ইমরান খানের সঙ্গে ‘ন্যায্য আচরণ’ করার আহ্বান আকরামের
পাকিস্তানের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা পেসার তিনি। আবার ইমরান খানের নেতৃত্বে ১৯৯২ বিশ্বকাপজয়ী দলেরও গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন। সেই ইমরানই এখন কারাগারে। তিন বছর ধরে সাবেক অধিনায়কের কোনো ছবিও দেখেননি ওয়াসিম আকরাম। ইমরানের এই অবস্থায় পাকিস্তান সরকারের প্রতি তার সঙ্গে ‘ন্যায্য আচরণ’ করার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির কিংবদন্তি এই পেসার।
ইমরান খান ২০২৩ সাল থেকে কারাগারে আছেন। গত বছরের শেষ দিকে দুর্নীতির মামলায় তাকে ও তার স্ত্রীকে ১৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে দুজনেই তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।
সম্প্রতি ইংল্যান্ড ও পাকিস্তানের মধ্যকার লর্ডসে দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিনের মধ্যাহ্নবিরতিতে সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক মাইকেল আথারটনের নেওয়া একটি সাক্ষাৎকার প্রচার করে স্কাই স্পোর্টস। সেখানে ইমরানের দুই ছেলে কাসিম ও সুলাইমান পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ তাদের বাবার সঙ্গে যে আচরণ করছে, তার তীব্র সমালোচনা করেন।
সাক্ষাৎকারটি প্রচারের পর পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড এতটাই ক্ষুব্ধ হয়েছিল যে, কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, মধ্যাহ্নবিরতির পর মাঠে নামতে অস্বীকৃতি জানানোর কথাও বিবেচনা করেছিল তারা। শেষ পর্যন্ত অবশ্য কোনো বয়কট হয়নি। নির্ধারিত সময়েই খেলা শুরু হয় এবং পাকিস্তান ১৯৪ রানে হেরে যায়। ফলে তিন ম্যাচের সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে তারা।
এর আগে আগস্টে মাইকেল আথারটনসহ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সাবেক ২১ অধিনায়ক ইমরান খানের সঙ্গে মানবিক ও ‘মৌলিক মানবিক বিবেচনা’ অনুযায়ী আচরণ করার জন্য পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন। এবার সেই উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানিয়ে নিজের অবস্থানও স্পষ্ট করলেন ওয়াসিম।
সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক ইয়ান বোথামের সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালিত ‘ওল্ড বয়েজ, নিউ বলস’ পডকাস্টে ওয়াসিম বলেন, ‘ইমরানের পক্ষে সম্প্রতি যারা আবেদনপত্রে স্বাক্ষর করেছেন, সেই সব অধিনায়ককে আমরা ধন্যবাদ জানাতে চাই।’
ইমরানকে বন্ধু, পরামর্শদাতা ও নেতা হিসেবে কতটা মিস করেন, সেটিও জানিয়েছেন পাকিস্তানের কিংবদন্তি বাঁহাতি পেসার, ‘আমি আমার অধিনায়ককে মিস করি। একজন বন্ধু হিসেবে তাঁকে মিস করি, একজন পরামর্শদাতা হিসেবে মিস করি, একজন নেতা হিসেবে মিস করি। আমরা তিন বছর ধরে তাঁর কোনো ছবিও দেখিনি।’
এরপর পাকিস্তান সরকারের উদ্দেশে সরাসরি আহ্বান জানান আকরাম, ‘আমরা এই সরকারের কাছে যা চাই, তা হলো আগে অন্য রাজনীতিবিদদের সঙ্গে যেভাবে আচরণ করা হয়েছে, তার সঙ্গেও যেন ন্যায্য আচরণ করা হয়।’
ইমরানের মুক্তির আশাও প্রকাশ করেছেন আকরাম, ‘আঙুল ক্রস করে রাখছি। ইনশাআল্লাহ, পুরো জাতি তাঁর পাশে আছে এবং আশা করি তিনি শিগগিরই মুক্তি পাবেন।’
ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পর রাজনীতিতে যোগ দেন ইমরান খান। ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তিনি। তবে তার সরকারের সঙ্গে দেশটির প্রভাবশালী সামরিক প্রতিষ্ঠানের টানাপোড়েনের মধ্যে রাজনৈতিক সংকট তৈরি হলে অনাস্থা ভোটে প্রধানমন্ত্রিত্ব হারান তিনি।
এরপর দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা হয়। ইমরান খান ও তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ বরাবরই দাবি করে আসছে, তার বিরুদ্ধে করা এসব মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
২০২৩ সালের মে মাসে ইমরানের গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। কোথাও কোথাও তা সহিংস রূপ নেয়। এর জেরে শত শত মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়।