স্মিথের উইকেট কেন হাসানের কাছে সবচেয়ে বিশেষ

স্পোর্টস ডেস্ক

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম দিনেই বাংলাদেশের পেসারদের তোপে দিশেহারা স্বাগতিক ব্যাটাররা। আর সেই তোপের সবচেয়ে বড় ঝড়টা তুলেছেন হাসান মাহমুদ। একে একে ছয় অজি ব্যাটারকে সাজঘরে পাঠিয়ে ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ের কীর্তি গড়েছেন এই পেসার। তবে এমন দাপুটে পারফরম্যান্সের পরও হাসানের মনে আলাদা জায়গা করে নিয়েছে স্টিভ স্মিথের উইকেট।

ডারউইনে প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে গুটিয়ে দিতে বাংলাদেশের বোলারদের নেতৃত্ব দিয়েছেন হাসান। ৫৫ রানে ৬ উইকেট নিয়ে ক্যারিয়ারসেরা বোলিং করার পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে পাঁচ উইকেট নেওয়া প্রথম বাংলাদেশি পেসার হয়েছেন তিনি। ট্রাভিস হেড, স্টিভ স্মিথ, জ্যাক ওয়েদারল্ডদের মতো ব্যাটারদের শিকার করে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ের মেরুদণ্ডই ভেঙে দিয়েছেন ডানহাতি এই পেসার।

স্মিথের উইকেটটি হাসানের জন্য শুধু আরেকটি শিকার নয়, বরং সেটি ছিল ব্যাটারের মানসিকতা পড়া এবং সেই অনুযায়ী মুহূর্তের মধ্যে পরিকল্পনা বদলে সাফল্য পাওয়ার গল্প। ম্যাচ শেষে নিজের সবচেয়ে বিশেষ উইকেট বেছে নিতে বলা হলে তাই অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়কের নামই নিয়েছেন হাসান।

প্রথমে অবশ্য কোনো একটি উইকেটকে আলাদা করতে চাননি তিনি। পাঁচ উইকেটের মাইলফলক পূরণ করতে প্রতিটি শিকারই গুরুত্বপূর্ণ, এমনটাই মনে করেন হাসান। একই সঙ্গে নিজের দুর্দান্ত বোলিংয়ের কৃতিত্ব একা নিতে চাননি। বরং সকাল থেকে সতীর্থদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং অধিনায়কের সমর্থনকেই সামনে রেখেছেন তিনি।

‘আমার কাছে সব উইকেটই বিশেষ। কারণ পাঁচটি উইকেট ছাড়া তো ফাইফার হতো না। তবে সকাল থেকে দলের যে শক্তি ছিল এবং মাঠে সবাই যেভাবে সম্মিলিতভাবে চেষ্টা করেছে, তার কৃতিত্ব অবশ্যই সতীর্থদের দিতে হবে। অধিনায়কও আমাদের দারুণ সমর্থন করেছে,’ বলেন হাসান।

তবে নির্দিষ্ট করে জানতে চাইলে স্মিথের উইকেটকেই সবার ওপরে রেখেছেন হাসান। কারণ সেই উইকেটের পেছনে ছিল তার নিজের অনুমান। স্মিথ তখন আক্রমণাত্মক হওয়ার চেষ্টা করতে পারেন, এমনটা আঁচ করেছিলেন বাংলাদেশের পেসার। সেই ভাবনা থেকেই বেছে নিয়েছিলেন বাউন্সার। শেষ পর্যন্ত সেই বলেই ব্যর্থ হন স্মিথ।

হাসানের ভাষায়, ‘আমি অবশ্যই স্মিথের উইকেট বলব। সে বুঝতে পারছিল না আমি কী করতে যাচ্ছি। আমার প্রবৃত্তি বলছিল, সে আক্রমণাত্মক কিছু করার চেষ্টা করবে। তাই আমি বাউন্সার করেছি, আর সে সেটি মিস করেছে।’

হাসানের এই সাফল্যের পেছনে অবশ্য শুধু ব্যক্তিগত দক্ষতা নয়, ডারউইনের কন্ডিশনও বড় ভূমিকা রেখেছে। সকালে উইকেটে ছিল আর্দ্রতা, নরমভাব এবং সিম মুভমেন্ট। সেই সুবিধা কাজে লাগিয়ে শুরু থেকেই লাইন-লেন্থে শৃঙ্খলা ধরে রাখে বাংলাদেশের পেস আক্রমণ। এক প্রান্তে হাসানের সঙ্গে তাসকিন আহমেদ ও ইবাদত হোসেনের ধারাবাহিক বোলিং অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের ওপর চাপ বাড়িয়ে দেয়।

প্রথম সেশনে অস্ট্রেলিয়া চার উইকেট হারানোর পরও স্বস্তি পায়নি। দ্বিতীয় সেশনেও আরও চার উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে স্বাগতিকরা। আর শেষ সেশনে হাসানের আঘাতেই দ্রুত গুটিয়ে যায় তাদের ইনিংস। শেষ পর্যন্ত ১৯৮ রানে থামে অস্ট্রেলিয়া, যার মধ্যে ৫৫ রানে ৬ উইকেট হাসানের একার।

এই পারফরম্যান্সে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে নতুন ইতিহাসও লিখেছেন তিনি। ভারত ও পাকিস্তানের পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতেও পাঁচ উইকেট, বিদেশের মাটিতে বিশ্বের সেরা দলগুলোর বিপক্ষে হাসানের ধারাবাহিকতার প্রমাণও যেন এটি।

তবে হাসানের কাছে ভারত, পাকিস্তান কিংবা অস্ট্রেলিয়া, কোনো একটি ফাইফারই সেরা নয়। তিনটিকেই বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন তিনি। বরং এই সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে সামনে আরও চ্যালেঞ্জ সামলানোই এখন তার লক্ষ্য।