ওয়ানডেতেও যেখানে উত্তর খুঁজতে হবে অস্ট্রেলিয়াকে

স্পোর্টস ডেস্ক

ওয়ানডে থেকে আগেই অবসরে গেছেন স্টিভ স্মিথ। এবার অফ-ফর্মের কারণে বাদ পড়লেন মারনাশ লাসবুশানেও। কিছুদিন আগেও যে দুজনকে ছাড়া অস্ট্রেলিয়ার ওয়ানডে একাদশ কল্পনাই করা যেত না, ২০২৭ বিশ্বকাপের আগে তাদের ছাড়াই নতুন পথচলা শুরু করতে হচ্ছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের। টেস্টের পাশাপাশি ওয়ানডেতেও পালাবদলের একটা চ্যালেঞ্জে পড়তে যাচ্ছে দলটি। 

জিম্বাবুয়ে ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে আসন্ন সিরিজ দুটি ওডিআই বিশ্বকাপের ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আর এই মহড়াতেই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—স্মিথ ও লাবুশানে পরবর্তী যুগে অজিদের মিডল অর্ডারের শূন্যতা পূরণ করবেন কে?

দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে টেস্ট দলের বিবেচনায় লাবুশানে থাকলেও ৫০ ওভারের ক্রিকেটে তার জায়গা হারানো নিশ্চিত হয়ে গেছে। অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাচক জর্জ বেইলি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, দলের নতুন কৌশলে আপাতত লাবুশানের জায়গা হচ্ছে না, ‘আমাদের হয়ে লাবুশানে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেছে। কিন্তু বর্তমানে আমরা যেভাবে ওডিআই দলটাকে সাজাচ্ছি, সেখানে তাকে রাখা সম্ভব হচ্ছে না।’

সাম্প্রতিক ওডিআই রেকর্ড মোটেও স্বস্তিদায়ক নয় অজিদের জন্য; শেষ ছয়টি দ্বিপক্ষীয় সিরিজের পাঁচটিতেই হেরেছে তারা। তবে প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক, জশ হ্যাজেলউড, মিচেল মার্শ ও ট্রাভিস হেডের মতো পাঁচ বিশ্বকাপজয়ী তারকা ফেরায় আফ্রিকা সফর নিয়ে নতুন আশা দেখছে অজিরা। টপ অর্ডার ও পেস আক্রমণ শক্তিশালী হলেও স্মিথ, গ্লেন ম্যাক্সওয়েলদের অবসরে চার থেকে সাত নম্বর পজিশন সামলানোই এখন মূল উদ্বেগের কারণ।

উপমহাদেশে সম্প্রতি কুপার কনলি ও জশ ইংলিস ভালো পারফর্ম করলেও তারা মূলত টপ অর্ডার ব্যাটার। হেড ও মার্শ ফেরায় ইংলিসের পাশাপাশি অ্যালেক্স ক্যারি, ক্যামেরন গ্রিন, ম্যাট রেনশ এবং নতুন দুই মুখ অলি পিক ও জোয়েল ডেভিসকে মিডল অর্ডারের দায়িত্ব সামলাতে হবে।

তবে স্মিথ বা লাবুশানের মতো উইকেট আঁকড়ে পড়ে থাকা প্রথাগত 'অ্যাঙ্কর' ব্যাটার খুঁজে ফিরতে রাজি নন বেইলি। অজিদের সাবেক এই ব্যাটার স্পষ্ট জানান, তারা কোনো নির্দিষ্ট ছাঁচের ক্রিকেটার খুঁজছেন না। পরিস্থিতি বুঝে খেলার ধরণ বদলে নেওয়ার (মর্ফ) ক্ষমতাই এখন শেষ কথা।

বেইলি বলেন, ‘আমাদের স্কোয়াডে যে ব্যাটাররা আছে, তাদের সেই ক্ষমতা রয়েছে—তবে তারা তো আর স্টিভ স্মিথ নয়! অজি দলের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো পরিস্থিতি অনুযায়ী নিজেদের বদলে নেওয়ার ক্ষমতা। ওডিআইতে মিডল অর্ডারে নির্দিষ্ট কোনো ভূমিকা থাকে না—কখনো ৩০ রানে ২ উইকেট পড়ার পর নামতে হয়, আবার কখনো রান তাড়ায় ঝোড়ো শেষ টানতে হয়। পরিস্থিতি বুঝে মানিয়ে নেওয়াই মূল বিষয়। বিশ্বকাপ যত এগোবে, ভূমিকাগুলো আরও পরিষ্কার হবে।’

পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৩ বিশ্বকাপ জয়ের পর চার থেকে আট নম্বরে অজিদের হয়ে ইংলিস (গড় ৪২) ও ক্যারি (গড় ৪০) ছাড়া কেউ ধারাবাহিক হতে পারেননি। অথচ ২০১৯ থেকে ২০২৩ সময়কালে সেই জায়গাগুলোতে ম্যাক্সওয়েল, লাবুশানেদের গড় ছিল ৩৮ থেকে ৪১-এর কোঠায়।

দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের এই ছয় ওডিআইয়ের পর আগামী ৮ মাস ওডিআই থেকে দীর্ঘ বিরতিতে যাবে অস্ট্রেলিয়া। তাই বিশ্বকাপের রূপরেখা তৈরিতে এই ছয় ম্যাচকেই পাখির চোখ করছেন নির্বাচকরা। নেতৃত্বের ক্ষেত্রেও ফ্লেক্সিবল ভাবনায় রয়েছে দল। টেস্টের চাপ কমাতে অধিনায়ক প্যাট কামিন্স কিছু ম্যাচে বিশ্রাম নিতে পারেন, যেখানে নেতৃত্ব সামলাবেন মিচেল মার্শ।

অস্ট্রেলিয়া ওডিআই স্কোয়াড:

মিচেল মার্শ, প্যাট কামিন্স, জেভিয়ার বার্টলেট, অ্যালেক্স ক্যারি, কুপার কনলি, জোয়েল ডেভিস, নাথান এলিস, ক্যামেরন গ্রিন, জশ হ্যাজেলউড, ট্রাভিস হেড, জশ ইংলিস, স্পেন্সর জনসন, অলিভার পিক, ম্যাথিউ রেনশ, বিলি স্ট্যানলেক, মিচেল স্টার্ক , অ্যাডাম জাম্পা।