রিজওয়ান-ইমামের বাদ পড়ার নেপথ্যে আচরণও

স্পোর্টস ডেস্ক

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টানা দুই টেস্ট হারের পর সাত ক্রিকেটার ও দুই কোচকে মাঝপথে দেশে ফেরানোর সিদ্ধান্তের এক সপ্তাহ হতে চললেও আলোচনা থেমে নেই। এরমধ্যেই সেই নাটকীয় সিদ্ধান্তের নেপথ্যের নতুন নতুন তথ্য সামনে আসছে। এবার জানা গেল, মোহাম্মদ রিজওয়ান ও ইমাম-উল-হকের বাদ পড়ার পেছনে শুধু মাঠের পারফরম্যান্স নয়, ড্রেসিংরুমের আচরণও ভূমিকা রেখেছে।

প্রথম দুই টেস্টে হারের পর পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) নেওয়া কঠোর সিদ্ধান্তে দেশে ফেরত পাঠানো হয় রিজওয়ান, ইমাম ও সালমান আলী আগাকে। একই সঙ্গে টেস্ট দলের কোচ সারফরাজ আহমেদকে সরিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয় মাইক হেসনকে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এজবাস্টনে আগামী ৯ সেপ্টেম্বর শুরু হতে যাওয়া সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্টে তিনিই দায়িত্ব সামলাবেন।

রিজওয়ানের পারফরম্যান্স অবশ্যই তাকে স্বস্তি দেওয়ার মতো ছিল না। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলা চার ইনিংসে ডানহাতি এই ব্যাটার করেছেন মাত্র ৬১ রান। লর্ডস টেস্টে তার কয়েকটি বাজে শট এবং ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝে ব্যাটিং করতে না পারা নিয়েও উঠেছিল প্রশ্ন।

অন্যদিকে, লর্ডস টেস্টে একবারও ব্যাট হাতে নামতে পারেননি ইমাম। প্রথম দিনের ফিল্ডিংয়ের সময় কাফের চোট পাওয়ার পর তাকে আর ব্যাট করতে দেখা যায়নি। কিন্তু তার চোটের ধরন এবং দুই ইনিংসেই ব্যাট না করার বিষয়টি নিয়ে পরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। এমনকি তার দলের প্রতি দায়বদ্ধতা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন অনেকে।

তবে সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রিজওয়ান ও ইমামকে দল থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত কেবল তাদের সাম্প্রতিক ফর্মের ভিত্তিতে নেওয়া হয়নি। ড্রেসিংরুমে তাদের আচরণও এর পেছনে ভূমিকা রেখেছে।

আরও জানা গেছে, সালমান, ইমাম ও রিজওয়ানকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ড সফরের সময় ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনার বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে তদন্ত কমিটির সামনে হাজির হতে বলা হতে পারে।

সালমানের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও বিস্ময়কর। বাবর আজম চোটের কারণে প্রথম টেস্টে না থাকায় তিনিই পাকিস্তানকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। কিন্তু দ্বিতীয় টেস্টে তাকেই একাদশ থেকে বাদ দেওয়া হয়। এরপর তৃতীয় টেস্টের আগেই তাকে দেশে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় পিসিবি।

সাত ক্রিকেটারের মধ্যে রিজওয়ান, ইমাম ও সালমানকে ঘিরে যখন আচরণগত প্রশ্ন উঠছে, তখন অন্যদের দেশে ফেরানোর কারণ হিসেবে সামনে এসেছে মাইক হেসনের পরিকল্পনা।

পিটিআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তীকালীন টেস্ট কোচ হেসনের সুপারিশেই বাকি ক্রিকেটারদের দেশে ফেরানো হয়েছে। সাদা বলের দলের ক্যাম্পে যেসব ক্রিকেটারের সঙ্গে তিনি কাজ করেছেন, তাদের কয়েকজনকে টেস্ট দলে সুযোগ দিতে চেয়েছিলেন হেসন।

একটি সূত্র পিটিআইকে বলেছে, ‘বাকি যেসব খেলোয়াড়কে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে, সেটা অন্তর্বর্তীকালীন টেস্ট কোচ মাইক হেসনের সুপারিশেই। তিনি সাদা বলের ক্যাম্পে যেসব খেলোয়াড়ের সঙ্গে কাজ করেছেন, তাঁদের কয়েকজনকে সুযোগ দিতে চেয়েছেন।’

পাকিস্তানের ক্রিকেটে চলমান অস্থিরতার আঁচ এবার পড়তে পারে নির্বাচক কমিটিতেও। পিটিআইয়ের দাবি, পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি বড় ধরনের পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছেন এবং সিনিয়র নির্বাচক আকিব জাভেদকে নির্বাচক কমিটি থেকে সরিয়ে দেওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

এরই মধ্যে আরেক নির্বাচক মিসবাহ-উল-হক পদত্যাগ করেছেন। যদিও তার পদত্যাগ পিসিবি গ্রহণ করেছে কি না, সেটি এখনো পরিষ্কার নয়।

মিসবাহর পদত্যাগের পেছনেও সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহের প্রভাব রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইমাম ও রিজওয়ানকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ড সফরের টেস্ট দলে কেন রাখা হয়েছিল, সে বিষয়ে নির্বাচক কমিটির কাছে কারণ জানতে চেয়ে শোকজ নোটিশ দিয়েছিল পিসিবি।

এদিকে তৃতীয় টেস্টের জন্য দায়িত্ব পাওয়া মাইক হেসনকেই স্থায়ীভাবে টেস্ট দলের প্রধান কোচ করার পরিকল্পনা করছে পিসিবি। তবে সেটি পুরোপুরি নির্ভর করছে হেসন দায়িত্বটি নিতে রাজি হন কি না, তার ওপর।

পিটিআইকে দেওয়া এক সূত্রের ভাষ্য, হেসন রাজি না হলে আগামী নভেম্বর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ঘরের মাঠের সিরিজের আগেই অন্য কাউকে কোচ হিসেবে নিয়োগ করবে পিসিবি।