চট্টগ্রামের আউটফিল্ডের পানিশূন্যতা কাটাতে বিসিবির দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা
‘খুব একটা খারাপ না’—চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের আউটফিল্ড পরখ করে দেখছিলেন নিউজিল্যান্ডের ব্যাটার উইল ইয়ং। মাঠের বাইরে থেকে দেখতে আউটফিল্ড বেশ শুষ্ক মনে হচ্ছিল, কিছু জায়গায় ঘাস মরে গিয়ে মাটির প্রলেপ দেখা যাচ্ছিল। এমনকি দূর থেকে বড় বড় দাগগুলো অনেকটা পিচের মতোই ন্যাড়া দেখাচ্ছিল।
তবে ইয়ং এখনই খুব একটা দুশ্চিন্তা করছেন না। তার মতে, ফিল্ডিং করতে গিয়ে হাত-পায়ে সামান্য একটু ঘষা লাগা ছাড়া বড় কোনো ঝুঁকি নেই।
গতকাল দ্য ডেইলি স্টারকে তিনি বলেন, ‘মাঠ শুষ্ক থাকার কারণে বল বেশ দ্রুত ছুটবে। সাধারণত মাঠ ভেজা থাকলে ইনজুরি হওয়ার ভয় বেশি থাকে, কারণ তখন পা মাটিতে আটকে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।’
খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার বাইরেও এই সংকটের আসল কারণ হলো পানির অভাব। দেশের অন্যতম প্রধান এই ক্রিকেট ভেন্যুতে পানির তীব্র সংকট স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
কিউরেটর জাহিদ রেজা বাবু ডেইলি স্টারকে জানান, ‘গত চার দিন ধরে আমাদের এখানে কোনো পানি নেই। এই মৌসুমে এটা একটা নিয়মিত সমস্যা। ওয়াসা চেষ্টা করে ঠিকই, কিন্তু পানির অভাবে শহরের একটা বড় অংশ মাঝেমধ্যেই সেবা পায় না।’
গত দুই সপ্তাহে মাত্র পাঁচ মিনিটের জন্য একটু বৃষ্টি হয়েছিল, যা প্রয়োজনের তুলনায় কিছুই না। ৯ এপ্রিলের পর মাঠে পানি দেওয়া হলেও তীব্র গরম ও আর্দ্রতার কারণে পরিস্থিতি আবার আগের মতো হয়ে গেছে। কিউরেটর জানান, গত মৌসুমেও ঠিক এমনটাই ঘটেছিল।
মাঠের কর্মীদের মতে, দূর থেকে খারাপ দেখালেও কাছে গেলে আউটফিল্ড অতটা খারাপ নয়। তবে মাঠ ঠিক রাখতে প্রতিদিন প্রায় দুই লাখ লিটার পানির প্রয়োজন হয়।
বিসিবির সাবেক ফ্যাসিলিটিজ চেয়ারম্যান শাহনিয়ান তানিম এই সমস্যা সমাধানে আগে একবার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু আগের বোর্ডের টেন্ডার ও কেনাকাটার জটিলতায় তা থমকে গিয়েছিল। শাহনিয়ান জানান, বর্তমান অ্যাডহক কমিটির অধীনে এখন সেই পরিকল্পনার কাজ শুরু হয়েছে।
বিসিবি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভিআইপি স্ট্যান্ডের পেছনে একটি পানি শোধনাগার বা পিউরিফিকেশন প্ল্যান্ট বসানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে একটি গভীর নলকূপও বসানো হবে।
জাহিদ রেজা বাবু বলেন, ‘এই প্ল্যান্টটি চালু হলে আমরা স্বস্তি পাব। এখান থেকে প্রতিদিন দুই লাখ লিটার পানি পাওয়ার কথা। ওয়াসার লাইনের সঙ্গে এই পানি যোগ হলে আমাদের আর সমস্যা থাকবে না।’
সন্ধ্যায় গরম একটু কমলে পুরো মাঠে পানি দেওয়া হয়েছে। আজ তৃতীয় ওয়ানডের আগে আউটফিল্ডের চেহারা কিছুটা ফিরে এসেছে। আশা করা হচ্ছে, নতুন এই প্রকল্প চালু হলে চট্টগ্রামের মাঠের পানির সমস্যা স্থায়ীভাবে দূর হবে।