দুর্দান্ত রান তাড়ায় অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে সমতায় ফিরল ভারত
শন অ্যাবটের অফ স্টাম্পের বাইরের ফুল লেংথের বলে কভার ড্রাইভ করে চার মারলেন জিতেশ শর্মা। অন্যপ্রান্তে থাকা ওয়াশিংটন সুন্দর তাই তাণ্ডব চালালেও পেলেন না ফিফটির স্বাদ। কোনো পঞ্চাশ ছোঁয়া ইনিংস ছাড়াই অস্ট্রেলিয়ার দেওয়া বড় লক্ষ্য তাড়া করে দুর্দান্ত জয়ে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে সমতা টানল ভারত।
রোববার হোবার্টে তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে ৫ উইকেটে জিতেছে সফরকারীরা। টস হেরে আগে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৮৬ রান তোলে স্বাগতিকরা। জবাবে ব্যাটারদের সম্মিলিত অবদানে ৯ বল হাতে রেখেই লক্ষ্যে পৌঁছায় সূর্যকুমার যাদবের দল।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে কোনো পঞ্চাশ ছোঁয়া ইনিংস ছাড়াই সর্বোচ্চ লক্ষ্য তাড়া করে জেতার রেকর্ড ইংল্যান্ডের দখলে। ব্রিস্টলে গত জুনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১৯৭ রানের লক্ষ্য তাড়ায় সফল হয়েছিল দলটি। অজিদের বিপক্ষে ১৮৭ রানের লক্ষ্য ছুঁয়ে ইংলিশদের ঠিক পেছনেই এখন ভারতের অবস্থান।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এই সংস্করণে পরে ব্যাট করে ভারতের এটি তৃতীয় সর্বোচ্চ জয়। এর আগে ২০১৬ সালে ১৯৮ ও ২০২০ সালে ১৯৫ রানের লক্ষ্য তাড়ায় শেষ হাসি হেসেছিল তারা। দুটি ম্যাচই হয়েছিল সিডনিতে।
ভারতের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪৯ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন সুন্দর। ২৩ বল মোকাবিলায় তার ব্যাট থেকে আসে তিনটি চার ও চারটি ছক্কা। জিতেশ অপরাজিত থাকেন ১৩ বলে ২২ রানে। ২৫ বলে ৪৩ রানের অবিচ্ছিন্ন ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে তারা দুজন শেষ করে দেন খেলা।
রান তাড়ায় ভারতীয়দের সুর বেঁধে দেন ওপেনার অভিষেক শর্মা। চতুর্থ ওভারে সাজঘরে ফেরার আগে তিনি দুটি করে ছক্কা ও চারে করেন ১৬ বলে ২৫ রান। অভিষেকের পর পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে আরেক ওপেনার শুবমান গিলকেও (১২ বলে ১৫ রান) ফেরান ন্যাথান এলিস।
এরপর কার্যকর ইনিংস খেলেন সূর্যকুমার (১১ বলে ২৪ রান), তিলক বর্মা (২৬ বলে ২৯ রান) ও অক্ষর প্যাটেল (১২ বলে ১৭ রান)। অন্যদিকে, বড় কোনো জুটি গড়তে না দিলেও রানের চাকায় লাগাম দিতে পারেননি অস্ট্রেলিয়ার বোলাররা। ফলে ব্যাটিংয়ে কখনোই চাপের মুখে পড়েনি ভারত।
এর আগে ইনিংসের প্রথমভাগে অস্ট্রেলিয়াকে টানেন টিম ডেভিড। তিনি ৩৮ বলে আটটি চার ও পাঁচটি ছক্কায় খেলেন ৭৪ রানের বিস্ফোরক ইনিংস। পরের অংশে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং উপহার দেন দুজন। মার্কাস স্টয়নিস ৩৯ বলে আটটি চার ও দুটি ছক্কায় ৬৪ রান করেন। ম্যাথু শর্ট অপরাজিত থাকেন দুটি চার ও একটি ছয়ে ১৫ বলে ২৬ রানে।
স্বাগতিকদের দুইশর কাছাকাছি রানের পুঁজি অবশ্য যথেষ্ট হয়নি শেষ পর্যন্ত। ভারতের হয়ে বাঁহাতি পেসার অর্শদীপ সিং ৩৫ রানে নেন ৩ উইকেট। দুটি শিকার ধরতে রহস্য স্পিনার বরুণ চক্রবর্তীর খরচা ৩৩ রান।