ডিপিএল নিয়ে অনিশ্চয়তা: বাড়ছে ক্রিকেটারদের হতাশা

আব্দুল্লাহ আল মেহেদী

​সাধারণত বছরের এই সময়ে দেশের ক্রিকেটাররা ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ (ডিপিএল) নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। কিন্তু বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ও ক্লাবগুলোর মধ্যে চলমান ঝামেলার কারণে লিগ শুরুই হয়নি, লিগ নিয়ে আলোচনাও মাঝপথে থমকে আছে।

মিরপুর স্টেডিয়ামে  তারকাদের ভিড় থাকার কথা থাকলেও, সেখানে শামীম পাটোয়ারীর একাকী উপস্থিতি যেন দেশের ক্রিকেটের স্থবিরতাকেই ফুটিয়ে তুলছে।

​গত কয়েক দিন ধরে বেশ কয়েকজন ক্রিকেটারের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট দেখে বোঝা যাচ্ছে, ডিপিএল না হওয়ার আক্ষেপ তাদের কতটা পোড়াচ্ছে।

জাতীয় দলে খেলা ব্যাটার জাকের আলি অনিক ফেসবুকে নিজের পুরনো ডিপিএলের ছবি পোস্ট করে লেখেন, 'আগে আমরা ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ খেলতাম।'

ঘরোয়া ক্রিকেটার মঈন খান লিখেছেন, আগের বছরগুলোতে ঈদের ছুটির পর এই সময়ে তারা ডিপিএল-এর সুপার লিগ খেলতেন। কিন্তু এবার লিগ কবে শুরু হবে, তার কোনো হদিস নেই।

​নিজের হতাশা লুকিয়ে রাখেননি শামীমও। সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, 'আসলে পরিস্থিতি এখন বেশ অদ্ভুত। আমাদের দেশে ডিপিএল হচ্ছে না—এটা দেখতেও খারাপ লাগে।' তিনি আরও মনে করিয়ে দেন যে, ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগে এই টুর্নামেন্ট না হওয়া ক্রিকেটারদের জন্য বড় ক্ষতি।

​শামীমের মতে, 'যারা জাতীয় দলের বাইরে আছেন, তাদের জন্য এটা অর্থনৈতিকভাবেও অনেক ক্ষতিকর। বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের জন্য এটা একদমই ভালো নয়। তাই আমি মনে করি, যত দ্রুত সম্ভব লিগ শুরু করা দরকার।'

​শামীম নিজে ওয়ানডে দলে ফেরার লড়াই চালাচ্ছেন। গত মৌসুমে ৯ ইনিংসে ১২৬.১১ স্ট্রাইক রেটে ৩৯৬ রান করে তিনি নির্বাচকদের নজরে এসেছিলেন। ডিপিএল হলে তার জন্য ফেরার পথটা আরও সহজ হতো। এখন তিনি তাকিয়ে আছেন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আসন্ন টি২০ সিরিজের দিকে। সেখানে ভালো করে ওয়ানডে দলে জায়গা করে নিতে চান তিনি।
​হতাশার মাঝেও শামীমকে গতকাল নেটে বেশ পরিশ্রম করতে দেখা গেছে। নিজের চিরচেনা স্কুপ বা উদ্ভাবনী শটের চেয়েও ব্যাটিংয়ে কিছুটা সাবধানী হতে দেখা গেছে তাঁকে। সামনেই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হোম সিরিজ ও জাতীয় দলের ক্যাম্প। শামীম জানান, তিনি নিজেকে ধীরে ধীরে সেই লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত করছেন।

​নিয়ম অনুযায়ী, ক্রিকেটাররা ডিপিএল-এর ম্যাচ খেলে নিজেদের ভুলভ্রান্তি শুধরে নেওয়ার সুযোগ পান। কিন্তু এবার মাঠের লড়াই না থাকায় ক্রিকেটারদের ব্যক্তিগতভাবেই প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে। বিসিবি ও ক্লাবগুলোর এই জেদাজেদি যত দিন চলবে, শামীমের মতো ক্রিকেটার আর দেশের ক্রিকেট ততই পিছিয়ে পড়বে।