আইপিএল ২০২৬

টানা ৬ হারের পর ‘টিম মিটিং’ বাদ দিয়ে ঘুরে দাঁড়াল শ্রেয়াসের পাঞ্জাব

স্পোর্টস ডেস্ক

খেলায় টানা হারতে থাকলে সাধারণত ড্রেসিংরুমে কাটাছেঁড়া বাড়ে, ঘণ্টার পর ঘণ্টা চলে টিম মিটিং আর কৌশলের ছক কষা। কিন্তু কখনো কখনো কোনো রকম মিটিং ছাড়াই মাঠে নেমে যাওয়া যে সাফল্যের সেরা টনিক হতে পারে, তা প্রমাণ করে দেখাল পাঞ্জাব কিংস। টানা ছয়টি হারের পর যখন পিঠ দেয়ালে ঠেকে গিয়েছিল, ঠিক তখনই প্রধান কোচ রিকি পন্টিংকে সঙ্গে নিয়ে এক অভিনব সিদ্ধান্ত নেন পাঞ্জাব অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার—‘আর কোনো টিম মিটিং হবে না!’

লখনউ সুপার জায়ান্টসের বিপক্ষে মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে শ্রেয়াসের এই একটি সাহসী সিদ্ধান্তই বদলে দিল পুরো দলের মানসিকতা। আর মাঠের পারফরম্যান্সে তার প্রতিফলনও দেখা গেল হাতেনাতে। লখনউকে তাদের মাটিতে ৭ উইকেটে হারিয়ে টুর্নামেন্টে টিকে রইল পাঞ্জাব। আর ৫১ বলে ১০১ রানের এক অতিমানবীয় অপরাজিত শতরান করে ম্যাচের নায়ক স্বয়ং অধিনায়ক।

ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে দাঁড়িয়ে নিজের এই 'মিটিংহীন' কৌশলের পেছনের রহস্য ফাঁস করলেন শ্রেয়াস। তিনি বলেন, ‘আমরা দলকে বাড়তি কোনো বার্তা দিইনি, সবকিছু একদম সাধারণ রেখেছিলাম। মিটিং করে ছেলেদের ওপর আরও চাপ বাড়ানোর চেয়ে এটি ভালো। আপনি যখন অনেক আলোচনা করেন, তখন আগের হারগুলোর মধ্যে একপ্রকার হারিয়ে যান। তাদের নিজেদের মতো থাকতে দেওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে মনের মুক্ত প্রবাহ প্রয়োজন। আপনি চান না যে চাপের সময়ে তারা অতিরিক্ত চিন্তা করুক।’

কোচ পন্টিংয়ের সঙ্গে সেই আলাপচারিতার কথা টেনে পাঞ্জাব অধিনায়ক আরও যোগ করেন, ‘আজ আমি আক্ষরিক অর্থেই রিকিকে বলেছিলাম যে আমাদের কোনো টিম মিটিং করার দরকার নেই। চলুন সরাসরি মাঠে যাই এবং আমাদের সাধারণ নিয়মগুলো পালন করি যা আমরা ধারাবাহিকভাবে করে আসছি এবং আমরা ফলাফল দেখতে পাচ্ছি।’

লখনউয়ের দেওয়া ১৯৭ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে এই মৌসুমের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেন শ্রেয়াস। নিজের ব্যাটিংয়ের মানসিকতা নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি জানি যদি আমি ক্রিজে নিজেকে কিছুটা সময় দিই এবং বলের ওপর চড়াও হয়ে ভালো বলে রান করার চেষ্টা না করে যতটা সম্ভব টাইমিং করার চেষ্টা করি (তবে রান আসবে)। আমি মনে করি আমার জন্য সেখানে যতটা সম্ভব টিকে থাকা প্রয়োজন কারণ তখন রান আসতেই থাকে। খেলা শেষ করে আসার এবং একটি শতরান করার অনুভূতিটা অবাস্তব। সব ব্যাটসম্যানই এটার স্বপ্ন দেখে। আজ এমন একটা দিন ছিল যখন আমি ব্যক্তিগতভাবে দারুণ অনুভব করছিলাম। ভেতর থেকে দারুণ লাগছিল। আমি একটি চমৎকার মানসিক অবস্থায় ছিলাম। আমি জানতাম আমি কী চাই, জানতাম উইকেট কেমন আচরণ করছে।’

আজমত-যুজির লড়াকু চরিত্রের প্রশংসা

রান তাড়ায় ৩৯ বলে ৬৯ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলা প্রাভসিমরান সিংয়ের সঙ্গে জুটি নিয়ে শ্রেয়াস বলেন, ‘প্রাভ যেভাবে বোলারদের ওপর চড়াও হয়েছিল—একা তো আর সব হয় না, দুজনেরই সমান অবদান লাগে। সে সত্যি আমাদের দেখিয়ে দিয়েছে সে কী করতে সক্ষম। সে মানসিকভাবে সক্রিয় ছিল এবং ক্রিজে আমাদের মধ্যে যে যোগাযোগ ছিল তা দুর্দান্ত ছিল।’

ব্যাটারদের কাজ সহজ করার পেছনে বোলারদের অবদানকে কুর্নিশ জানাতে ভোলেননি অধিনায়ক। বিশেষ করে প্রথম ওভারে ১৬ রান দেওয়ার পর বোলাররা যেভাবে লখনউকে ১৯৬ রানে আটকে রেখেছে, তাতে শ্রেয়াসের কণ্ঠে ঝরল মুগ্ধতা, ‘তাদের পারফরম্যান্সে আমি উল্লসিত। আজমত (ওমরজাই) দুর্দান্ত বল করেছে। সে যে প্রথম ওভারটি করেছিল, একটি উইকেট নেওয়া এবং সেই গুরুত্বপূর্ণ রানগুলো বাঁচানো; চার ওভারে তাদের প্রায় ২৩ বা ২৬ রানে আটকে রাখা দারুণ ছিল। এই পরিস্থিতিতে সবকিছুই মোমেন্টামের ওপর নির্ভর করে। বিশেষ করে যুজি (চাহাল) যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং রান আটকেছে। পান্তের গুরুত্বপূর্ণ উইকেটটি নিয়েছে। তার প্রশংসা করতেই হয়, গত ম্যাচে সে প্রচুর রান দিয়েছিল কিন্তু সে নিজের চরিত্র দেখিয়েছে। এই ধরনের মনোভাব নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানো অসাধারণ।’

টানা হারের বৃত্ত ভেঙে অবশেষে জয়ের দেখা পেয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন শ্রেয়াস, 'সত্যি বলতে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। এটি এই মৌসুমে আমার প্রথম শতরান, ঠিক সঠিক সময়ে এসেছে যখন দলের এটির প্রয়োজন ছিল। এটি একটি দারুণ ইতিবাচক দিক। এখন কেবল আশা করছি মুম্বাই জিতবে (রাজস্থানের বিপক্ষে, তাহলে পাঞ্জবের প্লে অফের সম্ভাবনা থাকবে)।’