শতভাগ ফিট হতে কতদিন লাগবে নাহিদ রানার?

ক্রীড়া প্রতিবেদক

মেডিকেল অ্যাসেসমেন্ট শেষে সোমবার অস্ট্রেলিয়া থেকে দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশের গতিদানব নাহিদ রানা। গ্রেড-২ সাইড স্ট্রেইনের চিকিৎসার জন্য পুনর্বাসন বা রিহ্যাভ শুরু করার আগে তাকে অন্তত এক সপ্তাহের বিশ্রামের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শুরুর পর খেলায় ফিরতে তাকে অপেক্ষা করতে হবে বেশ কিছুটা লম্বা সময়।

গত ১৭ জুলাই ইনজুরিতে পড়ায় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আসন্ন দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ থেকে ছিটকে যান রানা। সাইড স্ট্রেইনের পাশাপাশি তার শিন বোনের (পায়ের হাঁটু থেকে গোড়ালির পেছনের হাড়) সমস্যার জন্য স্ক্যান করা হয়েছিল।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) মেডিকেল বিভাগের এক সূত্র জানায়, ‘তার শিন বোনে কিছুটা সমস্যা ছিল, তবে পরীক্ষার পর সবকিছু ঠিকঠাক দেখা গেছে এবং আপাতত ভালো অবস্থায় আছে। তার সাইড স্ট্রেইনের জন্য রিহ্যাভ শুরু করার আগে অন্তত এক সপ্তাহের বিশ্রামের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।’

আঘাত পাওয়ার তারিখ থেকে পুনর্বাসনের সময়সীমা আনুমানিক আট সপ্তাহ ধরা হয়েছে। এক সপ্তাহ পর এই পেসারের পুনরায় শারীরিক মূল্যায়ন করা হবে, এরপরই তিনি সুস্থতার মূল ধাপে প্রবেশ করবেন।

মেডিকেল বিভাগের সূত্রটি আরও যুক্ত করে, ‘প্রথম ছয় সপ্তাহে শরীর স্বাভাবিকভাবেই ছেঁড়া টিস্যু নিরাময় করে। এরপর ফিজিওরা টিস্যুকে আবার স্থিতিস্থাপক ও নমনীয় করার জন্য ম্যানুয়াল থেরাপি, জেল এবং নির্দিষ্ট চিকিৎসা ব্যবহার করেন। সেরে ওঠার কয়েকটি ধাপ রয়েছে। প্রথমত, আমরা পরীক্ষা করে দেখি ব্যথা পুরোপুরি কমেছে কি না, এরপর স্ট্রেন্থ বিল্ডিং বা শক্তি বাড়ানোর কাজ করা হয় এবং তারপর তিনি ধীরে ধীরে বোলিং শুরু করতে পারেন। তিনি ১০০ শতাংশ তীব্রতায় বল করতে সক্ষম হলে বোলিং কোচ, ফিটনেস কোচ এবং ফিজিও তার ওয়ার্কলোড মূল্যায়ন করবেন। পরিশেষে, এই ওয়ার্কলোড এবং ফিটনেস পর্যায়টি ধীরে ধীরে তার বোলিং সক্ষমতা বাড়াবে, যতক্ষণ না তিনি প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটের জন্য তৈরি হন।’

প্রয়োজনীয় বোলিং ওয়ার্কলোড সম্পন্ন না করা পর্যন্ত বিসিবি মেডিকেল বিভাগ তাকে খেলার ছাড়পত্র দেবে না বলেও জানানো হয়।

২২ বছর বয়সী এই পেসারের সেরে ওঠা নিয়ে আশাবাদী রানার ছোটবেলার বোলিং কোচ আলমগীর কবির। তিনি এক সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘আমার ধারণা অনুযায়ী, আরও অন্তত দুই-তিন সপ্তাহ সময় লাগবে। বোলিংয়ের কারণে সাইড স্ট্রেইন হতে পারে, তবে আমার মনে হয় রিহ্যাভ ঠিকঠাক করলে তিনি দ্রুতই মাঠে ফিরবেন।’

এদিকে শরিফুল ইসলামের সেরে ওঠা নিয়েও আশাবাদী বিসিবি। একই ধাপগুলো অতিক্রম করার পর গত ২৯ জুলাই থেকে বোলিং ওয়ার্কলোড শুরু করেছেন তিনি। আগামী ২২ আগস্ট থেকে শুরু হতে যাওয়া দ্বিতীয় টেস্টের জন্য তাকে বিবেচনা করা হবে কি না—সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ১২ আগস্ট এই বাঁহাতি পেসারকে ফিটনেস টেস্ট দিতে হবে।

গত রবিবার রাতে অস্ট্রেলিয়া রওনা হওয়ার আগে প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার বলেছিলেন, ‘তার (শরিফুল) অগ্রগতি লিটনের মতোই ভালো হচ্ছে। তবে যেহেতু তিনি একজন পেসার, তাই তাকে কিছুটা বেশি পরিশ্রম করতে হবে... তবে আমি আশাবাদী দ্বিতীয় টেস্টের জন্য আমরা তাকে পাব।’