বাটলারের বীরত্বও থামাতে পারেনি শ্রীলঙ্কাকে

স্পোর্টস ডেস্ক

সিরিজ জয়ের খুব কাছে গিয়েও শেষ পর্যন্ত পারল না ইংল্যান্ড। জস বাটলারের বীরত্বপূর্ণ লড়াইও শেষ পর্যন্ত দলকে জেতাতে পারেনি। চোট নিয়েও ব্যাটিংয়ে ফিরে ম্যাচ জমিয়ে তুলেছিলেন ইংলিশ অধিনায়ক, কিন্তু শেষদিকে শ্রীলঙ্কার বোলারদের দারুণ নিয়ন্ত্রণে ১৬ রানের জয় তুলে নিয়েছে সফরকারীরা। তাতে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজও ১-১ সমতায় ফিরেছে।

আগে ব্যাট করে অধিনায়ক কুশল মেন্ডিসের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে ৬ উইকেটে ৩২১ রান তুলেছিল শ্রীলঙ্কা। জবাবে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে ইংল্যান্ড। টম ব্যান্টন ও বেন ডাকেটের উদ্বোধনী জুটিতেই আসে ১৪৩ রান। ২০ ওভারের মধ্যেই বড় লক্ষ্যের অর্ধেকের কাছাকাছি পৌঁছে যায় স্বাগতিকরা।

ডাকেট ৬৭ এবং ব্যান্টন ৭৩ রান করে আউট হওয়ার পরও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ইংল্যান্ডের হাতেই ছিল। তবে বাঁহাতি স্পিনার দুনিথ ওয়েলালাগে পরপর গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নিয়ে শ্রীলঙ্কাকে ম্যাচে ফেরান। প্রথমে ডাকেটকে বোল্ড করেন তিনি। এরপর ব্যান্টনকে স্টাম্পড করে ফেরানোর পর ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি ব্রুককেও মাত্র ১ রানে সাজঘরে পাঠান। নিজের ১০ ওভারে ৪৯ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে ইংল্যান্ডের রান তাড়ায় বড় ধাক্কা দেন ওয়েলালাগে।

তবু হাল ছাড়েননি বাটলার। ইংল্যান্ডের রান তাড়াকে আবারও জয়ের পথে নিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু ৬৭ রানে পৌঁছানোর পর একটি রান নিতে গিয়ে হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পান। এরপর মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন ইংলিশ ব্যাটার। তখনও জয়ের জন্য ইংল্যান্ডের সামনে ছিল সম্ভাবনা।

শ্রীলঙ্কা দ্রুত কয়েকটি উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচ নিজেদের দিকে ঘুরিয়ে আনলেও বাটলার আবারও মাঠে ফেরেন। শেষ দুই ওভারে ইংল্যান্ডের প্রয়োজন ছিল ২০ রান। খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে ব্যাটিং করেও দলকে জেতানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর পারেননি। মাত্র আরও ২ রান যোগ করার পর গভীর মিডউইকেটে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন বাটলার। তার বিদায়ের সঙ্গে কার্যত শেষ হয়ে যায় ইংল্যান্ডের জয়ের আশা।

এর আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন কুশল মেন্ডিস। দ্বিতীয় উইকেটে কামিন্দু মেন্ডিসের সঙ্গে ১৩৭ রানের জুটি গড়ে ইনিংসের ভিত গড়ে দেন তিনি। কামিন্দু করেন ৫৪ রান।

কুশল অবশ্য দুবার জীবন পেয়েছেন। ১৭ রানে গাস অ্যাটকিনসনের হাতে ক্যাচ দিয়ে বেঁচে যান তিনি। পরে ৯৯ রানে জেমি ওভারটনের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেওয়া হলে সঙ্গে সঙ্গে রিভিউ নেন। টেলিভিশন আম্পায়ারের রিপ্লেতে দেখা যায়, ব্যাটে বলের কোনো স্পর্শই হয়নি। পরের বলেই কভার ড্রাইভে চার মেরে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের সপ্তম সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক। শেষ পর্যন্ত ১২১ রানের দারুণ ইনিংস খেলেন তিনি।

পবন রত্ননায়েকে ৩৯ বলে ৪৮ রান করেন। রানআউট হয়ে ফেরার আগে তার ব্যাটে ছিল গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বাউন্ডারি। জানিথ লিয়ানাগে করেন ৩২ রান। ইংল্যান্ডের হয়ে একমাত্র উইকেটটি নেন জোফরা আর্চার, তবে ১০ ওভারে ৬৫ রান খরচ করেন তিনি।

এই জয়ে সফরে প্রথমবারের মতো কোনো ম্যাচ জিতল শ্রীলঙ্কা। এর আগে টি-টোয়েন্টি সিরিজে ইংল্যান্ডের কাছে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ হয়েছিল তারা। অন্যদিকে মঙ্গলবার চেস্টার-লি-স্ট্রিটে প্রথম ওয়ানডেতে ৮৯ রানের জয় পেয়েছিল ইংল্যান্ড।

তিন ম্যাচের সিরিজের শেষ ও নির্ধারণী ওয়ানডে হবে রোববার লন্ডনের দ্য ওভালে।