এসসিজিতে খাওয়াজার আবেগঘন বিদায়

By স্পোর্টস ডেস্ক

গৌরবময় টেস্ট ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়টা আবেগে ভাসিয়েই কাটালেন উসমান খাওয়াজা। বৃহস্পতিবার সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে (এসসিজি) নিজের ৮৮তম ও শেষ টেস্ট খেলতে নেমে আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হিমশিম খেতে হয়েছে বলে স্বীকার করেছেন অস্ট্রেলিয়ার এই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান।

শেষবার ব্যাট করতে নামার সময় ইংল্যান্ড দলের খেলোয়াড়রা তাকে গার্ড অব অনার দেন। সফরকারী অধিনায়ক বেন স্টোকস নিজে এগিয়ে এসে হাত মেলান খাওয়াজার সঙ্গে, বিদায়ের মুহূর্তটাকে করে তোলেন আরও স্মরণীয়। যদিও ব্যক্তিগতভাবে শেষটা রাঙাতে পারেননি তিনি। পঞ্চম অ্যাশেজ টেস্টে আউট হন মাত্র ৬ রানে। তবে দলীয় সাফল্যেই তৃপ্তি খুঁজে নেন খাজা।

ম্যাচ শেষে ফক্স স্পোর্টসকে খাওয়াজা বলেন, 'এটা আমার কাছে অনেক কিছু। আমি আসলে শুধু একটা জয়েরই আশা করেছিলাম।' অস্ট্রেলিয়া পাঁচ উইকেটে জিতে সিরিজ ৪–১ ব্যবধানে নিজেদের করে নেওয়ার পর তিনি যোগ করেন, 'শেষ ম্যাচে জয়ের স্বাদ পাওয়া আর সতীর্থদের সঙ্গে উদযাপন করতে পারাটা দারুণ। এর জন্য আমি কৃতজ্ঞ।'

আবেগের কথা গোপন করেননি ৩৯ বছর বয়সী এই ব্যাটার, 'খুব কঠিন ছিল। আমি স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করছিলাম, কিন্তু পুরো টেস্টজুড়েই আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। মনোযোগ ধরে রাখতেও সমস্যা হচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত আমরা জিতেছি, এই অনুভূতিটা আমি আজীবন মনে রাখব। এখন আমি শান্তিতে থাকতে পারি।'

যেখানে শুরু, সেখানেই শেষ, খাওয়াজার ক্যারিয়ারের পরিসমাপ্তি যেন গল্পের মতোই। ২০১১ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষেই এসসিজিতে টেস্ট অভিষেক হয়েছিল তার, আর ১৫ বছর পর সেই একই মাঠে, সেই একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে শেষ টেস্ট খেলেই বিদায় নিলেন তিনি।

ইসলামাবাদ থেকে শৈশবে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমানো খাওয়াজা নানা বাধা পেরিয়ে গড়েছেন অনন্য এক পথচলা। তিনি অস্ট্রেলিয়ার প্রথম পাকিস্তানে জন্ম নেওয়া এবং প্রথম মুসলিম জাতীয় দলের ক্রিকেটার। এক সময় অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া ক্রিকেটে তিনিই ছিলেন একমাত্র এশীয় বংশোদ্ভূত ফার্স্ট-ক্লাস খেলোয়াড়। অনেকের কাছে তিনি অনুপ্রেরণা, যিনি অন্যদের জন্য দরজা খুলে দিয়েছেন।

যোগ্যতাসম্পন্ন পাইলট খাওয়াজা টেস্ট ক্যারিয়ারে ১৬টি সেঞ্চুরিসহ ৬ হাজারের বেশি রান করেছেন, গড় ৪৩-এর ওপরে। পাশাপাশি খেলেছেন ৪০টি ওয়ানডে ও ৯টি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ।

ব্যক্তিগত জীবনের কথাও উঠে আসে তার কণ্ঠে, 'অনেকে পরিবার হারিয়েছেন, আমি ভাগ্যবান আমার বাবা-মা এখনও আছেন। আমার পরিবার, স্ত্রী, সন্তানরা আছে, আরেকটি সন্তান আসছে। আমি ক্রিকেটকে ভালোবাসি, তবে ক্রিকেটের বাইরের জীবনটাই আমার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।'

শেষ ম্যাচের চাপের কথাও স্মরণ করেন তিনি, 'কয়েকটা ঝুঁকিপূর্ণ মুহূর্ত ছিল, চাপও ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমরা কাজটা করে ফেলেছি।'