ব্যাটিং ধসে চাপে বাংলাদেশ, কাইয়ার ব্যাটে দাপট জিম্বাবুয়ের
প্রায় দেড় বছর পর দেশের বাইরে টেস্ট খেলতে নেমেই পুরোনো ব্যাটিং সমস্যায় ভুগল বাংলাদেশ। হারারেতে একমাত্র টেস্টের প্রথম দিন জিম্বাবুয়ের পেস আক্রমণের সামনে ধসে পড়ে টাইগারদের ইনিংস। ১১৩/২ থেকে শেষ আট উইকেট হারিয়ে মাত্র ২৭ রান যোগ করে ১৪০ রানে অলআউট হয়ে যায় সফরকারীরা।
দিন শেষে ব্যাট হাতে দারুণ জবাব দিয়েছে স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে। ওপেনার ইনোসেন্ট কাইয়ার অপরাজিত ৭৬ রানের ইনিংসে ভর করে প্রথম দিনের খেলা শেষে তাদের সংগ্রহ ১ উইকেটে ১৩৬ রান। ফলে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের চেয়ে তারা পিছিয়ে মাত্র ৪ রানে।
টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। মাত্র ২ রান করে আউট হন মাহমুদুল হাসান জয়। নিউম্যান নিয়ামহুরির ভেতরে ঢুকে আসা বল তার রক্ষণ ভেঙে দেয়। জয় ক্যাচের সিদ্ধান্ত রিভিউ করতে চাইলেও ম্যাচে ডিআরএস না থাকায় আম্পায়ারের সিদ্ধান্তই বহাল থাকে।
অন্য ওপেনার সাদমান ইসলাম ২০ রান করে কিছুটা স্বস্তি দিলেও অতিরিক্ত বাউন্সে দ্বিতীয় স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান। এরপর মুমিনুল হক ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত তৃতীয় উইকেটে ইনিংস গড়ার চেষ্টা করেন।
দুই ব্যাটারের মধ্যে সবচেয়ে আত্মবিশ্বাসী ছিলেন মুমিনুল। সাবলীল ব্যাটিংয়ে নিয়মিত রান তুলছিলেন তিনি। অন্যদিকে শুরুতে স্লিপে জীবন পেলেও শান্ত ছিলেন বেশ সতর্ক। তবে ৭৩ বল খেলে ১৯ রান করার পর রান তোলার গতি বাড়াতে গিয়ে ব্র্যাড ইভান্সকে এগিয়ে খেলতে গিয়ে উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ দেন।
বাংলাদেশের পতনের শুরুটা হয় মুমিনুলের বিদায়ের পর। দ্বিতীয় স্লিপে সহজ ক্যাচ দিয়ে ৪৬ রান করে ফিরে যান তিনি। এরপর আর দাঁড়াতেই পারেনি বাংলাদেশের মিডল অর্ডার। অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম মাত্র ৯ রান করে রিচার্ড এনগারাভার ইয়র্কারে বোল্ড হন। এরপর অভিষিক্ত তাওহিদ হৃদয় ৩ এবং আমিতে হাসান ৪ রান করে ভুল শট খেলতে গিয়ে আউট হন।
১৩২/৭ থেকে শেষ তিন উইকেটও কোনো রান না যোগ করেই হারায় বাংলাদেশ। ফলে ১১৩/২ থেকে ১৪০ অলআউট হওয়ার হতাশাজনক চিত্রই দেখতে হয় সফরকারীদের।
জিম্বাবুয়ের হয়ে নিউম্যান নিয়ামহুরি ক্যারিয়ারসেরা বোলিং করে ১২.২ ওভারে ৬১ রানে নেন ৪ উইকেট। এছাড়া রিচার্ড এনগারাভা, ব্লেসিং মুজারাবানি ও ব্র্যাড ইভান্স দুটি করে উইকেট শিকার করেন।
১৪১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ছিল জিম্বাবুয়ে। ইনোসেন্ট কাইয়া ও বেন কারানের উদ্বোধনী জুটিতে আসে ৮৯ রান। কারান ৪২ রান করে খালেদ আহমেদের বলে স্লিপে শান্তর হাতে ধরা পড়লেও তাতে ম্যাচে ফিরতে পারেনি বাংলাদেশ।
কাইয়া বরং আরও দৃঢ়ভাবে ইনিংস এগিয়ে নিয়ে যান। ১০৮ বলে অপরাজিত ৭৬ রান করে দিনের খেলা শেষ করেন তিনি। তার সঙ্গে ব্রেন্ডন টেলর ১৭ রানে অপরাজিত ছিলেন।