বোর্ডার-গাভাস্কার ট্রফি

ফেরার ম্যাচে জাদেজার ৫ উইকেট, অশ্বিনের মাইলফলকে উড়ছে ভারত

স্পোর্টস ডেস্ক

গত বছর অগাস্ট মাসে এশিয়া কাপে চোটে পড়ার পর থেকেই খেলার বাইরে ছিলেন রবীন্দ্র জাদেজা। অপারেশন টেবিলে পেরিয়ে প্রায় পাঁচ মাস পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরে জাদেজা দেখালেন বোলিংয়ে ধার কমেনি একটুও। সহায়ক উইকেটে তার বাঁহাতি স্পিনের ধাঁধা মেলাতে পারলেন না স্টিভেন স্মিথরা। রবীচন্দ্রন অশ্বিন সাড়ে চারশো উইকেট স্পর্শ করার দিনে থাকলেন বিষাক্ত। অস্ট্রেলিয়া গুটিয়ে গেল দুশোর আগেই।

বৃহস্পতিবার নাগপুরে বোর্ডার-গাভাস্কার ট্রফির প্রথম টেস্টের প্রথম দিনেই বিপদে পড়েছে অজিরা। আগে ব্যাটিং বেছে ভারতীয় স্পিনে কাবু হয়ে অলআউট হয়েছে মাত্র ১৭৭ রানে। পরে ব্যাট করতে নেমে ১ উইকেটে ৭৭ রান তুলে নিয়েছে ভারত। ফিফটি করে অপরাজিত আছেন অধিনায়ক রোহিত শর্মা।

৪৭ রানে ৫ উইকেট নিয়ে তাদের মূল হন্তারক জাদেজা। দ্বিতীয় দ্রুততম বোলার হিসেবে টেস্টে সাড়ে চারশো উইকেট স্পর্শ করার দিনে অশ্বিন ৪২ রানে নিয়েছেন ৩ উইকেট।

সফরকারীদের হয়ে ফিফটিও করতে পারেননি কেউ। দলের হয়ে ১২৩ বলে সর্বোচ্চ ৪৯ রান আসে মারনাশ লাবুশানের ব্যাটে।

সকালে টস জিতে ব্যাটিং বেছে শুরুতে পেস বলে আঘাত পায় অস্ট্রেলিয়া। দ্বিতীয় ওভারেই উসমান খাওয়াজাকে এলবিডব্লিউতে বিদায় করেন মোহাম্মদ সিরাজ। পরের ওভারে অ্যারাউন্ড দ্য উইকেটে এসে মোহাম্মদ শামি উপড়ে দেন ডেভিড ওয়ার্নারের স্টাম্প।

২ রানে ২ উইকেট হারিয়ে কেঁপে উঠা অস্ট্রেলিয়া পরে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা চালায় লাবুশান-স্মিথের জুটিতে। দলের অন্যতম সেরা দুই ব্যাটিং ভরসা তৃতীয় উইকেটে যোগ করেন ৮২ রান।

নাগপুরের বাইশগজের আচরণ দেখে স্পিন আক্রমণ আনতে দেরি করেননি ভারত অধিনায়ক রোহিত। শুরু থেকেই টার্ন আর বাউন্স পেতে থাকেন জাদেজা।

থিতু থাকা লাবুশানেকে স্টাম্পিং করে এই জুটি ভাঙেন  অন্যতম সেরা বাঁহাতি স্পিনার। বলের লেন্থ পড়তে না পেরে ক্রিজ থেকে বেরিয়ে ভারসাম্য রাখতে না পেরে বিদায় নিতে হয় তাকে। পরের বলেই ম্যাট রেনশোকে এলবিডব্লিউতে ছেঁটে ফেলে উল্লাসে মাতেন এই তারকা।

প্রতিরোধের পর আবার ধাক্কা খেয়ে হকচকিয়ে যাওয়া অজিদের ভরসা দিচ্ছিলেন স্মিথ। টিকে থাকার নিবেদন দেখাচ্ছিলেন তিনি। স্মিথকে জাদেজা ফেরান দারুণ এক আর্মারে। বোকা বনে যাওয়া সাবেক অজি কাপ্তান অবাক হয়ে ভেঙে যেতে দেখেন তার স্টাম্প।

Ravichandran Ashwin
৪৫০ উইকেট নিয়ে অশ্বিনের উল্লাস।

জাদেজার তিন শিকারের পর জ্বলে উঠেন অশ্বিনও। মাইলফলকের হাতছানি ছিল তার, সেই কাজ সারতে দেরি হয়নি। দ্বিতীয় সেশনের শুরুতেই মিলেছে সাফল্য। অশ্বিনের বলে রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে বোল্ড হয়ে যান আলেক্স কেয়ারি। ইতিহাসের দ্বিতীয় দ্রুততম বোলার হিসেবে চাড় চারশো উইকেট স্পর্শ করে ফেলেন তিনি। সাড়ে চারশো উইকেট নিতে লঙ্কান কিংবদন্তি মুত্তিয়া মুরালিধরনের খেলেছিল ৮০ ইনিংস। ৯ ইনিংস বেশি লাগল অশ্বিনের।

একের পর এক উইকেট হারাতে থাকা অস্ট্রেলিয়াকে হাসি উপহার দিতে পারেননি অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। তিনিও শিকার অশ্বিনের। এক প্রান্ত আগলে রেখে টেল এন্ডারদের নিয়ে রান বাড়ানোর চেষ্টাই ছিলেন পিটার হ্যান্ডসকব। টস মারফিকে ফেরানোর পর হ্যান্ডসকবকেও আউট করে পাঁচ শিকার ধরে ফেলেন জাদেজা। টেস্টে এটি তার ১১তম পাঁচ উইকেট। খানিক পর  স্কট বোল্যান্ডকে বোল্ড করে ইনিংস মুড়ে দেন অশ্বিন।

প্রতিপক্ষকে অল্প রানে আটকে খেলতে নেমে ঝড়ো শুরু করেন রোহিত। উইকেটে স্পিনারদের অনেক রসদ মাথায় রেখে দ্রুত রান আনায় মন দেন তিনি। লোকেশ রাহুল ছিলেন কিছুটা আড়ষ্ট। তবে রোহিতের ব্যাটেই সচল থাকে রানের চাকা।

ন্যাথান লায়নকে সুইপে বাউন্ডারিতে পাঠিয়ে ৬৬ বলে ফিফটি তুলে নেন ভারত অধিনায়ক। উদযাপন সারেন ড্রাইভ করে আরেক চারে। পরের ওভারেই প্রথম ধাক্কা খায় স্বাগতিকরা। অভিষিক্ত টড মারফির বলে তার হাতেই সহজ ক্যাচ তুলে বিদায় নেন নড়বড়ে রাহুল। বাকিটা সময় নাইটওয়াচম্যান অশ্বিনকে নিয়ে পার করেন রোহিত। ৯ উইকেটে হাতে নিয়ে ১০০ রান পেছনে থাকায় শক্ত অবস্থানে থেকে দ্বিতীয় দিন শুরু করবে ভারত।