৮১১ রানের ম্যাচ জিতেও উইকেট নিয়ে অসন্তুষ্ট গম্ভীর

স্পোর্টস ডেস্ক

এক ম্যাচে ৮১১ রান, পাঁচটি সেঞ্চুরি, আর শুভমান গিলের ব্যাট থেকে ওয়ানডে ইতিহাসের রেকর্ড ডাবল সেঞ্চুরি। ভারত ম্যাচ জিতে সিরিজও নিশ্চিত করেছে। গুয়াহাটিতে যেন ব্যাটারদের উৎসব চলেছে। কিন্তু তাতে সন্তুষ্ট নন ভারতের কোচ গৌতম গম্ভীর। তার চোখে, এমন উইকেটে ব্যাট ও বলের লড়াইয়ের জায়গা নেই বললেই চলে। যেখানে বোলারদের জন্য কিছু করার সুযোগই থাকে না, সেখানে এমন ম্যাচকে আর প্রকৃত ক্রিকেট বলতে চান না তিনি।

বুধবার গুয়াহাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে আট উইকেটে হারিয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ নিশ্চিত করেছে ভারত। ম্যাচটিতে দুই দল মিলে করেছে ৮১১ রান, যা ওয়ানডে ইতিহাসে এক ম্যাচে তৃতীয় সর্বোচ্চ রান। এর মধ্যে দুই দলের বোলাররা খরচ করেছেন ৮০৭ রান, যা এই সংস্করণে তৃতীয় সর্বোচ্চ। ভারতের হয়ে শুভমান গিলের রেকর্ড গড়া ডাবল সেঞ্চুরিসহ পাঁচটি সেঞ্চুরিতে জমে ওঠে রান উৎসব। তবে এমন ব্যাটিং-সহায়ক উইকেটকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন না গম্ভীর।

ম্যাচ শেষে সম্প্রচারমাধ্যমকে গম্ভীর বলেন, 'সত্যি বলতে, আমার মনে হয় ব্যাট ও বলের মধ্যে আরও একটু লড়াই থাকা দরকার। আমরা ক্রিকেটের কথা বলি, কিন্তু এটা ক্রিকেট নয়, এটা শুধুই ব্যাটিং। ভাবুন তো, একজন তরুণ বোলার এমন উইকেটে বল করছে, প্রতিপক্ষ ৪০০ রান করল, এরপর আমাদের ৪০০ রান তাড়া করতে হলো। রেকর্ডের জন্য এটা অসাধারণ, দর্শকদের জন্যও দারুণ, সম্প্রচারমাধ্যমের জন্যও। কিন্তু একজন প্রকৃত ক্রিকেটপ্রেমী ও কোচ হিসেবে বোলারদের প্রতিও আমার সহানুভূতি থাকা দরকার।'

গম্ভীরের মতে, এমন উইকেটে বোলারদের প্রতি সুবিচার করা হয় না। তাই তাদের জন্যও কিছু সুযোগ রাখা জরুরি। তিনি বলেন, 'এ ধরনের উইকেটে বোলিং করা বোলারদের জন্য ন্যায্য নয়। বোলারদের এমন কিছু দিতে হবে, যাতে তাদেরও কাজ করার মতো কিছু থাকে।'

ভারতের পেসারদের কেউই ওভারপ্রতি ৯ রানের কম খরচ করতে পারেননি। তিনটি উইকেট পেলেও রান আটকাতে পারেননি তারা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের চার পেসারের প্রত্যেকের ইকোনমি রেট ছিল ৮-এর বেশি। তাদের দুজন ওভারপ্রতি ১০ রানেরও বেশি দিয়েছেন। উইকেট পেয়েছেন মাত্র দুটি। এমন পরিস্থিতিতে অভিষিক্ত আকিব নবিও ছিলেন রান বিলানোর তালিকায়। ৮.৫ ওভার বল করে ৮৪ রান দিলেও কোনো উইকেট পাননি জম্মু ও কাশ্মীরের এই পেসার।

তবে নবির বোলিং পরিসংখ্যান দিয়ে তার পারফরম্যান্সের বিচার করতে চান না গম্ভীর। বরং বোলাররা পরিকল্পনা অনুযায়ী বল করতে পেরেছেন কি না, সেটিকেই বেশি গুরুত্ব দিতে চান তিনি, 'প্রথমত, বোলারদের প্রতি একটু সহানুভূতি দেখাতে হবে, তাদের কিছুটা ছাড় দিতে হবে। অনেক সময় শুধু বোলিং পরিসংখ্যান দেখে বোলারদের কঠোর সমালোচনা করা যায় না। কারণ, তাদের বোলিংয়ের মান হয়তো পরিসংখ্যানে যতটা খারাপ দেখাচ্ছে, বাস্তবে ততটা খারাপ ছিল না। ব্যবধানটা খুবই সামান্য।'