষ করেন মোস্তাফিজ।
ম্যাচ এই পর্যায়ে আসার আভাসই ছিলো না শুরুতে। ২৯১ রান তাড়ায় নেমে তিন ওভারেই তিন উইকেট হারিয়ে ফেলে পাকিস্তান। তাসকিনের প্রথম ওভারে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন শাহিবজাদা ফারহান। আগের ম্যাচের পাকিস্তানের হিরো মাজ সাদাকাতকে একইভাবে ফেরান নাহিদ রানা। তাসকিন তার পরের ওভারে মোহাম্মদ রিজওয়ানকে বোল্ড করে দিলে ১৭ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলে সফরকারীরা।
চরম বিপর্যস্ত দলটি অভিষিক্ত গাজী ঘোরি ও তৃতীয় ম্যাচ খেলতে নামা আব্দুল সামাদের ব্যাটে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে। তবে জুটিটি জমে উঠতে দেননি নাহিদ।
পরের স্পেলে ফিরে ঘোরিকে বোল্ড করে ছাঁটেন নাহিদ। ৩৯ বলে ২৯ করে ফিরে যান এই ডানহাতি। খানিক পর মোস্তাফিজুর রহমানের কাটারে কাবু হয়ে কিপারের গ্লাভসে জমা পড়েন ৩৪ বলে ৩৪ করা সামাদ। ৮২ রানে ৫ উইকেট হারানো পাকিস্তানের জন্য তখন হারের ব্যবধান কমানো ছাড়া তেমন কিছু করা সম্ভব বলে আর মনে হচ্ছিলো না।
কিন্তু হাল না ছেড়ে ওই পরিস্থিতিতে অভিষিক্ত সাদ মাসুদকে নিয়ে জুটি গড়েন সালমান। মাঝের ওভারে কিছু আলগা বোলিংয়ের সুযোগে থিতু হয়ে যান তারা। জুটিটি বাড়তে থাকে। দ্বিতীয় স্পেলে ফিরে সাদকে বোন্ড করে ভাঙেন ৮২ বলে ৭৯ রানের জুটি।
ফাহিম আশরাফকে এক পাশে রেখে সালমান ৪৯ বলে যোগ করেন আরও ৪৮ রান ফাহিমের বিদায়ের পর শাহীন-সালমানের ফিফটি ছাড়ানো জুটিতে ভয় ধরেছিলো বাংলাদেশের। শেষ পর্যন্ত ফের তাসকিন গুরুত্বপূর্ণ ফেইজে উইকেট নিয়ে দলকে রাখেন খেলায়।
টস হেরে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশের গোটা ইনিংস তানজিদময়। সাইফ হাসানকে নিয়ে সতর্ক শুরুর পর নিজের চেনা ঢঙে এগিয়ে যান তিনি। আরেক পাশে সাইফ ধুঁকতে থাকলেও বড় বড় ছক্কায় চাপ বাড়তে দেননি তানজিদ।
১০৫ রানের জুটিতে ৫৫ বলে ৩৬ করেন সাইফ। প্রথম দুই ম্যাচে ব্যর্থ হওয়া এই ব্যাটার নিজের জায়গা করলেন প্রশ্নবিদ্ধ।
দ্বিতীয় উইকেটে নাজমুল হোসেন শান্তকে ৬৭ বলে যোগ করেন ৫৩ রান। লিটনের সঙ্গে ৪২ বলে আনেন ৩৬ রান। সালমান আলি আঘাকে ছক্কায় উড়িয়ে সেঞ্চুরির পর পরই অবশ্য বিদায় নেন তিনি।
চতুর্থ উকেকেটে লিটন-হৃদয় জুটিতে আসে ৬১ বলে ৬৮ রান। তবে শেষ দশ ওভারে পর্যাপ্ত ঝড় তুলতে পারেননি তারা। বেশ ভালো অবস্থায় থেকেও তিনশো ছাড়াতে পারেনি বাংলাদেশ। হতাশ করেন আটে নামা আফিফ হোসেনও।
ম্যাচ শেষ পর্যন্ত যে পর্যায়ে গিয়েছে তাতে মনে হয়েছে অন্তত ১০-১৫ রান কম করে কিছুটা অনিরাপদ ছিলো বাংলাদেশ। অল্পের জন্য বিপদ হতে হতেও হয়নি।