'টি-টোয়েন্টিতে আফগানদের সাফল্যের পেছনে ব্যক্তিগত পরিশ্রম'

সামসুল আরেফীন খান
সামসুল আরেফীন খান

আফগানিস্তানের আগ্রাসী ওপেনার রহমানউল্লাহ গুরবাজের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কটা বেশ বিশেষ। ২০১৯ সালে এখানেই তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট দুটিরই অভিষেক করেন। এরপর আগ্রাসী ব্যাটিং ও ক্ষিপ্র উইকেটকিপিং দক্ষতায় দ্রুত নিজের নাম ছড়িয়ে দেন বিশ্বজুড়ে, হয়ে ওঠেন আফগানিস্তানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার। বর্তমানে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) ঢাকা ক্যাপিটালসের হয়ে খেলছেন গুরবাজ। বাংলাদেশে তার অভিজ্ঞতা, একই টুর্নামেন্টে চট্টগ্রাম রয়্যালসের হয়ে খেলা ভাই মাসুদ গুরবাজ এবং আসন্ন আইসিসি টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আফগানিস্তানের লক্ষ্য, এসব নিয়ে দ্য ডেইলি স্টারের সামসুল আরেফিন খানের সঙ্গে কথা বলেছেন ২৪ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার। সাক্ষাৎকারের অংশবিশেষ তুলে ধরা হলো—

দ্য ডেইলি স্টার: বিপিএলে আপনার অভিজ্ঞতা কেমন?

রহমানউল্লাহ গুরবাজ: বিপিএলই ছিল আমার প্রথম ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ। এখান থেকেই আমি পরে অন্য লিগগুলোতে খেলার সুযোগ পাই। আমার অভিজ্ঞতা খুবই ভালো। এখানকার মানুষজন দারুণ, সমর্থকেরা অসাধারণ, বাংলাদেশের ভেতরে ও বাইরে, সর্বত্রই তারা আমাদের সমর্থন করে। বাংলাদেশে খেলতে আমি সত্যিই খুব ভালোবাসি।

ডেইলি স্টার: বাংলাদেশে খেলতে গিয়ে আপনি নিজেকে কীভাবে প্রস্তুত করেন, যেখানে উইকেট অনেক সময়ই চ্যালেঞ্জিং হয়?

গুরবাজ: আমার কাছে ক্রিকেট মানেই ক্রিকেট। আইপিএল হোক, বিপিএল হোক কিংবা অন্য কোথাও এতে কোনো পার্থক্য নেই। আমি শুধু খেলাটাকে সম্মান করি এবং ভালোবাসা নিয়ে খেলি। এখানে আমি খুব সুখে আছি, অনেক বন্ধু বানিয়েছি, অনেক ভালোবাসা পেয়েছি, যা প্রত্যেক খেলোয়াড়ই চায়। আমি চেষ্টা করি এর প্রতিদান দেওয়ার, আর আমার মনে হয় এটাই জীবনযাপনের সেরা উপায়।

ডেইলি স্টার: এখন আফগান ক্রিকেটাররা বিশ্বজুড়ে নানা ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলছেন। এই সাফল্যের মূল রহস্য কী?

গুরবাজ: আমি বলব, ব্যক্তিগত কঠোর পরিশ্রম। সবাই খুব পরিশ্রম করে বলেই আফগান খেলোয়াড়দের বিশ্বজুড়ে লিগগুলোতে সফল হতে দেখা যায়। আফগানিস্তানে প্রাকৃতিক প্রতিভার কোনো অভাব নেই। আমাদের হয়তো অন্য কিছু দেশের মতো অত সুযোগ-সুবিধা নেই, কিন্তু যা আছে, তাতেই আমরা অন্যতম শক্তিশালী দল। বর্তমান সময়ে আমাদের ক্রিকেট বোর্ড নিয়েও আমি খুব খুশি। তারা সুযোগ-সুবিধা উন্নত করতে কঠোর পরিশ্রম করছে, আর আমরা সেটার জন্য সত্যিই কৃতজ্ঞ।

ডেইলি স্টার: ২০১৮ সালের পর আফগানিস্তান নিজেদের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ আবার চালু করতে যাচ্ছে। এ নিয়ে আপনার ভাবনা কী?

গুরবাজ: আফগান প্রিমিয়ার লিগ (এপিএল) আফগান খেলোয়াড়দের জন্য দারুণ একটি সুযোগ হবে। এতে তরুণ খেলোয়াড়রা আয় করতে পারবে এবং নিজেদের পরিবারকে সহায়তা করতে পারবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এটি আমাদের নতুন প্রতিভা খুঁজে বের করতে সাহায্য করবে।

ডেইলি স্টার: একজন সফল ওপেনার হওয়ার মূল চাবিকাঠি কী?

গুরবাজ: আবারও বলব ব্যক্তিগত কঠোর পরিশ্রম। আমি খেলাটাকে ভালোবাসি, অনুশীলন ভালোবাসি এবং কঠোর পরিশ্রম করতে ভালোবাসি। আমার একটি সহজ বিশ্বাস আছে, আজ না হলে কাল, কাল না হলে একদিন অবশ্যই ফল পাওয়া যাবে। আজ আপনি যা দেখছেন, সেটা ছয়, সাত বা এমনকি দশ বছরের পরিশ্রমের ফল। আমি যা অর্জন করেছি, তার জন্য কৃতজ্ঞ—আমার দেশ, আমার পরিবার এবং সবকিছুর জন্য। আমি আমার স্বপ্নগুলো পূরণ করতে পেরেছি, আর সেটা সত্যিই খুব বিশেষ।

ডেইলি স্টার: এই বিপিএলে আপনার ভাই মাসুদ গুরবাজের বিপক্ষে মাঠে নামার অপেক্ষায় আছেন কি?

গুরবাজ: সে খুবই প্রতিভাবান তরুণ খেলোয়াড়, আর তার উন্নতির জন্য এখনো অনেক সময় আছে। বিশ্বকে নিজের প্রতিভা দেখানোর জন্য এটা তার জন্য দারুণ একটি সুযোগ। ক্রিকেটে সে আমার পথ অনুসরণ করে, তবে আমি সব সময় তাকে বলি আমাকে নকল করতে নয়, বরং শৃঙ্খলা ও পরিশ্রমের মানসিকতা থেকে শেখার জন্য।

ডেইলি স্টার: আপনার মতো সেও ক্যারিয়ারের শুরুতেই বিপিএলে অভিষেক করেছে। এতে কি বিষয়টা আরও বিশেষ হয়ে উঠেছে?

গুরবাজ: ঠিক এ কারণেই আমি তার জন্য খুব খুশি। আমি আশা করি, বিপিএল তার জন্যও সৌভাগ্য বয়ে আনবে। তার অন্য লিগগুলোতে খেলার যোগ্যতা আছে। আমার স্বপ্ন হলো একদিন একই দলে তার সঙ্গে খেলব, আর স্কোরকার্ডে পাশাপাশি লেখা থাকবে 'গুরবাজ, গুরবাজ'।

ডেইলি স্টার: দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউজিল্যান্ডের মতো দলের সঙ্গে কঠিন গ্রুপে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলতে হবে আফগানিস্তানকে। এ নিয়ে আপনার ভাবনা কী?

গুরবাজ: আমরা এর আগেও তাদের বিপক্ষে খেলেছি এবং হারিয়েছিও। আমাদের জন্য বিষয়টা খুবই সহজ, প্রতিপক্ষ কে, সেটা আমরা দেখি না; কানাডা হোক, দক্ষিণ আফ্রিকা হোক বা নিউজিল্যান্ড সবার জন্যই ব্যাট-বল এক। আমরা সব দলকে সম্মান করি, তবে ম্যাচের দিনে যে দল ভালো ক্রিকেট খেলবে, তারাই জিতবে। আমরা আর ছোট দল নই।

ডেইলি স্টার: আপনাকে সারাবছরই বিশ্বজুড়ে ভ্রমণ করতে হয় এবং খেলতে হয়। ফিটনেস কীভাবে ধরে রাখেন?

গুরবাজ: ব্যস্ত সূচিতে খেললে নিজের শরীরকে বুঝতে হয় কখন বিশ্রাম দরকার, কীভাবে দ্রুত পুনরুদ্ধার করা যায়। আমি জিম করি, সঠিক খাবার খাই এবং পর্যাপ্ত ঘুমাই। পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাই এবং নিজেকে সব সময় অনুপ্রাণিত রাখি। এত ভ্রমণ ও খেলার মাঝে মানসিক শক্তিই সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি।