‘আমার কাছে সেরা অপশন ছিলো মোস্তাফিজ’

ক্রীড়া প্রতিবেদক

উইকেটে আছে বড় বড় ফাটল, স্পিনারদের বল ঘুরছে, পিচে পড়ে থেমে আসছে। এসব উইকেটে মোস্তাফিজুর রহমানের কাটার সাধারণত হয় বিষাক্ত। তবে এশিয়ান গেমসের সেমিফাইনালে মোস্তাফিজ যেন অচেনা। ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ ধাপে ভীষণ খরুচে বল করলেন তিনি। বাংলাদেশও হেরে সোনার দৌড় থেকে ছিটকে গেল। তবে দলের সেরা বোলিং অস্ত্র বাজেও দিনেও অধিনায়ক লিটন দাসের সমর্থন পাচ্ছেন। 

জাপানের নাগোয়ায় খারাপ আবহাওয়ায় ১৩ ওভারে নেমে আসা ম্যাচ বাংলাদেশ হারে ৬ উইকেটে। আগে ব্যাট করে লিটনদের দেওয়া ১১১ রান ৯ বল আগেই পেরিয়ে ফাইনালে উঠে যায় পাকিস্তান। 

দলের সেরা পেসার মোস্তাফিজ দুই ওভার বল করে ১ উইকেট নিলেও দিয়ে দেন ৪১ রান! বিশেষ করে দশম ওভারটি ছিলো ম্যাচের মোড় ঘোরানো। তখন জিততে ২৪ বলে পাকিস্তানের দরকার ৩৬ রান। এসব পর্যায়ে মোস্তাফিজের ওভার বাংলাদেশকে অনেকবারই ম্যাচে চালকের আসনে নিয়ে যায়। কিন্তু এদিন ওই ওভারেই যেন ম্যাচ থেকে বেরিয়ে যায় লাল সবুজের প্রতিনিধিরা। 

মোস্তাফিজের ওই ওভার থেকে আব্দুল সামাদ চার বাউন্ডারি আর এক ছক্ক মেরে দেন। ২৩ রানের ওই ওভারের পর আর কোন আশা ছিলো না।

মোস্তাফিজের পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন উঠলে ম্যাচ শেষে জবাব দেন লিটন, ওই সময়ে বল করানোর জন্য মোস্তাফিজই আদর্শ ছিলেন বলে দৃঢ়ভাবে মনে করেন তিনি,  ‘মোস্তাফিজ তিন উইকেট পেলে আপনি প্রশ্ন করতেন না। এতদিন তো করে আসছে (ডেলিয়ার), আমার কাছে আমার কাছে বেস্ট অপশন মোস্তাফিজ ছিলো, তাকে ওই সময় বল করানো উপযুক্ত মনে হয়েছে তাই আমি করিয়েছি। আপনার কাছে যদি কখনো মনে হয় অন্য অপশন বেস্ট আপনি করাবেন।’ 

এদিন টসটাও ছিলো গুরুত্বপূর্ণ। ভেজা আউটফিল্ডের কারণে খেলা দেরিতে শুরু হওয়ায় আগে ব্যাট না করে রান তাড়ার চিন্তা ছিলো দলের। কিন্তু টস ভাগ্যে হেরে নামতে হয় ব্যাটিংয়ে। লিটনের মতে শুরুর কয়েক ওভার ওখানে ব্যাট করা ছিলো কঠিন। 

এশিয়ান গেমসে গিয়ে সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনালে মালোয়েশিয়ার কাছে নামার কথা ছিলো বাংলাদেশের। কিন্তু ম্যাচটি ভেস্তে যায় বৃষ্টিতে। র‍্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকায় না খেলেই সেমিতে উঠেন লিটনরা। এরপর প্রতিকূল আবহাওয়ায় দল অনুশীলন করতে পারেনি ঠিকমতো। লম্বা সময় বসে থাকা কাজে দেয়নি বলে জানান বাংলাদেশ অধিনায়ক। যদিও বাংলাদেশের মতো অনুশীলনের ঘাটতিতে ছিলো প্রতিপক্ষ দলও।