স্টার্কের তোপে স্রেফ ৬৪ রানেই গুটিয়ে গেল বাংলাদেশ
প্রথম ছয় ব্যাটারের চারজন আউট হলেন শূন্য রানে, দুই অঙ্কে যেতে পারলেন না কেউ। মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্সের গোলা সামলে রান যা করার করলেন টেল এন্ডাররা। ৬৪ রানে গুটিয়ে যাওয়ার ইনিংসে সর্বোচ্চ রান করলেন এগারো নম্বরে নামা শরিফুল ইসলাম। বাংলাদেশের ইনিংসের দুর্দশা এতেই স্পষ্ট।
ডারউইনে ঐতিহাসিক জয়ে উড়তে থাকা বাংলাদেশ ম্যাকাইতে নামল মাটিতে। দ্বিতীয় টেস্টে দেড় সেশনেই শেষ হয়ে গেল প্রথম ইনিংস। বাংলাদেশকে ৬৪ রানে অলআউট করে ১২ রানে ৬ উইকেট নিলেন স্টার্ক, ২৫ রানে ৩ উইকেট নেন ৩ উইকেট। হ্যাজেলউড নেন বাকি এক উইকেট।
১৯ বলে ১৪ রান করে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ স্কোরার শরিফুল।
টেস্টে এরচেয়ে কম রানে গুটিয়ে যাওয়ার রেকর্ড আছে বাংলাদেশের আরও তিনটি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২০১৮ সালে ৪৩, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২০২২ সালে ৫৩ ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২০০৭ সালে ৬২ রানে থেমেছিলো বাংলাদেশের ইনিংস।
লাঞ্চের পর ফিরে আর টিকতে পারেননি মিরাজ-হাসান কেউ। কামিন্সের বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ১১ রানেই থামেন মিরাজ। হাসানও দুই অঙ্কে গিয়ে বিদায়। তাকে লেগ স্লিপের ফাঁদ পেতে শিকার ধরেন জশ হ্যাজেলউড। তাসকিন আহমেদ একবার ক্যাচ দিয়ে বাঁচার পর বাজে শটে ফেরেন ১ রান করে। ৩৯ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে তখন টেস্টে নিজেদের ইতিহাসে সর্বনিম্ন রানে গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কায়, শরিফুল ইসলাম সেই রেকর্ড থেকে দলকে রক্ষা করেন ছোট্ট ক্যামিওতে।
টস জিতে বল হাতে নিয়ে প্রথম বলেই ফেরান সাদমান ইসলামকে। তার বলে ফ্লিকের মতো করতে গিয়ে আউটসাইড এজড হয়ে ক্যাচ দেন বাংলাদেশের ওপেনার। আরেক ওপেনার তানজিদ হাসান ব্যাট পেতে দিয়ে একইভাবে ক্যাচ।
অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত এলবিডব্লিউ হওয়ার পর মুমিনুল হককেও স্লিপে ক্যাচ বানান স্টার্ক। লিটন দাস ক্যাচ দিয়ে বাঁচার পর শিকার হন এলবিডব্লিউর। ১২ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে চরম বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ে বাংলাদেশ।
এরপর কিছুটা সময় বিরতি। স্টার্ক আক্রমণ থেকে সরে গেলে যেন স্বস্তি পেয়েছিলো বাংলাদেশ। অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম ছিলেন থিতু হওয়ার চেষ্টায়। তবে তার প্রতিরোধ ভাঙেন প্যাট কামিন্স। মুশফিকের স্টাম্প উড়িয়ে দেন তিনি। ২১ রানে পড়ে ৬ উইকেট। তখনো কোন ব্যাটারই দুই অঙ্কে যাননি।
টেল এন্ডার হাসানকে নিয়ে প্রথম সেশনের বাকিটা পার করে দুই অঙ্ক স্পর্শ করেছিলেন মিরাজ। কিন্তু লাঞ্চ থেকে ফিরে দ্রুতই বিদায় নেন তারা।